ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্স-বাংলাদেশ দুটি সমঝোতা স্মারক সই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৭:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ৮২ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা

রাষ্ট্রীয় সফরের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঢাকা ছেড়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। বৈঠকে অবকাঠামো, স্যাটেলাইটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে দুটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে ঢাকা ও প্যারিস। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ উপস্থিতিতে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং ফ্রান্সের ফ্রান্স ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (এফডিএ) মধ্যে ‘ইমপ্রুভিং আরবান গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রোগ্রাম’ বিষয়ে একটি ক্রেডিট-সুবিধা চুক্তি। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) এবং ফ্রান্সের এয়ারবাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস এসএএসের মধ্যে বঙ্গবন্ধু-২ আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম-সম্পর্কিত সহযোগিতার বিষয়ে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই)।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। ভাষা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিনিময়ে দুই দেশ তাদের পুরনো সম্পর্ক আরও জোরদার করবে বলে জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার কৌশলগত অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের প্রভাব বিস্তার রোধে ম্যাক্রোঁ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেন, ‘নতুন সাম্রাজ্যবাদের মুখোমুখি একটি অঞ্চলে গণতান্ত্রিক নীতি ও আইনের শাসনের ভিত্তিতে আমরা একটি তৃতীয় পথের প্রস্তাব দিতে চাই, যেখানে আমাদের সহযোগীদের হয়রানি করার বা একটি অস্থিতিশীল পরিকল্পনার দিকে নিয়ে যাওয়ার কোনও উদ্দেশ্য নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ম্যাক্রোঁকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, ‘আমরা আপনাকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সতেজ বাতাসের নিঃশ্বাস বলে মনে করি।

তিনি বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স বাংলাদেশের নীতি প্রণয়নে সার্বভৌমত্বকে সম্মান ও সমর্থন জানিয়ে বাংলাদেশ এবং ফ্রান্সের মধ্যে এই নতুন কৌশলগত অগ্রযাত্রা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমরা উভয়ই আশাবাদী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে বেরিয়ে ফরাসি কোম্পানি এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ।

চুক্তি অনুসারে প্রশস্ত বডির ১০টি ‘এ-৩৫০’ উড়োজাহাজ কেনার কথা রয়েছে বাংলাদেশ বিমানের জন্য। শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে মাক্রোঁ বলেন, ‘ইউরোপিয়ান এয়ারোস্পেস প্রতিষ্ঠানের ওপর ভরসা করায় আপনাকে ধন্যবাদ এবং এই ১০টি ‘এ-৩৫০’ এর প্রতিশ্রুতিটিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এদিন সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি শ্রদ্ধা জানান ম্যাখোঁ।

ভারতে জি-২০ সম্মেলন শেষে রবিবার রাত ৮টায় ঢাকায় পৌছালে ম্যাখোঁকে স্বাগত জানান শেখ হাসিনা। পরে নৈশ্যভোজে যোগদেন। ঢাকাই কাচ্চি বিরিয়ানি, ইলিশ, পিঠা রসগোল্লাসহ নানা পদের স্বাদ নিলেন ম্যাখোঁ। এখানেই শেষ নয়, আপ্যায়নের তালিকা বেশ লম্বা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ফ্রান্স-বাংলাদেশ দুটি সমঝোতা স্মারক সই

আপডেট সময় : ০৯:২৭:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা

রাষ্ট্রীয় সফরের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঢাকা ছেড়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। বৈঠকে অবকাঠামো, স্যাটেলাইটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে দুটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে ঢাকা ও প্যারিস। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ উপস্থিতিতে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং ফ্রান্সের ফ্রান্স ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (এফডিএ) মধ্যে ‘ইমপ্রুভিং আরবান গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রোগ্রাম’ বিষয়ে একটি ক্রেডিট-সুবিধা চুক্তি। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) এবং ফ্রান্সের এয়ারবাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস এসএএসের মধ্যে বঙ্গবন্ধু-২ আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম-সম্পর্কিত সহযোগিতার বিষয়ে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই)।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। ভাষা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিনিময়ে দুই দেশ তাদের পুরনো সম্পর্ক আরও জোরদার করবে বলে জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার কৌশলগত অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের প্রভাব বিস্তার রোধে ম্যাক্রোঁ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেন, ‘নতুন সাম্রাজ্যবাদের মুখোমুখি একটি অঞ্চলে গণতান্ত্রিক নীতি ও আইনের শাসনের ভিত্তিতে আমরা একটি তৃতীয় পথের প্রস্তাব দিতে চাই, যেখানে আমাদের সহযোগীদের হয়রানি করার বা একটি অস্থিতিশীল পরিকল্পনার দিকে নিয়ে যাওয়ার কোনও উদ্দেশ্য নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ম্যাক্রোঁকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, ‘আমরা আপনাকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সতেজ বাতাসের নিঃশ্বাস বলে মনে করি।

তিনি বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স বাংলাদেশের নীতি প্রণয়নে সার্বভৌমত্বকে সম্মান ও সমর্থন জানিয়ে বাংলাদেশ এবং ফ্রান্সের মধ্যে এই নতুন কৌশলগত অগ্রযাত্রা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমরা উভয়ই আশাবাদী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে বেরিয়ে ফরাসি কোম্পানি এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ।

চুক্তি অনুসারে প্রশস্ত বডির ১০টি ‘এ-৩৫০’ উড়োজাহাজ কেনার কথা রয়েছে বাংলাদেশ বিমানের জন্য। শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে মাক্রোঁ বলেন, ‘ইউরোপিয়ান এয়ারোস্পেস প্রতিষ্ঠানের ওপর ভরসা করায় আপনাকে ধন্যবাদ এবং এই ১০টি ‘এ-৩৫০’ এর প্রতিশ্রুতিটিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এদিন সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি শ্রদ্ধা জানান ম্যাখোঁ।

ভারতে জি-২০ সম্মেলন শেষে রবিবার রাত ৮টায় ঢাকায় পৌছালে ম্যাখোঁকে স্বাগত জানান শেখ হাসিনা। পরে নৈশ্যভোজে যোগদেন। ঢাকাই কাচ্চি বিরিয়ানি, ইলিশ, পিঠা রসগোল্লাসহ নানা পদের স্বাদ নিলেন ম্যাখোঁ। এখানেই শেষ নয়, আপ্যায়নের তালিকা বেশ লম্বা।