গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগের এ দেশে আর কোনো স্থান হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৬:৩০:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
দেশের মানুষ আর কোনো দিন গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে এ দেশে রাজনীতি করতে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, মানুষের ওপর অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে যারা রক্ত ঝরিয়েছে, সেই জালেম, স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শক্তির এ দেশে আর কোনো স্থান হবে না।
আজ শুক্রবার জুমার নামাজের আগে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসার দুই দিনব্যাপী ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাদরাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মোহাম্মদ মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের আগে এবং আন্দোলনের সময় হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও দ্বীন, দেশ ও ফ্যাসিবাদী, ইসলামবিদ্বেষী অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ২৩ বছর লেগেছে। আর ফ্যাসিবাদী, ইসলামবিদ্বেষী ও আলেমবিদ্বেষী সরকারের হাত থেকে এ দেশের জনগণকে মুক্ত করতে ১৬-১৭ বছর লেগেছে। এ সময় আলেম-ওলামারা রক্ত দিয়েছেন। ছাত্রসমাজের অনেকে শহীদ হয়েছেন। তাঁদের সবার নাম ও কবরের ঠিকানা এখনো আমরা জানি না। এত রক্তদানের মধ্য দিয়ে, রক্তের সিঁড়ি বেয়ে আমরা সেই সরকারের হাত থেকে মুক্ত হয়েছি।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, শুধু জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে শহীদ হতে হয়েছে। এর আগে বিগত ১৬-১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। আমিও তাঁদের একজন ছিলাম। রব্বুল আলামিন আমার হায়াত রেখেছেন। আপনাদের দোয়া ও আল্লাহর রহমতে বেঁচে আছি। প্রায় ৭ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। লাখ লাখ মানুষ হামলা-মামলার মাধ্যমে নিপীড়িত হয়েছেন।’
তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘আমরা কি আবার সেই ফ্যাসিবাদীদের পুনর্গমন চাই? তাদের প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্র কারা তৈরি করতে চাইছে?’
গার্মেন্টসশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার পেছনে ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে এমন কিছু দুষ্কৃতকারী রয়েছে, যারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করছে, অথচ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ইসলামের মৌলিক মূল্যবোধের প্রতিফলন নেই। নিজেদের ইসলামী দল হিসেবে পরিচয় দেওয়া এসব দলের রাজনৈতিক অবস্থান ও দলীয় ঘোষণাপত্রের মধ্যে অসংগতি রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাস করি। আমরা বিসমিল্লাহ সংযোজন করেছি, কোরআন তিলাওয়াত করেছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছি। এ দেশের সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়েছি, যেখানে সবার একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয় রয়েছে।’
জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, জাতির মধ্যে কোনো বিভেদ দেখতে চায় না সরকার। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা অনুযায়ী দীর্ঘ আলোচনা-পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে প্রণীত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধের বিষয়গুলোও সংবিধানে ধারণ করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি থেকে মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি বাদ দিয়েছিলেন। আমরা তা পুনঃস্থাপন করব। সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি পুনরায় ধারণ করব, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁরা সেই রাজনৈতিক ধারার অনুসারী।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও গণহত্যা ও নির্যাতনের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মধ্যে অনেক বিতর্ক হতে পারে, রাজনৈতিকভাবে বিভক্তি থাকতে পারে। প্রত্যেকের নিজস্ব আদর্শভিত্তিক রাজনীতি থাকতে পারে। কিন্তু একটি বিষয়ে আমরা একমত—যারা এ দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, দীর্ঘ ১৭ বছর আলেম-ওলামাদের রক্ত নিয়েছে, মসজিদে নামাজ আদায়ে বাধা দিয়েছে এবং মসজিদকে রক্তাক্ত করেছে, সেই ফ্যাসিবাদী শক্তিকে এ দেশের মানুষ আর কখনো রাজনীতি করতে দেবে না।’
















