পুশইন বিতর্ক, কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৬:৩৪:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক কথিত ‘পুশইন’ বা জোরপূর্বক মানুষ বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, পরিচয় যাচাই ও প্রচলিত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে গ্রহণ করা হবে না। এ বিষয়ে দিল্লিকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছে ঢাকা এবং বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে।
গত মে মাস থেকে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুদের বাংলাদেশে পাঠানোর একাধিক চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ বলে অভিযোগ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিজিবি এসব প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে। কিছু এলাকায় এখনও কয়েকজন সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। এ পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া বিজিবি-বিএসএফের ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে পুশইন ইস্যু গুরুত্ব পাচ্ছে।
বাংলাদেশের উদ্বেগ শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, মানবিক দিক নিয়েও। কারণ সীমান্তে আটকে পড়াদের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ রয়েছেন। দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে শূন্যরেখায় অবস্থান তাদের জন্য মানবিক সংকট তৈরি করছে। পাশাপাশি পরিচয় যাচাই ছাড়া কাউকে দেশে প্রবেশ করতে দিলে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত ঝুঁকিও সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পুশইনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত ৪ জুন মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ১০টি পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে বিজিবি। কোথাও কোথাও সীমান্ত সুরক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবিকে সহায়তা করেছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ১২ থেকে ১৩টি কূটনৈতিক চিঠি দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, অবৈধ নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর জন্য দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান একটি স্বীকৃত প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া ও কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করেই ভারতকে কাজ করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, পুশইনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হলে তা বাংলাদেশের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে না এবং সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে।
অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল দাবি করেছেন, ভারত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও আইন মেনেই অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের কাছে অবৈধ বাংলাদেশিদের তালিকা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ইস্যুর সমাধান কূটনৈতিকভাবেই হওয়া উচিত। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইশফাক ইলাহী চৌধুরীর মতে, পুশইনকে শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তারও অংশ। বৈধ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থাকা সত্ত্বেও সীমান্ত দিয়ে মানুষ ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা আন্তর্জাতিক রীতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য নেতিবাচক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিজিবি সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৩ থেকে ৬ জুনের মধ্যে ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, লালমনিরহাট ও পঞ্চগড় সীমান্তে অন্তত ২৩টি পুশইনের চেষ্টা হয়েছে। এসব ঘটনায় দুই শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলেও বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তা ব্যর্থ হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।



















