ঢাকা ০৫:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সরকারের সমালোচনা এনসিপি আহ্বায়কের কাগজে নদীর সংখ্যা বাড়ছে নদী রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় সংকট সাশ্রয়ী আবাসন অর্থায়নে বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি শেরপুর সীমান্তে ভারতীয় সাবান-মদ জব্দ বিজিবির গরু আটক নিয়ে চাঞ্চল্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সমাধান কেবল কূটনীতিতেই: ইরান চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বাঁধা বাবা, চা-রুটি খাইয়ে দিচ্ছিল ৯ বছরের মেয়ে জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী বিরাজলক্ষী ঘোষের কবিতা ‘ঈশ্বরের সাথে মেঘের মাঝে’ সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী আয়ুর্বেদে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ  গবেষণা কেন্দ্র গঠনের প্রস্তাব

হরমুজ প্রণালি সচল করতে ৪০ দেশের জোটের অঙ্গীকার

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৪৫ বার পড়া হয়েছে

রমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়ে যাচ্ছে একটি ফেরি। রয়টার্স

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে ৪০টি দেশের একটি জোট গঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে দেশগুলো প্রণালির অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে হরমুজ প্রণালির অবরোধ বন্ধ করার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে অবদান রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে পারস্য উপসাগরকে বিশ্ব মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্তকারী এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে এবং তেলের দাম বেড়ে গেছে।

সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার।

তিনি বলেন, ইরানের ‘বেপরোয়া আচরণ’ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

সম্মেলনের শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, ইরান একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করে রেখেছে। এরপর বৈঠকের বাকি অংশ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ৪০টি দেশ অংশ নিলেও এই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র উপস্থিত ছিল না। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আর যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়।

একই সঙ্গে তিনি ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করেন এবং ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা, জাপান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এটিকে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরবর্তীতে ‘ওয়ার্কিং-লেভেল’ বৈঠকের মাধ্যমে বিস্তারিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

তবে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে দেশগুলোর আগ্রহ খুব কম। কারণ ইরানের কাছে জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, মাইন ও দ্রুতগতির আক্রমণ নৌযান রয়েছে, যা এ অঞ্চলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সামরিক সমাধানের বিরোধিতা করে বলেছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং সমন্বিত প্রচেষ্টাই বেশি কার্যকর হতে পারে।

একই মত দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ। তিনি বলেন, শক্তি প্রয়োগ বাস্তবসম্মত নয়,  বরং ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনাই হতে পারে কার্যকর সমাধান।

জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা সহজ হবে না বলেও সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এর জন্য সামরিক প্রস্তুতি, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং নৌ-শিল্পের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন হবে।

তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

তবে ইরান দাবি করেছে, ‘শত্রুভাবাপন্ন নয়’ এমন জাহাজগুলোর জন্য প্রণালিটি উন্মুক্ত রয়েছে; কেবল শত্রু দেশ ও তাদের মিত্রদের জাহাজের জন্য এটি সীমিত করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :