নতুন টোল বসানোর পরিকল্পনা: হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে যাচ্ছে ইরান-ওমান
- আপডেট সময় : ১১:১১:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি। তিনি জানিয়েছেন, প্রণালিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ট্রানজিট ফিসহ বিভিন্ন শর্ত ইরান ও ওমান যৌথভাবে নির্ধারণ করবে। তার ভাষায়, এসব ফি মূলত জাহাজ চলাচলের জন্য দেওয়া সেবার বিনিময়ে নেওয়া হবে।
রুশ সংবাদমাধ্যম ইজভেস্তিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জালালি বলেন, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে ইরান ও ওমান একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেবে।
বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর এ পথে জাহাজ চলাচল ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক এই নৌপথে টোল বা ফি আরোপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশগুলো এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো আপত্তি জানিয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েলি বিমান হামলাসহ সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অন্যদিকে ইরানের বার্তাসংস্থা তাসনিমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাজেম জালালি বলেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আলোচনায় ইউরোপের কোনো ভূমিকা নেই। মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে যে আলোচনা চলছে, সেখানে ইউরোপ অংশীদার নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূত তালাল বিন সুলাইমান আল-রাহবি সম্প্রতি ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ওমান হরমুজ প্রণালিতে টোল ব্যবস্থা চালুর পক্ষে নয় এবং নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার নীতিকে সমর্থন করে। ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।
ওমানের অবস্থান হলো, তারা ইরানের সঙ্গে কেবল এমন একটি ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা কাঠামো নিয়ে আলোচনা করছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-এর সঙ্গে পরামর্শ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
দীর্ঘদিনের মার্কিন মিত্র ওমান ঐতিহ্যগতভাবে হরমুজ প্রণালির যৌথ তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করে আসছে এবং একই সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করে।
ওমান ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করার প্রবণতার সমালোচনা করেছে। পাশাপাশি বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের হামলারও নিন্দা জানিয়েছে দেশটি।
সূত্র : গালফ নিউজ।



















