৭ নভেম্বরের বিপ্লবী চেতনা হোক ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৬:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাণী
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের বিপ্লবী চেতনাকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা ও পথনির্দেশক শক্তি হিসেবে গ্রহণ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে এ দেশের সৈনিক ও জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ নভেম্বর ছিল এক তাৎপর্যপূর্ণ সন্ধিক্ষণ, যেদিন দেশের বন্ধু ও শত্রুদের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।
মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে একটি প্রবাদ বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘যারা অতীত নিয়ে পড়ে থাকে, তারা এক চোখে অন্ধ; আর যারা অতীতকে ভুলে যায়, তারা দুই চোখেই অন্ধ।’ অতীত নিয়ে সব সময় পড়ে থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ইতিহাসের শিক্ষা উপেক্ষা করে ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ করাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। উভয়টিই হবে ঐতিহাসিক ভুল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের গতিপথ নির্ধারণে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন ছিল।’ তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যারা বাংলাদেশকে পরাধীন ও পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল এবং জাতির সাহস, বীরত্ব ও সম্মানের প্রতীক সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সৈনিক ও জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তাদের ষড়যন্ত্র পরাস্ত হয়।
তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পরাজিত শক্তিগুলো পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর ঐক্যের ব্যানারে সংগঠিত হয়ে দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। তারা পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা ও গৌরব ক্ষুণ্ন করে। একই সঙ্গে জনগণের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা হরণ করে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করে।
তিনি বলেন, দেড় দশকের বেশি সময় পর সাহসী ছাত্র–জনতার নেতৃত্বে রক্তক্ষয়ী গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়। এ মুক্তির জন্য হাজারো মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম। আর ২০২৪ সালের সংগ্রাম ছিল দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সর্বস্তরের মানুষ যেভাবে রাজপথে নেমে এসেছিলেন, একইভাবে ১৯৭৫ সালেও স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সৈনিক ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন।
তারেক রহমান বলেন, এ বছরের ৭ নভেম্বর আমাদের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত কেউ যেন আর কখনো এ দেশের মানুষকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে না পারে এবং বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে। এ অঙ্গীকার পূরণে জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য।
বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সংরক্ষণের জন্য ৭ নভেম্বরের সৈনিক–জনতার বিপ্লবের চেতনাকে আন্তরিকভাবে ধারণ করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পরনির্ভরশীলতার বিরুদ্ধে সৈনিক–জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ–অভ্যুত্থান ইতিহাসের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সংঘটিত এসব আন্দোলন ও বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল অভিন্ন। তা হলো, স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের সব গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করে একটি আত্মনির্ভরশীল, নিরাপদ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলা।
বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সৈনিক–জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব স্মরণে এ দিনে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠে দৃপ্ত উচ্চারণ ধ্বনিত হোক দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, অন্য কোনো দেশ নয়, সবার আগে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী ৭ নভেম্বর জাতীয়ভাবে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।






