ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খোলার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশ রপ্তানির সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অগ্রযাত্রা পলাশীর ইতিহাস বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করার ইতিহাস দুর্যোগকবলিত উপকূল সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক স্থগিত ট্রাম্পের অযৌক্তিক যুদ্ধ ও অবাস্তব প্রত্যাশার ফল  ইরান চুক্তি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে নতুন মোড় দশকের বৈরিতার পর সমঝোতা নতুন অধ্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরীমনির সঙ্গে ‘অনৈতিক সম্পর্ক’ অভিযোগে চাকরি হারালেন অতিরিক্ত এসপি গোলাম সাকলায়েন এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি

এবারে চলে গেলেন সোনালি দিনের সুপারস্টার ওয়াসিম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৭:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১ ৫৮৬ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নায়ক ওয়াসিম ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

মহামারিকালে সাংস্কৃতিক অঙ্গণের বাসিন্দারা এক এক করে চলে যাচ্ছেন। শনিবার অপরাহ্নে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি কবীর শেষকৃত্যানুষ্ঠান শেষ হবার মধ্যরাতে খবর আসলো সোনালী দিনের সুপারস্টার নায়ক ওয়াসিম আর নেই।

পুরাতন ঢাকার স্বামীবাগে শাহাবউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাষ ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনিও করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। পরবর্তীতে পরীক্ষায় তার নেগেটিভ আসে। তিনি কিডনিসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নায়ক জায়েদ খান সংবাদমাধ্যমকে তার মৃত্যুর তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

মোহসিন পরিচালিত ‘রাতের পর দিন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নায়ক হিসেবে রূপালী পর্দায় অভিষেক ওয়াসিমের। ব্যবসাসফল সিনেমাটি তাকে সুপারস্টারে পরিণত করে। এরপর ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া এস এম শফী পরিচালিত ‘দি রেইন’ সিনেমা তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।

১৯৭৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত চলচ্চিত্রে শীর্ষ নায়কদের একজন ছিলেন ওয়াসিম। তিনি ছিলেন ফোক ফ্যান্টাসি আর অ্যাকশন ছবির অপ্রতিদ্বন্দ্বী অভিনেতা। তার অভিনিত ছায়াছবির সংখ্যা ১৫২টি।

উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে দ্য রেইন, ডাকু মনসুর, জিঘাংসা, কে আসল কে নকল, বাহাদুর, দোস্ত দুশমন, মানসী, দুই রাজকুমার, সওদাগর, নরম গরম, ইমান, রাতের পর দিন, আসামি হাজির, মিস লোলিতা, রাজ দুলারী, চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা, লুটেরা, লাল মেম সাহেব, বেদ্বীন, জীবন সাথী, রাজনন্দিনী, রাজমহল, বিনি সুতার মালা, বানজারান।

নায়িকা অলিভিয়া, অঞ্জু ঘোষ ও শাবানার সঙ্গে বেশি সংখ্যক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। দি রেইন সিনেমায় নায়িকা ছিলেন অলিভিয়া। এরপর ওয়াসিম-অলিভিয়ার জুটি বাহাদুর, লুটেরা, লাল মেম সাহেব, বেদ্বীন সিনেমার মতো ব্যবসা সফল সিনেমা উপহার দেন।

রাজ দুলালী ছবিতে শাবানার সঙ্গে অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলে। অঞ্জু ঘোষের সঙ্গে অভিনয় করেছেন, সওদাগর, নরম গরম, আবেহায়াত, চন্দনদ্বীপের রাজকন্যা, পদ্মাবতী, রসের বাইদানীসহ বেশকিছু সিনেমায়।

অভিনেতা ওয়াসিম বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। হাঁটতে পারতেন না বলে বিছানায় শুয়ে-বসে দিন কাটতো তাঁর। জানা যায়, ওয়াসিম দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, ফুসফুস, উচ্চ রক্তচাপ ও চোখের জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন। শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ১১টার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ১২টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

ওয়াসিমের পুরো নাম মেজবাহউদ্দীন আহমেদ। ১৯৪৭ সালের ২৩ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কলেজের ছাত্রাবস্থায় তিনি বডি বিল্ডার হিসেবে নাম করেছিলেন। ১৯৬৪ সালে বডি বিল্ডিং এর জন্য ইস্ট পাকিস্তান খেতাব অর্জন করেছিলেন।

১৯৭২ সালে এস এম শফী পরিচালিত ছন্দ হারিয়ে গেলো চলচ্চিত্রের সহকারী পরিচালক হিসেবে সিনেমা জগতে আগমন। এই সিনেমায় ছোট একটি চরিত্রে অভিনয়ও করেন। ১৯৭৩ সালে মহসিন পরিচালিত রাতের পর দিন চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। চলচ্চিত্রটির অসামান্য সাফল্যে রাতারাতি তিনি তারকাখ্যাতি অর্জন করেন। পরের বছর তার অভিনীত ডাকু মনসুর, কে আসল কে নকল, ও জিঘাংসা চলচ্চিত্রগুলোও ব্যবসাসফল হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

এবারে চলে গেলেন সোনালি দিনের সুপারস্টার ওয়াসিম

আপডেট সময় : ১২:২৭:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১

নায়ক ওয়াসিম ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

মহামারিকালে সাংস্কৃতিক অঙ্গণের বাসিন্দারা এক এক করে চলে যাচ্ছেন। শনিবার অপরাহ্নে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি কবীর শেষকৃত্যানুষ্ঠান শেষ হবার মধ্যরাতে খবর আসলো সোনালী দিনের সুপারস্টার নায়ক ওয়াসিম আর নেই।

পুরাতন ঢাকার স্বামীবাগে শাহাবউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাষ ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনিও করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। পরবর্তীতে পরীক্ষায় তার নেগেটিভ আসে। তিনি কিডনিসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নায়ক জায়েদ খান সংবাদমাধ্যমকে তার মৃত্যুর তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

মোহসিন পরিচালিত ‘রাতের পর দিন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নায়ক হিসেবে রূপালী পর্দায় অভিষেক ওয়াসিমের। ব্যবসাসফল সিনেমাটি তাকে সুপারস্টারে পরিণত করে। এরপর ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া এস এম শফী পরিচালিত ‘দি রেইন’ সিনেমা তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।

১৯৭৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত চলচ্চিত্রে শীর্ষ নায়কদের একজন ছিলেন ওয়াসিম। তিনি ছিলেন ফোক ফ্যান্টাসি আর অ্যাকশন ছবির অপ্রতিদ্বন্দ্বী অভিনেতা। তার অভিনিত ছায়াছবির সংখ্যা ১৫২টি।

উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে দ্য রেইন, ডাকু মনসুর, জিঘাংসা, কে আসল কে নকল, বাহাদুর, দোস্ত দুশমন, মানসী, দুই রাজকুমার, সওদাগর, নরম গরম, ইমান, রাতের পর দিন, আসামি হাজির, মিস লোলিতা, রাজ দুলারী, চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা, লুটেরা, লাল মেম সাহেব, বেদ্বীন, জীবন সাথী, রাজনন্দিনী, রাজমহল, বিনি সুতার মালা, বানজারান।

নায়িকা অলিভিয়া, অঞ্জু ঘোষ ও শাবানার সঙ্গে বেশি সংখ্যক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। দি রেইন সিনেমায় নায়িকা ছিলেন অলিভিয়া। এরপর ওয়াসিম-অলিভিয়ার জুটি বাহাদুর, লুটেরা, লাল মেম সাহেব, বেদ্বীন সিনেমার মতো ব্যবসা সফল সিনেমা উপহার দেন।

রাজ দুলালী ছবিতে শাবানার সঙ্গে অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলে। অঞ্জু ঘোষের সঙ্গে অভিনয় করেছেন, সওদাগর, নরম গরম, আবেহায়াত, চন্দনদ্বীপের রাজকন্যা, পদ্মাবতী, রসের বাইদানীসহ বেশকিছু সিনেমায়।

অভিনেতা ওয়াসিম বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। হাঁটতে পারতেন না বলে বিছানায় শুয়ে-বসে দিন কাটতো তাঁর। জানা যায়, ওয়াসিম দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, ফুসফুস, উচ্চ রক্তচাপ ও চোখের জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন। শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ১১টার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ১২টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

ওয়াসিমের পুরো নাম মেজবাহউদ্দীন আহমেদ। ১৯৪৭ সালের ২৩ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কলেজের ছাত্রাবস্থায় তিনি বডি বিল্ডার হিসেবে নাম করেছিলেন। ১৯৬৪ সালে বডি বিল্ডিং এর জন্য ইস্ট পাকিস্তান খেতাব অর্জন করেছিলেন।

১৯৭২ সালে এস এম শফী পরিচালিত ছন্দ হারিয়ে গেলো চলচ্চিত্রের সহকারী পরিচালক হিসেবে সিনেমা জগতে আগমন। এই সিনেমায় ছোট একটি চরিত্রে অভিনয়ও করেন। ১৯৭৩ সালে মহসিন পরিচালিত রাতের পর দিন চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। চলচ্চিত্রটির অসামান্য সাফল্যে রাতারাতি তিনি তারকাখ্যাতি অর্জন করেন। পরের বছর তার অভিনীত ডাকু মনসুর, কে আসল কে নকল, ও জিঘাংসা চলচ্চিত্রগুলোও ব্যবসাসফল হয়।