ভারত থেকে পাইপলাইনে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব বাংলাদেশের
- আপডেট সময় : ০৭:৫৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ-এর সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী
বাংলাদেশে জ্বালানি নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি জ্বালানি সহযোগিতা এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বিষয়টি দুই দেশের চলমান জ্বালানি সহযোগিতার অংশ এবং বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধ তারা পেয়েছে। তবে ভারতের নিজস্ব জ্বালানি চাহিদা, পরিশোধন সক্ষমতা ও মজুত পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সম্প্রতি একই ধরনের অবস্থানের কথা জানিয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ উদ্বোধন করা হয়।
বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টন হাই-স্পিড ডিজেল (এইচএসডি) পরিবহনের সক্ষমতা থাকলেও প্রকৃত সরবরাহ দুই দেশের বাণিজ্যিক চুক্তি ও চাহিদার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করেছে। ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে ভারত থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট প্রায় ৫৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে মার্চে ২২ হাজার টন এবং এপ্রিলে বিভিন্ন ধাপে আরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল আসে।
এই আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইনের ভিত্তি তৈরি হয় ২০১৭ সালে, যখন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল)-এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৮ সালে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর নির্মাণকাজ শেষ করে ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভার্চুয়ালি পাইপলাইনটির উদ্বোধন করেন। প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের ভারতীয় অংশ আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি হয়ে বাংলাদেশের দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রথম আন্তঃসীমান্ত জ্বালানি পাইপলাইন।
প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৩৭৭ কোটি ভারতীয় রুপি ব্যয় হয়েছে, যার একটি বড় অংশ ভারত অনুদান হিসেবে বহন করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির ফলে পরিবহন ব্যয় কমেছে, রেলওয়ে ট্যাংকারের ওপর নির্ভরতা হ্রাস পেয়েছে এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের সাতটি জেলায় দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি, শিল্প ও জরুরি পরিস্থিতিতে জ্বালানির মজুত বজায় রাখতেও এই পাইপলাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এদিকে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান বলেন, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক অডিও বা অনলাইন বক্তব্য নিয়ে নতুন করে মন্তব্য করার কিছু নেই। তাঁর ভাষায়, তিনি দেশটাকে ধ্বংস করে গেছেন। তবে বৈঠকের মূল গুরুত্ব ছিল দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতা ও ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত রাখার বিষয়টি।

















