গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় সাংবাদিক, মালিক ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৭:৩০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল এবং অর্থনৈতিকভাবে টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাংবাদিক, গণমাধ্যমের মালিক ও সরকার যৌথভাবে কাজ করছে। তাঁর দাবি, গণমাধ্যমও স্বীকার করছে যে তাদের ওপর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই; বরং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল (টিইসি) আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি গণমাধ্যম পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে গণমাধ্যমের মালিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ন্যায্য মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও গণমাধ্যম একে অপরের পরিপূরক। একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম যেমন টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অপরিহার্য, তেমনি শক্তিশালী গণতন্ত্রও স্বাধীন গণমাধ্যমের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এ কারণে গণমাধ্যমকে কেবল একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে না দেখে রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের একটি অঘোষিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ চতুর্থ স্তম্ভ। তাই সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে একই সঙ্গে গণমাধ্যমশিল্পের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করাও জরুরি। তাঁর মতে, মালিকপক্ষ যদি ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ ও যুক্তিসঙ্গত মুনাফা না পায়, তাহলে এই শিল্প দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না।
তিনি আরও বলেন, শক্তিশালী বেসরকারি উৎপাদন অর্থনীতি ছাড়া বিজ্ঞাপনের বাজার সম্প্রসারিত হবে না। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারে বর্তমান মিডিয়া ইকোসিস্টেম আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতায় ভবিষ্যতমুখী নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সুশাসন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা না থাকলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে ব্যবসায়িক স্বার্থ বা দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা তৈরি হতে পারে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য ক্ষতিকর।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান সংস্কারের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা গণমাধ্যম খাতেও কাজে লাগাতে হবে। এ জন্য সাংবাদিক, মালিক ও সরকারের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আব্দুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এবং ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন টিইসির সদস্যসচিব ও সময় টেলিভিশনের সিইও জুবায়ের বাবু এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল।

















