ঢাকা ০২:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মায়ের ছোট্ট অনুরোধে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রে শিশুদের ‘খেলা ঘর’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা কক্মাসবাজার তারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যু এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাস ৬২.২৫ শতাংশ নদী মরছে, বিপন্ন হচ্ছে নগরসভ্যতা থেমে গেছে প্রতিদিনের হাঁটা ১১ পলিথিনে খন্ডিত মরদেহ মেলেনি মাথা-পা বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত প্রধানমন্ত্রীর উপহার সিএনজি-রিকশা পেলেন জুলাইযোদ্ধারা ভারত হাসিনা কার্ড খেলবে, আবার বন্ধুত্বও চাইবে:সালাহউদ্দিন

রোহিঙ্গাদের জন্য ২০ লাখ ইউরো সহায়তা দিচ্ছে ফিনল্যান্ড

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:০৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬ ১২৬ বার পড়া হয়েছে

রোহিঙ্গাদের জন্য ২০ লাখ ইউরো সহায়তা দিচ্ছে ফিনল্যান্ড

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ২০ লাখ ইউরো সহায়তা দিচ্ছে ফিনল্যান্ড সরকার। রবিবার (৩১ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ।

সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন এই অর্থ রোহিঙ্গাদের দক্ষতা উন্নয়ন, জীবিকা অর্জনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে তোলার বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে অর্থের অভাবে এসব খাতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সীমিত আকারে পরিচালিত হচ্ছিল।

মিয়ানমারে সহিংসতা ও নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসার প্রায় এক দশক পরও বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা বসবাস করছে। কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ সীমিত থাকায় তাদের অধিকাংশই মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ২৩ শতাংশ শরণার্থী পরিবার ‘কাজের বিনিময়ে অর্থ’ কর্মসূচির মাধ্যমে আয় করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে ৪২ শতাংশ পরিবারের আয় এসেছে অস্থায়ী ও অনিশ্চিত উৎস থেকে, আর ৩৫ শতাংশ পরিবারের কোনো আয়ই ছিল না।

তহবিল সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারী, কিশোরী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও বয়স্করা। এছাড়া ২০২৪ সালের শুরু থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় দেড় লাখ নতুন রোহিঙ্গার অনেকেই এখনো পর্যাপ্ত আশ্রয়ের সুবিধা পাননি, কারণ শিবিরগুলোতে জায়গার তীব্র সংকট রয়েছে।

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি আইভো ফ্রেইজেনবলেন, রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক এক পর্যায়ে রয়েছে। কমে আসা অর্থায়ন, শিবিরগুলোর অবনতিশীল পরিস্থিতি, বাড়তে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং মিয়ানমারের চলমান অস্থিতিশীলতা সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ পরিস্থিতিতে ফিনল্যান্ডের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে, নয়াদিল্লিতে ফিনল্যান্ড দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারি আহমেদ বলেন, ফিনল্যান্ড বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশে রয়েছে। শুধু জরুরি সহায়তা নয়, তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মনির্ভরশীলতা এবং একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতেও বিনিয়োগ প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ মোট ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষের সহায়তায় জাতিসংঘের ২০২৬ সালের মানবিক সহায়তা পরিকল্পনায় ৭১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় তহবিলের প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রোহিঙ্গাদের জন্য ২০ লাখ ইউরো সহায়তা দিচ্ছে ফিনল্যান্ড

আপডেট সময় : ০৮:০৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ২০ লাখ ইউরো সহায়তা দিচ্ছে ফিনল্যান্ড সরকার। রবিবার (৩১ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ।

সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন এই অর্থ রোহিঙ্গাদের দক্ষতা উন্নয়ন, জীবিকা অর্জনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে তোলার বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে অর্থের অভাবে এসব খাতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সীমিত আকারে পরিচালিত হচ্ছিল।

মিয়ানমারে সহিংসতা ও নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসার প্রায় এক দশক পরও বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা বসবাস করছে। কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ সীমিত থাকায় তাদের অধিকাংশই মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ২৩ শতাংশ শরণার্থী পরিবার ‘কাজের বিনিময়ে অর্থ’ কর্মসূচির মাধ্যমে আয় করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে ৪২ শতাংশ পরিবারের আয় এসেছে অস্থায়ী ও অনিশ্চিত উৎস থেকে, আর ৩৫ শতাংশ পরিবারের কোনো আয়ই ছিল না।

তহবিল সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারী, কিশোরী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও বয়স্করা। এছাড়া ২০২৪ সালের শুরু থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় দেড় লাখ নতুন রোহিঙ্গার অনেকেই এখনো পর্যাপ্ত আশ্রয়ের সুবিধা পাননি, কারণ শিবিরগুলোতে জায়গার তীব্র সংকট রয়েছে।

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি আইভো ফ্রেইজেনবলেন, রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক এক পর্যায়ে রয়েছে। কমে আসা অর্থায়ন, শিবিরগুলোর অবনতিশীল পরিস্থিতি, বাড়তে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং মিয়ানমারের চলমান অস্থিতিশীলতা সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ পরিস্থিতিতে ফিনল্যান্ডের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে, নয়াদিল্লিতে ফিনল্যান্ড দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারি আহমেদ বলেন, ফিনল্যান্ড বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশে রয়েছে। শুধু জরুরি সহায়তা নয়, তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মনির্ভরশীলতা এবং একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতেও বিনিয়োগ প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ মোট ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষের সহায়তায় জাতিসংঘের ২০২৬ সালের মানবিক সহায়তা পরিকল্পনায় ৭১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় তহবিলের প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে।