ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জবাব দেবে জনগণ: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১২:৪০:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে উচিত জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা দেশের মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে সব শক্তি দিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দাঁড়াব। ২০২৪ সালে যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের উচিত জবাব দিয়েছিল, আগামী দিনেও একইভাবে তাদের জবাব দেওয়া হবে।’
আজ দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু একটি মহল সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তারা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে চায়।
তিনি বলেন, ‘এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। বিশেষ করে শ্রমিক ভাই-বোনদের সজাগ থাকতে হবে, যাতে কোনোভাবেই ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ নিতে না পারে। কারণ, এখন সময় দেশ গড়ার, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের।’
ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ ও শ্রমজীবী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব ধরনের ষড়যন্ত্রের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। সরকারের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য—‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা ১৫-১৬ বছরে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি, মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং এ দেশ থেকে অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করেছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনতার অভ্যুত্থানের মুখে তাদের পালিয়ে যেতে হয়েছিল।’
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে সেই মহল সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। শুধু তাই নয়, দেশের মিল-কারখানা ধ্বংসের অপচেষ্টাও চালাচ্ছে তারা।
শিল্পকারখানার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব কারখানা শুধু সরকারের সম্পদ নয়, দেশের মানুষের এবং শ্রমিকদেরও সম্পদ। কারখানাগুলো ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিকেরা। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের ভবিষ্যতের ওপরও।
শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমিক ভাই-বোনদের মজুরি নিয়ে কিছু দাবি-দাওয়া রয়েছে। সরকার সেসব দাবি বিবেচনায় নিয়ে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড কাজও শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে। এর ফলে আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনেরা আগের চেয়ে ভালো থাকতে পারবেন।’
সরকারের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচিত সরকার দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, শিল্পের প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে দিনরাত কাজ করছে। দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, বিএনপি দেশের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানা পুনরায় চালুর পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে। দেশে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় খুলনা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। কিন্তু নানা কারণে সময়ের সঙ্গে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে শুরু করে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত সারা দেশে হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায়। এর মাধ্যমে তরুণ ও যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
কাটাখালীতে পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে তিনি খুলনায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
বাসস
















