ঢাকা ০৮:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দখল-ভাঙচুরে ছাড় নয়, জাইমার নিয়োগেও সম্পৃক্ততা নেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর সার্বিক পরিবেশ ইতিবাচক প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী রাড্ডা সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় এমপির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা  মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপসের দাবি, এমপি নজরুলের জামিন নামঞ্জুর  হরমুজ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, দাবি ইরানের ফুটপাতে হাঁটা পথচারীর অধিকার এটি কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয় সময় হলেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর: দীনেশ ত্রিবেদী দুর্গাপূজার ছুটি একদিন বাড়ানোর উদ্যোগে স্বস্তির বার্তা হিন্দু সম্প্রদায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বে জবাবদিহিতা পরামর্শক ব্যয় কমানোর নির্দেশ

ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়াল, কাঁদছে মিয়ানমার

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:১৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ মার্চ ২০২৫ ২০১ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মিয়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা এরই মধ্যে হাজার ছাড়িয়েছে। সামরিক বাহিনী এতথ্য নিশ্চিত করেছে।

আহতর তালিকায় ২ হাজার ৩৭৬, নিখোঁজ ৩০। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা।

মান্দালয়, সাগাইং এবং ইয়াংগনের পাশাপাশি দেশটির রাজধানী নেপিদোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেখানে জেলে বন্দি অং সান সু চি নিরাপদে। ।

কারা কর্তৃপক্ষের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসির বার্মা বিভাগ।

২০২১ সালে সু চির দলকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর থেকে শান্তিতে নোবেলজয়ী এ নেত্রীকে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

২০২৩ সালে তাকে একবার জেল থেকে সরিয়ে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল, পরে আবার তাকে রাজধানীর একটি কারাগারে ফেরত আনা হয়।

৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে শনিবার সকাল পর্যন্ত কেবল মান্দালয়েই ৬৯৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রাজধানী নেপিদোতে ৯৪, কাইয়ুক সে-তে ৩০ ও সাগাইংয়ে ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবারের এ ভূমিকম্পে মিয়ানমারের পাশাপাশি থাইল্যান্ডেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানেও অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একটি বহুতল ভবনের নিচে আটকা পড়ে আছে কয়েক ডজন শ্রমিক।

ভূমিকম্প-বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ানমারে গত ২০ বছরের মধ্যে এত তীব্র ভূমিকম্প আর দেখা যায়নি।

ভূমিকম্প মিয়ানমারে নতুন নয়। ১৯৩০ সাল থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে দেশটিতে শক্তিশালী ছয়টি ভূমিকম্প হওয়ার ইতিহাস আছে। মিয়ানমারের উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত সাগাইং চ্যুতিরেখা। সেকারণে প্রায়ই ভূমিকম্প হয় মিয়ানমারে।

১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর মিয়ানমারের কয়েক দশক কাটে রাজনৈতিক অস্থিরতা আর সামরিক শাসনেই।

২০১১ সালে দেশটি সেখান থেকে সরে আসা শুরু করে এবং চার বছর পর একটি অবাধ নির্বাচন হয়, যেখানে জয়ী হন অং সান সু চি।

কিন্তু ২০২১ সালে জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের অভ্যুত্থানে সু চি ও তার সরকার উৎখাত হলে গণতন্ত্রের আশা ভেস্তে যায়।

তিনি সু চি ও তার সহযোগীদের আটক করে একের পর এক অভিযোগ আনতে থাকেন। আটকের কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগও আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে।

ওই ভোটে অবশ্য সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিল।

সু চিকে আটকের পর ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয় মিয়ানমারে; বেসামরিক সরকারের দাবিতে প্রতিদিন সড়কে নেমে আসেন লাখো মানুষ।

ওই সময় বেসামরিক নাগরিক ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সহিংসতা বেড়ে যায়। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেটসহ ব্যাপক বল প্রয়োগ করে সেনাবাহিনী।

অনেক মানবাধিকার সংগঠনের বিশ্বাস, সেনাবাহিনীর ওই দমনপীড়নে কয়েকশ মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হন।

দেশটিতে প্রথমে আন্দোলন শুরু হয়েছিল একটি দাবি নিয়ে। কিন্তু গণতন্ত্রপন্থী এবং জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো জড়িয়ে পড়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই তা ব্যাপক বিদ্রোহে রূপ নেয়, যা শেষমেশ গিয়ে ঠেকে সর্বাত্মক গৃহযুদ্ধে।

এরপর চার বছর কেটেছে, কিন্তু দেশটিতে যুদ্ধ-সংঘাত থামেনি। এরই মধ্যে সেনাবাহিনী দেশের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের প্রতি আনুগত্য কমেছে সেনাবাহিনীতে।

জাতিসংঘের হিসাব বলছে, চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে মিয়ানমারের ৩৫ লাখের বেশি মানুষ ভিটেছাড়া হয়েছে। সহিংসতা অব্যাহত থাকলে এ সংখ্যা বাড়বে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটিতে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ‘নজিরবিহীন’ পর্যায়ে চলে গেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অনেকের জন্য খাদ্যসামগ্রী ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

এর মধ্যে গত সপ্তাহের শুরুতে মিয়ানমারের ১০ লাখের বেশি মানুষের খাদ্য সহায়তা কাটছাঁট করার ঘোষণা দেয় জাতিসংঘ। তহবিলের সংকট দেখিয়ে এ ঘোষণা দেয় তারা।

কয়েক মাস আগে ঘূর্ণিঝড় ইয়াগি মোকাবিলা করতে হয় দেশটিকে।

গত সেপ্টম্বরের ঝড়ে অন্তত ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়। ঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসের কারণে নষ্ট হয় হাজার হাজার একর জমির ফসল।

এর মধ্যে শুক্রবারের ভূমিকম্প যে দেশটির পাঁচ কোটি মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

ভূমিকম্প আঘাত হানা সাগাইং শহরটি বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাটি হিসেবে পরিচিত। কয়েক মাস আগেই বিদ্রোহীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর তুমুল লড়াই চলে সেখানে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :