ঢাকা ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কালো টাকা সাদা করা নিয়ে যা বললেন এনবিআর চেয়ারম্যান বাজেট: ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে বাংলাদেশের নতুন যাত্রা বাজেট ২০২৬-২৭ পেশ : মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে জোর গ্রাম ও নগর উন্নয়নে ৪১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব কৃষি খাতে রেকর্ড ২৮ হাজার ৮৮১ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব বিনিয়োগে গতি, কর্মসংস্থানে জোর: ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ট্রিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন যাত্রা: আজ বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব: বাহরাইনে পঞ্চম মার্কিন নৌবহর ও জর্ডানে বিমানঘাঁটিতে হামলা দাবি ইরানের   চা-বাগানের সবুজে চা-বাগানের সবুজে ধরা দিল দুর্লভ চিতাবিড়াল ঢলনের চাপে আমচাষি, কেজিভিত্তিক বেচাকেনার সিদ্ধান্তেও মিলছে না সুফল

জলমগ্ন সুনামগঞ্জ-সিলেট, বৃষ্টি বাড়লে ২২-এর বন্যা পরিস্থিতির শঙ্কা

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৩৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪ ২৯৮ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

সিলেটে জুন মাসে গড়ে ৮৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। কিন্তু এবারে মাসের প্রথম ১৭ দিনেই বৃষ্টিপাত হয়েছে ১,৫৪৬ মিলিমিটার। যা গড় অপেক্ষা ৮৪ শতাংশ বেশি। বাকিদিনগুলোতে তা আরও বড়বে। ২০২২ সালে চেরাপুঞ্জির বৃষ্টিপাত অঞ্চলের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের ১২২ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করেছিল

 

জলমগ্ন শহর। নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে সুনামগঞ্জবাসীর। সুনামগঞ্জের উজানে মেঘালয়। সেখানের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বর্ষণ অব্যাহত। সেই পানি নেমে এসে ভাটির সুনামগঞ্জ ও সিলেট প্লাবিত।

২০২২ সালের ১৭ জুন ভয়াবহ বন্যায় তলিয়ে গিয়েছিল সুনামগঞ্জ ও সিলেটের বেশিরভাগ এলাকা। গভীর রাতে চোখের পলকেই তলিয়ে যায় পুরো শহর। একতলা বাড়ির বাসিন্দারা প্রাণ রক্ষায় উঁচু ঘরবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। রাতের অন্ধকারে ভেসে যায় বহু গবাদিপশু। ভারী বর্ষণ হলেই সেই দুঃস্মৃতি তাড়া করে সুনামগঞ্জের মানুষকে।

জলমগ্ন সুনামগঞ্জ শহর : ছবি সংগ্রহ

উজানের ঢলের সঙ্গে স্থানীয় বৃষ্টিপাতের পানি যুক্ত হয়ে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি অবণতি ঘটেছে। লাখো মানুষ বানভাসি। সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির।
আজ বুধবার (১৯ জুন) ভোর থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খুবই ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এমনটা ঘটলে সুনামগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবণতি ঘটবে।

আগামী পাঁচদিন ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পুর্বাভাস রয়েছে আবহাওয়া দপ্তরের। সেই সঙ্গে ২৩ জুন পর্যন্ত সিলেট বিভাগের সকল নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাবে। তাতে সুনামগঞ্জ ও সিলেটে দীর্ঘ স্থায়ী বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

জলবন্দি কোরবানির পশু

সিলেটে জুন মাসে গড়ে ৮৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। কিন্তু এবারে মাসের প্রথম ১৭ দিনেই বৃষ্টিপাত হয়েছে ১,৫৪৬ মিলিমিটার। যা গড় অপেক্ষা ৮৪ শতাংশ বেশি। বাকিদিনগুলোতে তা আরও বড়বে। ২০২২ সালে চেরাপুঞ্জির বৃষ্টিপাত অঞ্চলের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের ১২২ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করেছিল। এমন তথ্য জানালেন আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ।

২০২২ সালে মারাত্মক বন্যার কথা উল্লেখ করে আবহাওয়াবিদ বলেন, বানভাসি মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে। তাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক রূপ নেবে। সেক্ষেত্রে ২০২২ সালের মতোই বড় আকারের বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অবিরাম বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় এবার হাওরাঞ্চলের মানুষের ঈদের আনন্দ ভেসে গেছে। সোমবার (১৭ জুন) ঈদের দিন ভোরেই সুরমা নদীর পানি উপচে সুনামগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে। বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার মধ্যেই মসজিদে ঈদের জামাত আদায় করতে পারলেও অনেকেই যথাসময়ে পশু কোরবানি করতে পারেননি।

বুধবার (১৯ জুন) ভোরেই ফের শুরু হচ্ছে ভারী বৃষ্টিপাত। সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায়ও বৃষ্টিপাত হবে। এতে সুনামগঞ্জ ও সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জলমগ্ন সুনামগঞ্জ-সিলেট, বৃষ্টি বাড়লে ২২-এর বন্যা পরিস্থিতির শঙ্কা

আপডেট সময় : ১০:৩৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

 

সিলেটে জুন মাসে গড়ে ৮৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। কিন্তু এবারে মাসের প্রথম ১৭ দিনেই বৃষ্টিপাত হয়েছে ১,৫৪৬ মিলিমিটার। যা গড় অপেক্ষা ৮৪ শতাংশ বেশি। বাকিদিনগুলোতে তা আরও বড়বে। ২০২২ সালে চেরাপুঞ্জির বৃষ্টিপাত অঞ্চলের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের ১২২ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করেছিল

 

জলমগ্ন শহর। নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে সুনামগঞ্জবাসীর। সুনামগঞ্জের উজানে মেঘালয়। সেখানের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বর্ষণ অব্যাহত। সেই পানি নেমে এসে ভাটির সুনামগঞ্জ ও সিলেট প্লাবিত।

২০২২ সালের ১৭ জুন ভয়াবহ বন্যায় তলিয়ে গিয়েছিল সুনামগঞ্জ ও সিলেটের বেশিরভাগ এলাকা। গভীর রাতে চোখের পলকেই তলিয়ে যায় পুরো শহর। একতলা বাড়ির বাসিন্দারা প্রাণ রক্ষায় উঁচু ঘরবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। রাতের অন্ধকারে ভেসে যায় বহু গবাদিপশু। ভারী বর্ষণ হলেই সেই দুঃস্মৃতি তাড়া করে সুনামগঞ্জের মানুষকে।

জলমগ্ন সুনামগঞ্জ শহর : ছবি সংগ্রহ

উজানের ঢলের সঙ্গে স্থানীয় বৃষ্টিপাতের পানি যুক্ত হয়ে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি অবণতি ঘটেছে। লাখো মানুষ বানভাসি। সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির।
আজ বুধবার (১৯ জুন) ভোর থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খুবই ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এমনটা ঘটলে সুনামগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবণতি ঘটবে।

আগামী পাঁচদিন ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পুর্বাভাস রয়েছে আবহাওয়া দপ্তরের। সেই সঙ্গে ২৩ জুন পর্যন্ত সিলেট বিভাগের সকল নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাবে। তাতে সুনামগঞ্জ ও সিলেটে দীর্ঘ স্থায়ী বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

জলবন্দি কোরবানির পশু

সিলেটে জুন মাসে গড়ে ৮৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। কিন্তু এবারে মাসের প্রথম ১৭ দিনেই বৃষ্টিপাত হয়েছে ১,৫৪৬ মিলিমিটার। যা গড় অপেক্ষা ৮৪ শতাংশ বেশি। বাকিদিনগুলোতে তা আরও বড়বে। ২০২২ সালে চেরাপুঞ্জির বৃষ্টিপাত অঞ্চলের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের ১২২ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করেছিল। এমন তথ্য জানালেন আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ।

২০২২ সালে মারাত্মক বন্যার কথা উল্লেখ করে আবহাওয়াবিদ বলেন, বানভাসি মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে। তাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক রূপ নেবে। সেক্ষেত্রে ২০২২ সালের মতোই বড় আকারের বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অবিরাম বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় এবার হাওরাঞ্চলের মানুষের ঈদের আনন্দ ভেসে গেছে। সোমবার (১৭ জুন) ঈদের দিন ভোরেই সুরমা নদীর পানি উপচে সুনামগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে। বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার মধ্যেই মসজিদে ঈদের জামাত আদায় করতে পারলেও অনেকেই যথাসময়ে পশু কোরবানি করতে পারেননি।

বুধবার (১৯ জুন) ভোরেই ফের শুরু হচ্ছে ভারী বৃষ্টিপাত। সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায়ও বৃষ্টিপাত হবে। এতে সুনামগঞ্জ ও সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।