বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ: শিগগিরই জারি হচ্ছে নবম পে-স্কেলের গেজেট
- আপডেট সময় : ০৬:৪১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন বাজেটে এর জন্য বিশেষ বরাদ্দ রেখে ১১ বছরের পর শিগগিরই নবম পে-স্কেলের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে। অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের চূড়ান্ত খসড়া ও প্রস্তুতির কাজ জোরেশোরে সম্পন্ন করছে। প্রস্তাবিত বেতন ও গ্রেড কাঠামোবেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের অষ্টম পে-স্কেলের তুলনায় মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন গ্রেড ২০ অনুযায়ী ২০,০০০ টাকা।
সর্বোচ্চ মূল বেতন গ্রেড ১ অনুযায়ী ১,৬০,০০০ টাকা। এছাড়াও ২০টি গ্রেড কমিয়ে ১২টি গ্রেডে নামিয়ে আনার একটি প্রস্তাবনাও গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্যান্য সুবিধা ও ভাতাবেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোরও সুপারিশ রয়েছে। ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,০০০ টাকা করার প্রস্তাব। বাজারমূল্যের সাথে সংগতি রেখে রেশনের সুবিধা, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল এবং সব কর্মচারীর জন্য সরকারি খরচে উন্নত স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা থাকছে।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষার পর আগামী ১ জুলাই থেকে নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকরের লক্ষ্যে দ্রুত প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে জুন মাসের মধ্যেই গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ রাখার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ বাস্তবায়নে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি অর্থ প্রয়োজন হওয়ায় সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের নীতি গ্রহণ করেছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল থাকবে। তবে বেতনের ক্ষেত্রে আসছে বড় পরিবর্তন। সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে নিম্ন ও উচ্চ উভয় স্তরের কর্মচারীরাই উল্লেখযোগ্য বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন।
শুধু চাকরিজীবীরাই নন, নতুন পে-স্কেলের আওতায় প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীকেও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে যাদের পেনশন তুলনামূলক কম, তাদের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
সরকারি সূত্র বলছে, আর্থিক চাপ সামাল দিতে নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। প্রথম ধাপে আগামী ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হবে। পরবর্তী দুই বছরে বাকি অংশ সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে সরকারের এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় সন্তুষ্ট নন অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী। বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের দাবি, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন পে-স্কেল এক ধাপেই কার্যকর করতে হবে।
তাদের মতে, শতভাগ বেতন বৃদ্ধি ছাড়া কর্মজীবী মানুষের প্রকৃত আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। এখন সবার দৃষ্টি সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও গেজেট প্রকাশের দিকে। কারণ নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে দেশের লাখো সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীর জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।



















