ঢাকা ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কোরবানির বর্জ্য ৮ ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণ করা হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক আনসার বাহিনীকে আরও দক্ষ-গতিশীল করতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী পুঁজিবাজার, এনবিআর ও ব্যাংক খাত বিকেন্দ্রীভূত করা হবে: অর্থমন্ত্রী সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম হত্যা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন ২০০১-২০২৬ সাল পর্যন্ত ২৫ বছরে সীমান্তে সাতবার সংঘর্ষে জড়ায় বিজিবি-বিএসএফ ঝিনাইগাতীতে বোরো ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদ কমপ্লেক্সে হামলায় নিহত ৩, দুই হামলাকারীর দেহ উদ্ধার পাকিস্তানে হামলার দুঃসাহস দেখালে ভারতের মানচিত্রই বদলে যাবে: ইসলামাবাদ হবিগঞ্জে জাল কাস্টমস নথিসহ কোটি টাকার ভারতীয় জিরা জব্দ, আটক ২ সিলেটের  সোনারহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলি, পাল্টা জবাব বিজিবির

ফুঁসে ওঠাছে পদ্মা, তিস্তা, সঙ্গী ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫ ২২৯ বার পড়া হয়েছে

ফুঁসে ওঠাছে পদ্মা, তিস্তা, সঙ্গী ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফুঁসে ওঠাছে পদ্মা, তিস্তা। সঙ্গে উত্তর জনপদের কুড়িগ্রামের ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রের পানির সমতল ফুলে ফেপে ওঠছে। ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। বুধবার বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এ তথ্য জানায়। পদ্মা-তিস্তার নিম্নাঞ্চল এখন জলমগ্ন।

১৪ আগস্ট পর্যন্ত উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, আসাম, মেঘালয় এবং অরুণাচল প্রদেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। পরবর্তী দুই থেকে চার দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা এবং দুধকুমার নদের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে ব্রহ্মপুত্রের পানি।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চলে লঘুচাপ সৃষ্ট হয়েছে। ফলে দেশের অভ্যন্তরে রংপুর ও ময়মনসিংহ এবং এর উজানে ভারতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

পাউবোর নিয়ন্ত্রণকক্ষের দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দুধকুমার নদের অববাহিকার পাটেশ্বরী গেজ স্টেশনে ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী গেজ স্টেশনে ৬৩ মিলিমিটার এবং তিস্তার কাউনিয়া গেজ স্টেশনে ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে এরই মধ্যে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীরবর্তী অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সঙ্গে চলছে ভাঙন। জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ও নাজিমখাঁন এলাকার শতাধিক পরিবার ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এ অবস্থায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের দাবি জানিয়েছে।

ফুঁসে ওঠাছে পদ্মা, তিস্তা, সঙ্গী ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র
ফুঁসে ওঠাছে পদ্মা, তিস্তা, সঙ্গী ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র

তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে নাজিমখাঁন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাঁসারপাড় গ্রামে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের খনন করা একটি খাল এলাকাবাসীর জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। লোকালয় ও কৃষিজমির অতিরিক্ত পানি খাল হয়ে নদীতে পতিত হওয়ার কথা থাকলেও তিস্তার পানি বেড়ে খালের ভেতর দিয়ে তীব্র বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে এলাকার মানুষের ভিটামাটি ভাঙন হুমকিতে পড়েছে। এখানের শতাধিক বসতবাড়িসহ একটি মাদ্রাসা ভাঙন হুমকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

হাঁসারপাড় গ্রামের বাসিন্দা অনুকূল-সুজনদেও অভিযোগ, বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ খালটি কাটার সময় ভেকু মেশিন দিয়া খাড়া কাটিং দিছে। আমরা এভাবে কাটতে নিষেধ করছিলাম। কিন্তু তাদের লোকজন শোনে নাই। লোকালয় ও নিচু এলাকার পানি খাল দিয়ে নেমে নদীতে পড়ার কথা। কিন্তু এখন উল্টা তিস্তার পানি বেড়ে খালের ভিতর দিয়া তীব্র বেগে ঢুকে ভাঙন শুরু হইছে। আমরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছি।

ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। নাগেশ্বরী উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুধকুমার তীরবর্তী কেদার ও রায়গঞ্জ ইউনিয়নের কিছু নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করছে। এখনও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তীরবর্তী অঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

ব্রহ্মপুত্র তীরবর্তী উলিপুরের বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা মতিয়ার রহমান বলেন, পানি বাড়তেছে। নদের মাঝের কিছু নিচু চরে পানি ঢুকতেছে। তবে এখনও বাড়িঘরে পানি উঠে নাই। এমন করি বাড়তে থাকলে বন্যা হইতে পারে।

পাউবোর কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, পানি বাড়ছে। নাজিমখাঁন এলাকায় তিস্তার পানির ভাঙনরোধে আগে ৫০০ ব্যাগ দেওয়া হয়েছিল। এখন আরও এক হাজার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এগুলো দিয়ে যদি ভাঙন কিছুটা ঠেকানো যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ফুঁসে ওঠাছে পদ্মা, তিস্তা, সঙ্গী ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র

আপডেট সময় : ০৮:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫

ফুঁসে ওঠাছে পদ্মা, তিস্তা। সঙ্গে উত্তর জনপদের কুড়িগ্রামের ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রের পানির সমতল ফুলে ফেপে ওঠছে। ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। বুধবার বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এ তথ্য জানায়। পদ্মা-তিস্তার নিম্নাঞ্চল এখন জলমগ্ন।

১৪ আগস্ট পর্যন্ত উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, আসাম, মেঘালয় এবং অরুণাচল প্রদেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। পরবর্তী দুই থেকে চার দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা এবং দুধকুমার নদের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে ব্রহ্মপুত্রের পানি।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চলে লঘুচাপ সৃষ্ট হয়েছে। ফলে দেশের অভ্যন্তরে রংপুর ও ময়মনসিংহ এবং এর উজানে ভারতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

পাউবোর নিয়ন্ত্রণকক্ষের দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দুধকুমার নদের অববাহিকার পাটেশ্বরী গেজ স্টেশনে ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী গেজ স্টেশনে ৬৩ মিলিমিটার এবং তিস্তার কাউনিয়া গেজ স্টেশনে ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে এরই মধ্যে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীরবর্তী অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সঙ্গে চলছে ভাঙন। জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ও নাজিমখাঁন এলাকার শতাধিক পরিবার ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এ অবস্থায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের দাবি জানিয়েছে।

ফুঁসে ওঠাছে পদ্মা, তিস্তা, সঙ্গী ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র
ফুঁসে ওঠাছে পদ্মা, তিস্তা, সঙ্গী ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র

তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে নাজিমখাঁন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাঁসারপাড় গ্রামে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের খনন করা একটি খাল এলাকাবাসীর জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। লোকালয় ও কৃষিজমির অতিরিক্ত পানি খাল হয়ে নদীতে পতিত হওয়ার কথা থাকলেও তিস্তার পানি বেড়ে খালের ভেতর দিয়ে তীব্র বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে এলাকার মানুষের ভিটামাটি ভাঙন হুমকিতে পড়েছে। এখানের শতাধিক বসতবাড়িসহ একটি মাদ্রাসা ভাঙন হুমকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

হাঁসারপাড় গ্রামের বাসিন্দা অনুকূল-সুজনদেও অভিযোগ, বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ খালটি কাটার সময় ভেকু মেশিন দিয়া খাড়া কাটিং দিছে। আমরা এভাবে কাটতে নিষেধ করছিলাম। কিন্তু তাদের লোকজন শোনে নাই। লোকালয় ও নিচু এলাকার পানি খাল দিয়ে নেমে নদীতে পড়ার কথা। কিন্তু এখন উল্টা তিস্তার পানি বেড়ে খালের ভিতর দিয়া তীব্র বেগে ঢুকে ভাঙন শুরু হইছে। আমরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছি।

ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। নাগেশ্বরী উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুধকুমার তীরবর্তী কেদার ও রায়গঞ্জ ইউনিয়নের কিছু নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করছে। এখনও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তীরবর্তী অঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

ব্রহ্মপুত্র তীরবর্তী উলিপুরের বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা মতিয়ার রহমান বলেন, পানি বাড়তেছে। নদের মাঝের কিছু নিচু চরে পানি ঢুকতেছে। তবে এখনও বাড়িঘরে পানি উঠে নাই। এমন করি বাড়তে থাকলে বন্যা হইতে পারে।

পাউবোর কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, পানি বাড়ছে। নাজিমখাঁন এলাকায় তিস্তার পানির ভাঙনরোধে আগে ৫০০ ব্যাগ দেওয়া হয়েছিল। এখন আরও এক হাজার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এগুলো দিয়ে যদি ভাঙন কিছুটা ঠেকানো যায়।