পোশাকশিল্পের বিকাশে শহীদ জিয়ার মানবিক ও দূরদর্শী উদ্যোগ
- আপডেট সময় : ১১:২৭:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
বৃহস্পতিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার শুরুতে পোশাক শিল্পের সাম্প্রতিক আন্দোলন বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী
গার্মেন্টস শিল্পের প্রতি বিএনপির দরদ সবচেয়ে বেশি, বিকাশমান গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান। এ কারণে এই শিল্পের প্রতি বিএনপির দরদ সবচেয়ে বেশি। দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এ শিল্পের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বিএনপি সব সময় আন্তরিক-তথ্য প্রতিমন্ত্রী
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান কেবল একটি শিল্পের গোড়াপত্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার একটি মানবিক ও দূরদর্শী উদ্যোগ। তাঁর সরকারের সময় নেওয়া নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ এ শিল্পের বিকাশের পথ সুগম করে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, তাঁরা ঘরের গণ্ডি পেরিয়ে নিজেদের শ্রম ও উপার্জনের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে অর্থনৈতিক অবদান রাখার সুযোগ পান।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজেএ) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশের ভিত্তি স্থাপনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাঁর দূরদর্শী উদ্যোগে এ শিল্পের অগ্রযাত্রার সূচনা হয়। দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে পোশাকশিল্পের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বিএনপি সব সময় আন্তরিক। তিনি বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও স্বল্প আয়ের পরিবারের নারীদের জন্য তৈরি পোশাকশিল্প হয়ে ওঠে স্বনির্ভরতার নতুন দুয়ার।
দেশের পোশাকশিল্প অর্থনীতি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। অথচ অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ ও বর্ধনশীল শিল্পকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে নানা অস্থিরতা, শ্রমিক অসন্তোষ, স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতা এবং পরিকল্পিত চক্রান্তের অভিযোগ উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এসব ঘটনার পেছনে কোনো মহলের উদ্দেশ্য থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করা জরুরি। কারণ, পোশাকশিল্পের সংকট মানে শুধু একটি শিল্পের সংকট নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখো শ্রমিকের জীবিকা, অসংখ্য পরিবারের স্বপ্ন এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পের স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ফটোসাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করবে বলে জানান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। এটি শুধু আর্থিক সহায়তার বিষয় নয়, বরং তাদের অবদানের স্বীকৃতি, সম্মান ও মর্যাদার বিষয়।
বিপিজেএর নেতাদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা তিনি মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
বিপিজেএর কার্যালয় সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংগঠনটির জন্য একটি স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বর্তমানে যে ভবন বা জায়গা নিয়ে জটিলতা রয়েছে, সেটির প্রকৃত অবস্থা ও আইনি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।
সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ আইন নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনা চলছে। সবার মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকার তাড়াহুড়ো করতে চায় না। তিনি বলেন, আইনটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আমরা চাই, আইনটি যেন প্রকৃত অর্থেই সবাইকে সুরক্ষা দিতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষ করেই চূড়ান্ত পর্যায়ে যেতে চাই।
মতবিনিময় সভায় বিপিজেএর সভাপতি এ কে এম মহসিন ফটোসাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে ফটোসাংবাদিকদের একটি বড় অংশ নানা ধরনের প্রতিকূলতা, নির্যাতন ও পেশাগত বাধার মধ্যেও দায়িত্ব পালন করেছেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদচিত্র ধারণ করেছেন।
বিপিজেএ সভাপতি বলেন, ফটোসাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, দেশের ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংরক্ষণের মাধ্যম। আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষ্য বহন করে তাদের তোলা ছবি। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফটোসাংবাদিকরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করে দেশ-বিদেশে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি বলেন, সংগঠনটির স্থায়ী কার্যালয় নিশ্চিত করা হলে ফটোসাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সভা-সেমিনার ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে।
বিপিজেএর সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার বলেন, ফটোসাংবাদিকরা গত দেড় দশকে গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নির্যাতন, হামলা, মামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা রাজপথে থেকে সংবাদচিত্র ধারণ করেছেন। তাদের তোলা ছবি দেশের মানুষের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও আন্দোলনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে নুরুদ্দিন আহমেদ, এ বি এম রফিকুর রহমান, নাসিম সিকদার এবং দেলোয়ার হোসেন বাদল বক্তব্য রাখেন। এ সময় বিপিজেএর নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।















