ঢাকা ০৬:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

এক বছরে স্বর্ণে জাকাত বেড়েছে ২০ হাজার ৮১৩ টাকা

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৩০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৪১ বার পড়া হয়েছে

এক বছরে স্বর্ণে জাকাত বেড়েছে ২০ হাজার ৮১৩ টাকা

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের স্বর্ণবাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে জাকাতদাতাদের হিসাব-নিকাশে বড় পরিবর্তন এসেছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম প্রায় ৭৪ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় একই পরিমাণ স্বর্ণের ওপর জাকাতের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী, কারও কাছে সাড়ে সাত ভরি (প্রায় ৮৫–৮৭.৪৮ গ্রাম) বা তার বেশি স্বর্ণ এক বছর পূর্ণ থাকলে তার ওপর জাকাত ফরজ হয়। নিসাব পরিমাণ সম্পদের ওপর জাকাতের হার নির্ধারিত ২.৫ শতাংশ।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দেশে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এক বছর পর, ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সেই দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৬১ হাজার টাকায়। অর্থাৎ ভরিপ্রতি দাম বেড়েছে ১ লাখ ১১ হাজার টাকা।

এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব জাকাতের পরিমাণে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ২০২৫ সালে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের মোট বাজারমূল্য ছিল ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর ওপর ২.৫ শতাংশ হিসেবে জাকাত দিতে হতো ২৮ হাজার ১২৫ টাকা।

কিন্তু ২০২৬ সালে একই পরিমাণ (৭.৫ ভরি) স্বর্ণের বাজারমূল্য বেড়ে হয়েছে ১৯ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে জাকাতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকা।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শুধু স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণে জাকাতের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ২০ হাজার ৮১৩ টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণের বাজারদর অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকলে জাকাতদাতাদের আর্থিক পরিকল্পনাতেও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

রমজান শুরু হতেই দেশের সামর্থ্যবান মুসলিমরা জাকাত পরিশোধের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির কারণে এ বছর হিসাব-নিকাশে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম গত রমজানের পর থেকে প্রতি ট্রয় আউন্স প্রায় ২,৯০০ ডলার থেকে বেড়ে ৫,১০০ ডলারের বেশি পৌঁছেছে। এই উল্লম্ফন দেশের বাজারেও সরাসরি প্রতিফলিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণের এই মূল্যবৃদ্ধিই জাকাতের নিসাব অর্থাৎ জাকাত ফরজ হওয়ার ন্যূনতম সম্পদের সীমা এবং জাকাতের পরিমাণে বড় প্রভাব ফেলেছে।

গত বছর যিনি ৭.৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কারের জন্য ২৮,১২৫ টাকা জাকাত প্রদান করেছিলেন, তার জন্য এবছর একই পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কারের জন্য জাকাতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮,৯৩৮ টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে জাকাতদাতাকে প্রায় ২০,৮১৩ টাকা বেশি প্রদান করতে হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের বাজারে ভরির মূল্যের ঊর্ধ্বগতি মিলিতভাবে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

বর্তমানে কারও জাকাতযোগ্য সম্পদ যদি ২০ হাজার ডলার হয়, তবে তাকে ৫০০ ডলার জাকাত দিতে হবে। স্বর্ণের ক্ষেত্রে ওজন (গ্রাম বা ট্রয় আউন্স) ও বিশুদ্ধতা (ক্যারেট) জানা জরুরি। এক ট্রয় আউন্স সমান ৩১ দশমিক ১০৩৫ গ্রাম। বাজারদর যদি প্রতি ট্রয় আউন্স ৫ হাজার ১০০ ডলার হয়, তবে প্রতি গ্রাম খাঁটি স্বর্ণের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৬৪ ডলার। সে অনুযায়ী হিসাব করে জাকাত নির্ধারণ করতে হয়।

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ীএকজন মুসলমানের ওপর যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য যে ন্যূনতম পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া প্রয়োজনতাকে নিসাব  বলা হয়।  এই পরিমাণ সম্পদ এক হিজরি বছর ধরে মালিকানায় থাকলে ২.৫% হারে যাকাত দেওয়া ফরজ হয়। নিসাব হলো মূলত সোনা বা রুপার একটি নির্দিষ্ট সীমা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

এক বছরে স্বর্ণে জাকাত বেড়েছে ২০ হাজার ৮১৩ টাকা

আপডেট সময় : ০১:৩০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের স্বর্ণবাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে জাকাতদাতাদের হিসাব-নিকাশে বড় পরিবর্তন এসেছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম প্রায় ৭৪ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় একই পরিমাণ স্বর্ণের ওপর জাকাতের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী, কারও কাছে সাড়ে সাত ভরি (প্রায় ৮৫–৮৭.৪৮ গ্রাম) বা তার বেশি স্বর্ণ এক বছর পূর্ণ থাকলে তার ওপর জাকাত ফরজ হয়। নিসাব পরিমাণ সম্পদের ওপর জাকাতের হার নির্ধারিত ২.৫ শতাংশ।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দেশে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এক বছর পর, ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সেই দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৬১ হাজার টাকায়। অর্থাৎ ভরিপ্রতি দাম বেড়েছে ১ লাখ ১১ হাজার টাকা।

এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব জাকাতের পরিমাণে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ২০২৫ সালে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের মোট বাজারমূল্য ছিল ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর ওপর ২.৫ শতাংশ হিসেবে জাকাত দিতে হতো ২৮ হাজার ১২৫ টাকা।

কিন্তু ২০২৬ সালে একই পরিমাণ (৭.৫ ভরি) স্বর্ণের বাজারমূল্য বেড়ে হয়েছে ১৯ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে জাকাতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকা।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শুধু স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণে জাকাতের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ২০ হাজার ৮১৩ টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণের বাজারদর অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকলে জাকাতদাতাদের আর্থিক পরিকল্পনাতেও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

রমজান শুরু হতেই দেশের সামর্থ্যবান মুসলিমরা জাকাত পরিশোধের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির কারণে এ বছর হিসাব-নিকাশে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম গত রমজানের পর থেকে প্রতি ট্রয় আউন্স প্রায় ২,৯০০ ডলার থেকে বেড়ে ৫,১০০ ডলারের বেশি পৌঁছেছে। এই উল্লম্ফন দেশের বাজারেও সরাসরি প্রতিফলিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণের এই মূল্যবৃদ্ধিই জাকাতের নিসাব অর্থাৎ জাকাত ফরজ হওয়ার ন্যূনতম সম্পদের সীমা এবং জাকাতের পরিমাণে বড় প্রভাব ফেলেছে।

গত বছর যিনি ৭.৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কারের জন্য ২৮,১২৫ টাকা জাকাত প্রদান করেছিলেন, তার জন্য এবছর একই পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কারের জন্য জাকাতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮,৯৩৮ টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে জাকাতদাতাকে প্রায় ২০,৮১৩ টাকা বেশি প্রদান করতে হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের বাজারে ভরির মূল্যের ঊর্ধ্বগতি মিলিতভাবে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

বর্তমানে কারও জাকাতযোগ্য সম্পদ যদি ২০ হাজার ডলার হয়, তবে তাকে ৫০০ ডলার জাকাত দিতে হবে। স্বর্ণের ক্ষেত্রে ওজন (গ্রাম বা ট্রয় আউন্স) ও বিশুদ্ধতা (ক্যারেট) জানা জরুরি। এক ট্রয় আউন্স সমান ৩১ দশমিক ১০৩৫ গ্রাম। বাজারদর যদি প্রতি ট্রয় আউন্স ৫ হাজার ১০০ ডলার হয়, তবে প্রতি গ্রাম খাঁটি স্বর্ণের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৬৪ ডলার। সে অনুযায়ী হিসাব করে জাকাত নির্ধারণ করতে হয়।

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ীএকজন মুসলমানের ওপর যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য যে ন্যূনতম পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া প্রয়োজনতাকে নিসাব  বলা হয়।  এই পরিমাণ সম্পদ এক হিজরি বছর ধরে মালিকানায় থাকলে ২.৫% হারে যাকাত দেওয়া ফরজ হয়। নিসাব হলো মূলত সোনা বা রুপার একটি নির্দিষ্ট সীমা।