হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা, যুদ্ধবিরতি বহাল থাকার দাবি ট্রাম্পের
- আপডেট সময় : ১১:০৭:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলার
মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ তুলেছে। তবে সংঘর্ষের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রথম বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে। সেখানে ঘটনাটিকে ইরানি বাহিনী ও তাদের ভাষায় “শত্রুপক্ষের” মধ্যে গুলিবিনিময় হিসেবে বর্ণনা করা হয়। ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন বাহিনী হামলা চালানোর পরই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, প্রণালিতে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর ইউনিটগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। একইসঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের কাছেও আরেকটি জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ আনা হয়। ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি, বান্দার খামির, সিরিক ও কেশম দ্বীপের উপকূলীয় এলাকায়ও মার্কিন বাহিনী আকাশপথে হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওমান উপসাগরের দিকে যাওয়ার সময় মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ট্রাকস্টন, ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা এবং ইউএসএস ম্যাসনের ওপর “উসকানিবিহীন ইরানি হামলা” চালানো হয়। তাদের দাবি, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে হামলা চালালেও মার্কিন সামরিক সম্পদের কোনো ক্ষতি হয়নি।
সেন্টকম আরও জানায়, আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, ড্রোন ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার এবং নজরদারি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। তবে তারা উত্তেজনা বৃদ্ধি নয়, বরং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে।
এদিকে সংঘর্ষের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতিকে হালকা ধাক্কা বলে মন্তব্য করেছেন। এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল আছে। এটি কার্যকর রয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো অক্ষত রয়েছে এবং ইরানি বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি লেখেন, আমাদের বিধ্বংসীগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো সহজেই প্রতিহত করা হয়েছে।

একইসঙ্গে ট্রাম্প আবারও স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনও ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেবে না। তবে সংঘর্ষের মধ্যেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আমরা ইরানিদের সঙ্গে আলোচনা করছি। আলোচনা খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে। তবে তাদের বুঝতে হবে, চুক্তি না হলে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফা একটি সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেয়, যা ভবিষ্যৎ পারমাণবিক আলোচনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও ইরানের পার্লামেন্টের এক জ্যেষ্ঠ সদস্য এটিকে “ইচ্ছার তালিকা” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, তেহরান এখনও কূটনৈতিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে দেশটির প্রকৃত ক্ষমতার কেন্দ্র আইআরজিসি এবং সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান এই উত্তেজনা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানির বড় অংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।
সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়ে গেছে। বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ৪০ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মার্কিন ক্রুডের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬ দশমিক ৮০ ডলারে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে হরমুজ প্রণালি কেন্দ্র করে নতুন করে বড় ধরনের আঞ্চলিক সংকট তৈরি হতে পারে।

















