ঢাকা ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

রাখাইনে মানবিক করিডোর নিয়ে আলোচনা হয়নি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:১২:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫ ২৪৬ বার পড়া হয়েছে

রাখাইনে মানবিক করিডোর নিয়ে আলোচনা হয়নি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গাবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, রাখাইনে মানবিক করিডোর নিয়ে কারো সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। এটা নিয়ে কারো সঙ্গে কোনো কথাও হয়নি। তবে মানবিক চ্যানেলে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বুধবার ঢাকা ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন খলিলুর রহমান। প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ প্রতিনিধি বলেন, জাতিসংঘ রাখাইনের মানবিক সাহায্য পৌঁছে দিতে চায়। তাদের সঙ্গে মানবিক চ্যানেলে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া নিয়েই আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

রাখাইন রাজ্যে তীব্র মানবিক সংকটের কারণে সেখানে মানবিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি উত্থাপিত হয়। এমন অবস্থায় রাখাইনে কড়িডোর দেয়ার বিষয়ে কথা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গাবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান। বুধবার ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, রাখাইনে মানবিক করিডোর নিয়ে কারো সঙ্গে আলোচনা হয়নি। তবে মানবিক চ্যানেলে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচীর (ইউএনডিপি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাখাইনে আসন্ন দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ আশঙ্কা করছে যে, এমন পরিস্থিতি রাখাইন থেকে আরও মানুষকে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য করবে। ইতোমধ্যেই মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পক্ষে আরও বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বোঝায় পরিণত হয়েছে।

খলিলুর রহমান বলেন, এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশ মানবিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করতে শুরু করে। যেহেতু সংঘাতের কারণে সাহায্য সরবরাহের অন্যান্য সব পথ বর্তমানে অকার্যকর, তাই বাংলাদেশই এখন একমাত্র সম্ভাব্য বিকল্প পথ। প্রাথমিকভাবে চিন্তা করা হয়েছিল যে, জাতিসংঘ তার চ্যানেলের মাধ্যমে রাখাইনে সহায়তা বিতরণের ব্যবস্থা করবে এবং মিয়ানমার সীমান্তজুড়ে সহায়তা পৌঁছাতে বাংলাদেশ লজিস্টিক সহায়তা দেবে।

বাংলাদেশ মনে করে যে, রাখাইনে সাহায্য প্রদান রাজ্যটিকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির পথ প্রশস্ত করবে। রাখাইনে সাহায্য দেওয়ার ব্যাপারে এখনো কোনো চুক্তি হয়নি কারণ এর জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মতি এবং সহায়তা দেওয়ার জন্য বেশকিছু পূর্বশর্ত পূরণের প্রয়োজন, যা বিশ্বের সবখানেই মানবিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে একইভাবে পূরণযোগ্য।

এর মধ্যে রয়েছে, সহায়তাদানকারী এবং গ্রহীতাদের নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার, সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য না করা, সহায়তাকে সামরিক উদ্দেশে ব্যবহার না করা এবং সশস্ত্র কার্যকলাপ স্থগিত রাখা। আরাকান বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের কারণ, সংকট মোকাবিলায় মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে কি না জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ প্রতিনিধি বলেন, আরাকান সশস্ত্র বাহিনী যখন মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অংশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় তখন বাংলাদেশ সরকার তাদের সাথে যোগাযোগ রাখার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাখাইনে মানবিক করিডোর নিয়ে আলোচনা হয়নি

আপডেট সময় : ০৮:১২:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গাবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, রাখাইনে মানবিক করিডোর নিয়ে কারো সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। এটা নিয়ে কারো সঙ্গে কোনো কথাও হয়নি। তবে মানবিক চ্যানেলে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বুধবার ঢাকা ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন খলিলুর রহমান। প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ প্রতিনিধি বলেন, জাতিসংঘ রাখাইনের মানবিক সাহায্য পৌঁছে দিতে চায়। তাদের সঙ্গে মানবিক চ্যানেলে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া নিয়েই আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

রাখাইন রাজ্যে তীব্র মানবিক সংকটের কারণে সেখানে মানবিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি উত্থাপিত হয়। এমন অবস্থায় রাখাইনে কড়িডোর দেয়ার বিষয়ে কথা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গাবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান। বুধবার ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, রাখাইনে মানবিক করিডোর নিয়ে কারো সঙ্গে আলোচনা হয়নি। তবে মানবিক চ্যানেলে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচীর (ইউএনডিপি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাখাইনে আসন্ন দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ আশঙ্কা করছে যে, এমন পরিস্থিতি রাখাইন থেকে আরও মানুষকে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য করবে। ইতোমধ্যেই মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পক্ষে আরও বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বোঝায় পরিণত হয়েছে।

খলিলুর রহমান বলেন, এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশ মানবিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করতে শুরু করে। যেহেতু সংঘাতের কারণে সাহায্য সরবরাহের অন্যান্য সব পথ বর্তমানে অকার্যকর, তাই বাংলাদেশই এখন একমাত্র সম্ভাব্য বিকল্প পথ। প্রাথমিকভাবে চিন্তা করা হয়েছিল যে, জাতিসংঘ তার চ্যানেলের মাধ্যমে রাখাইনে সহায়তা বিতরণের ব্যবস্থা করবে এবং মিয়ানমার সীমান্তজুড়ে সহায়তা পৌঁছাতে বাংলাদেশ লজিস্টিক সহায়তা দেবে।

বাংলাদেশ মনে করে যে, রাখাইনে সাহায্য প্রদান রাজ্যটিকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির পথ প্রশস্ত করবে। রাখাইনে সাহায্য দেওয়ার ব্যাপারে এখনো কোনো চুক্তি হয়নি কারণ এর জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মতি এবং সহায়তা দেওয়ার জন্য বেশকিছু পূর্বশর্ত পূরণের প্রয়োজন, যা বিশ্বের সবখানেই মানবিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে একইভাবে পূরণযোগ্য।

এর মধ্যে রয়েছে, সহায়তাদানকারী এবং গ্রহীতাদের নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার, সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য না করা, সহায়তাকে সামরিক উদ্দেশে ব্যবহার না করা এবং সশস্ত্র কার্যকলাপ স্থগিত রাখা। আরাকান বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের কারণ, সংকট মোকাবিলায় মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে কি না জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ প্রতিনিধি বলেন, আরাকান সশস্ত্র বাহিনী যখন মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অংশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় তখন বাংলাদেশ সরকার তাদের সাথে যোগাযোগ রাখার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে।