ঢাকা ০১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব: বাহরাইনে পঞ্চম মার্কিন নৌবহর ও জর্ডানে বিমানঘাঁটিতে হামলা দাবি ইরানের   চা-বাগানের সবুজে চা-বাগানের সবুজে ধরা দিল দুর্লভ চিতাবিড়াল ঢলনের চাপে আমচাষি, কেজিভিত্তিক বেচাকেনার সিদ্ধান্তেও মিলছে না সুফল বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ: শিগগিরই জারি হচ্ছে নবম পে-স্কেলের গেজেট পুশইন বিতর্ক, কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ প্রথম বাজেটেই জনগণের আস্থা জয়ের বার্তা নতুন সরকারের ১০০ কোটির প্রথম নায়িকা, বিয়ের পরই রুপালি পর্দা থেকে বিদায়, এখন কোথায় আসিন? টসে হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, ১৫ বছর পর দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু ইসরায়েলকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প: ইরানে হামলা হলে পাশে থাকবে না ওয়াশিংটন ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৫, বাস্তুচ্যুত প্রায় ১০ হাজার পরিবার

চা-বাগানের সবুজে চা-বাগানের সবুজে ধরা দিল দুর্লভ চিতাবিড়াল

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৪২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরির এক সকালে, ১৪ মে, বিরল এক বন্য প্রাণীর সন্ধানে বেরিয়েছিলাম ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার কাজল হাজরার সঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বনাঞ্চল ও চা-বাগানে ঘুরে দুর্লভ প্রাণীর ছবি সংগ্রহই তাঁর নেশা। আমাদের গন্তব্য ছিল মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। তবে তার আগে শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা-বাগানে একটু থামার সিদ্ধান্ত নিই।

চা-বাগানের সরু পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে চারপাশের প্রকৃতি উপভোগ করছিলাম। হঠাৎ পাশের ঝোপে খসখস শব্দ। মুহূর্তের জন্য একটি প্রাণী চোখে পড়তেই কাজল হাজরা ফিসফিস করে বললেন, “ওটা চিতাবিড়াল!” কিন্তু চোখের পলকে প্রাণীটি ঘন ঝোপের আড়ালে হারিয়ে গেল।

প্রথম সুযোগ হাতছাড়া হলেও হাল ছাড়েননি তিনি। শুরু হলো দীর্ঘ অপেক্ষা। অবশেষে ধৈর্যের পুরস্কার মিলল। কিছুক্ষণ পর আবার দেখা দিল সেই রহস্যময় প্রাণী। এবার আর দেরি নয়, ক্যামেরার শাটার একের পর এক চাপতে থাকলেন কাজল হাজরা। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চিতাবিড়ালটি আবার অদৃশ্য হয়ে গেল। তবে ক্যামেরার ডিসপ্লেতে তখন ধরা পড়েছে দেশের অন্যতম দুর্লভ বন্য প্রাণীটির অসাধারণ কিছু ছবি।

কাজল হাজরা জানান, প্রায় চার বছর আগে লাউয়াছড়া বনে একবার চিতাবিড়ালের ছবি তুলেছিলেন। তাঁর ভাষায়, আগে চা-বাগান ও বনাঞ্চলে এদের দেখা মিলত তুলনামূলক বেশি। এখন সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তাই এমন বিরল প্রাণী ক্যামেরাবন্দী করতে পারলে সত্যিই আনন্দ লাগে।

বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব বলেন, চিতাবিড়াল দেশের একটি দুর্লভ বন্য প্রাণী। এর ইংরেজি নাম ইংরেজি নাম লেপার্ড ক্যাট (Leopard Cat) এবং বৈজ্ঞানিক নাম প্রাইওনেইলারাস বেঙ্গালেনসিস (Prionailurus bengalensis)। আকারে এটি গৃহপালিত বিড়ালের মতো হলেও শরীরজুড়ে কালো ফোঁটা ও দাগের কারণে দেখতে অনেকটা ক্ষুদ্রাকৃতির চিতাবাঘের মতো।

প্রাপ্তবয়স্ক চিতাবিড়ালের দেহের দৈর্ঘ্য সাধারণত ৩৯ থেকে ৬৬ সেন্টিমিটার এবং লেজের দৈর্ঘ্য ১৭ থেকে ৩১ সেন্টিমিটার। ওজন তিন থেকে চার কেজির মধ্যে। হালকা হলুদাভ শরীর, সাদাটে তলদেশ এবং দীর্ঘ পা এদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

মূলত নিশাচর এই প্রাণী ভোর ও সন্ধ্যাতেও সক্রিয় থাকে। একাকী জীবনযাপনে অভ্যস্ত চিতাবিড়াল গাছে চড়া ও সাঁতার কাটায় বেশ দক্ষ। বড় কীটপতঙ্গ, পাখি ও ছোট মেরুদণ্ডী প্রাণী এদের প্রধান খাদ্য। বনাঞ্চল, ঝোপঝাড়, তৃণভূমি এবং গাছপালায় ঘেরা নিরিবিলি এলাকাই এদের পছন্দের আবাসস্থল।

তবে বনভূমি ধ্বংস, আবাসস্থল সংকোচন এবং মানুষের সঙ্গে সংঘাত বৃদ্ধির কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে এদের সংখ্যা। ফলে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অনেক সময় লোকালয়ে চলে আসে চিতাবিড়াল, যেখানে দুর্ঘটনা ও নানা ঝুঁকিতে প্রাণ হারানোর ঘটনাও ঘটছে।

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এই মনোমুগ্ধকর প্রাণীকে টিকিয়ে রাখতে বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চা-বাগানের সবুজে চা-বাগানের সবুজে ধরা দিল দুর্লভ চিতাবিড়াল

আপডেট সময় : ০৯:৪২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরির এক সকালে, ১৪ মে, বিরল এক বন্য প্রাণীর সন্ধানে বেরিয়েছিলাম ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার কাজল হাজরার সঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বনাঞ্চল ও চা-বাগানে ঘুরে দুর্লভ প্রাণীর ছবি সংগ্রহই তাঁর নেশা। আমাদের গন্তব্য ছিল মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। তবে তার আগে শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা-বাগানে একটু থামার সিদ্ধান্ত নিই।

চা-বাগানের সরু পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে চারপাশের প্রকৃতি উপভোগ করছিলাম। হঠাৎ পাশের ঝোপে খসখস শব্দ। মুহূর্তের জন্য একটি প্রাণী চোখে পড়তেই কাজল হাজরা ফিসফিস করে বললেন, “ওটা চিতাবিড়াল!” কিন্তু চোখের পলকে প্রাণীটি ঘন ঝোপের আড়ালে হারিয়ে গেল।

প্রথম সুযোগ হাতছাড়া হলেও হাল ছাড়েননি তিনি। শুরু হলো দীর্ঘ অপেক্ষা। অবশেষে ধৈর্যের পুরস্কার মিলল। কিছুক্ষণ পর আবার দেখা দিল সেই রহস্যময় প্রাণী। এবার আর দেরি নয়, ক্যামেরার শাটার একের পর এক চাপতে থাকলেন কাজল হাজরা। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চিতাবিড়ালটি আবার অদৃশ্য হয়ে গেল। তবে ক্যামেরার ডিসপ্লেতে তখন ধরা পড়েছে দেশের অন্যতম দুর্লভ বন্য প্রাণীটির অসাধারণ কিছু ছবি।

কাজল হাজরা জানান, প্রায় চার বছর আগে লাউয়াছড়া বনে একবার চিতাবিড়ালের ছবি তুলেছিলেন। তাঁর ভাষায়, আগে চা-বাগান ও বনাঞ্চলে এদের দেখা মিলত তুলনামূলক বেশি। এখন সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তাই এমন বিরল প্রাণী ক্যামেরাবন্দী করতে পারলে সত্যিই আনন্দ লাগে।

বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব বলেন, চিতাবিড়াল দেশের একটি দুর্লভ বন্য প্রাণী। এর ইংরেজি নাম ইংরেজি নাম লেপার্ড ক্যাট (Leopard Cat) এবং বৈজ্ঞানিক নাম প্রাইওনেইলারাস বেঙ্গালেনসিস (Prionailurus bengalensis)। আকারে এটি গৃহপালিত বিড়ালের মতো হলেও শরীরজুড়ে কালো ফোঁটা ও দাগের কারণে দেখতে অনেকটা ক্ষুদ্রাকৃতির চিতাবাঘের মতো।

প্রাপ্তবয়স্ক চিতাবিড়ালের দেহের দৈর্ঘ্য সাধারণত ৩৯ থেকে ৬৬ সেন্টিমিটার এবং লেজের দৈর্ঘ্য ১৭ থেকে ৩১ সেন্টিমিটার। ওজন তিন থেকে চার কেজির মধ্যে। হালকা হলুদাভ শরীর, সাদাটে তলদেশ এবং দীর্ঘ পা এদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

মূলত নিশাচর এই প্রাণী ভোর ও সন্ধ্যাতেও সক্রিয় থাকে। একাকী জীবনযাপনে অভ্যস্ত চিতাবিড়াল গাছে চড়া ও সাঁতার কাটায় বেশ দক্ষ। বড় কীটপতঙ্গ, পাখি ও ছোট মেরুদণ্ডী প্রাণী এদের প্রধান খাদ্য। বনাঞ্চল, ঝোপঝাড়, তৃণভূমি এবং গাছপালায় ঘেরা নিরিবিলি এলাকাই এদের পছন্দের আবাসস্থল।

তবে বনভূমি ধ্বংস, আবাসস্থল সংকোচন এবং মানুষের সঙ্গে সংঘাত বৃদ্ধির কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে এদের সংখ্যা। ফলে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অনেক সময় লোকালয়ে চলে আসে চিতাবিড়াল, যেখানে দুর্ঘটনা ও নানা ঝুঁকিতে প্রাণ হারানোর ঘটনাও ঘটছে।

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এই মনোমুগ্ধকর প্রাণীকে টিকিয়ে রাখতে বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।