ঢাকা ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জব্বারের বলীখেলায় ইতিহাস: হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ উত্তরাঞ্চলে অতিবৃষ্টির শঙ্কা: সিলেট-সুনামগঞ্জে সাময়িক বন্যার পূর্বাভাস বিয়াম স্কুলে শিশুদের সঙ্গে প্রাণবন্ত সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী উদ্ভাবকদের স্বীকৃতি ও সুরক্ষায় আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উত্তরণ কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের ২৯ তম বার্ষিক সাধারণ সভা পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে সংস্কারে জোর দিচ্ছে সরকার : অর্থমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা: নজরদারি বাড়িয়েছে সিটিটিসি নির্বাচনের আগেই অস্থিতিশীলতার ষড়যন্ত্র: জামায়াতকে কড়া জবাব মির্জা ফখরুলের লোডশেডিং ৩০০০ মেগাওয়াট : গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ছে ১৭ জেলায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত, ঢাকায় তাপমাত্রা সামান্য কমলেও ভ্যাপসা গরম

ফুঁসে ওঠাছে পদ্মা, তিস্তা, সঙ্গী ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫ ২২২ বার পড়া হয়েছে

ফুঁসে ওঠাছে পদ্মা, তিস্তা, সঙ্গী ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফুঁসে ওঠাছে পদ্মা, তিস্তা। সঙ্গে উত্তর জনপদের কুড়িগ্রামের ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রের পানির সমতল ফুলে ফেপে ওঠছে। ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। বুধবার বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এ তথ্য জানায়। পদ্মা-তিস্তার নিম্নাঞ্চল এখন জলমগ্ন।

১৪ আগস্ট পর্যন্ত উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, আসাম, মেঘালয় এবং অরুণাচল প্রদেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। পরবর্তী দুই থেকে চার দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা এবং দুধকুমার নদের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে ব্রহ্মপুত্রের পানি।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চলে লঘুচাপ সৃষ্ট হয়েছে। ফলে দেশের অভ্যন্তরে রংপুর ও ময়মনসিংহ এবং এর উজানে ভারতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

পাউবোর নিয়ন্ত্রণকক্ষের দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দুধকুমার নদের অববাহিকার পাটেশ্বরী গেজ স্টেশনে ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী গেজ স্টেশনে ৬৩ মিলিমিটার এবং তিস্তার কাউনিয়া গেজ স্টেশনে ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে এরই মধ্যে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীরবর্তী অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সঙ্গে চলছে ভাঙন। জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ও নাজিমখাঁন এলাকার শতাধিক পরিবার ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এ অবস্থায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের দাবি জানিয়েছে।

ফুঁসে ওঠাছে পদ্মা, তিস্তা, সঙ্গী ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র
ফুঁসে ওঠাছে পদ্মা, তিস্তা, সঙ্গী ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র

তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে নাজিমখাঁন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাঁসারপাড় গ্রামে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের খনন করা একটি খাল এলাকাবাসীর জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। লোকালয় ও কৃষিজমির অতিরিক্ত পানি খাল হয়ে নদীতে পতিত হওয়ার কথা থাকলেও তিস্তার পানি বেড়ে খালের ভেতর দিয়ে তীব্র বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে এলাকার মানুষের ভিটামাটি ভাঙন হুমকিতে পড়েছে। এখানের শতাধিক বসতবাড়িসহ একটি মাদ্রাসা ভাঙন হুমকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

হাঁসারপাড় গ্রামের বাসিন্দা অনুকূল-সুজনদেও অভিযোগ, বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ খালটি কাটার সময় ভেকু মেশিন দিয়া খাড়া কাটিং দিছে। আমরা এভাবে কাটতে নিষেধ করছিলাম। কিন্তু তাদের লোকজন শোনে নাই। লোকালয় ও নিচু এলাকার পানি খাল দিয়ে নেমে নদীতে পড়ার কথা। কিন্তু এখন উল্টা তিস্তার পানি বেড়ে খালের ভিতর দিয়া তীব্র বেগে ঢুকে ভাঙন শুরু হইছে। আমরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছি।

ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। নাগেশ্বরী উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুধকুমার তীরবর্তী কেদার ও রায়গঞ্জ ইউনিয়নের কিছু নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করছে। এখনও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তীরবর্তী অঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

ব্রহ্মপুত্র তীরবর্তী উলিপুরের বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা মতিয়ার রহমান বলেন, পানি বাড়তেছে। নদের মাঝের কিছু নিচু চরে পানি ঢুকতেছে। তবে এখনও বাড়িঘরে পানি উঠে নাই। এমন করি বাড়তে থাকলে বন্যা হইতে পারে।

পাউবোর কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, পানি বাড়ছে। নাজিমখাঁন এলাকায় তিস্তার পানির ভাঙনরোধে আগে ৫০০ ব্যাগ দেওয়া হয়েছিল। এখন আরও এক হাজার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এগুলো দিয়ে যদি ভাঙন কিছুটা ঠেকানো যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ফুঁসে ওঠাছে পদ্মা, তিস্তা, সঙ্গী ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র

আপডেট সময় : ০৮:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫

ফুঁসে ওঠাছে পদ্মা, তিস্তা। সঙ্গে উত্তর জনপদের কুড়িগ্রামের ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রের পানির সমতল ফুলে ফেপে ওঠছে। ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। বুধবার বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এ তথ্য জানায়। পদ্মা-তিস্তার নিম্নাঞ্চল এখন জলমগ্ন।

১৪ আগস্ট পর্যন্ত উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, আসাম, মেঘালয় এবং অরুণাচল প্রদেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। পরবর্তী দুই থেকে চার দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা এবং দুধকুমার নদের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে ব্রহ্মপুত্রের পানি।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চলে লঘুচাপ সৃষ্ট হয়েছে। ফলে দেশের অভ্যন্তরে রংপুর ও ময়মনসিংহ এবং এর উজানে ভারতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

পাউবোর নিয়ন্ত্রণকক্ষের দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দুধকুমার নদের অববাহিকার পাটেশ্বরী গেজ স্টেশনে ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী গেজ স্টেশনে ৬৩ মিলিমিটার এবং তিস্তার কাউনিয়া গেজ স্টেশনে ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে এরই মধ্যে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীরবর্তী অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সঙ্গে চলছে ভাঙন। জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ও নাজিমখাঁন এলাকার শতাধিক পরিবার ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এ অবস্থায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের দাবি জানিয়েছে।

ফুঁসে ওঠাছে পদ্মা, তিস্তা, সঙ্গী ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র
ফুঁসে ওঠাছে পদ্মা, তিস্তা, সঙ্গী ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র

তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে নাজিমখাঁন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাঁসারপাড় গ্রামে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের খনন করা একটি খাল এলাকাবাসীর জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। লোকালয় ও কৃষিজমির অতিরিক্ত পানি খাল হয়ে নদীতে পতিত হওয়ার কথা থাকলেও তিস্তার পানি বেড়ে খালের ভেতর দিয়ে তীব্র বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে এলাকার মানুষের ভিটামাটি ভাঙন হুমকিতে পড়েছে। এখানের শতাধিক বসতবাড়িসহ একটি মাদ্রাসা ভাঙন হুমকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

হাঁসারপাড় গ্রামের বাসিন্দা অনুকূল-সুজনদেও অভিযোগ, বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ খালটি কাটার সময় ভেকু মেশিন দিয়া খাড়া কাটিং দিছে। আমরা এভাবে কাটতে নিষেধ করছিলাম। কিন্তু তাদের লোকজন শোনে নাই। লোকালয় ও নিচু এলাকার পানি খাল দিয়ে নেমে নদীতে পড়ার কথা। কিন্তু এখন উল্টা তিস্তার পানি বেড়ে খালের ভিতর দিয়া তীব্র বেগে ঢুকে ভাঙন শুরু হইছে। আমরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছি।

ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। নাগেশ্বরী উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুধকুমার তীরবর্তী কেদার ও রায়গঞ্জ ইউনিয়নের কিছু নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করছে। এখনও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তীরবর্তী অঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

ব্রহ্মপুত্র তীরবর্তী উলিপুরের বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা মতিয়ার রহমান বলেন, পানি বাড়তেছে। নদের মাঝের কিছু নিচু চরে পানি ঢুকতেছে। তবে এখনও বাড়িঘরে পানি উঠে নাই। এমন করি বাড়তে থাকলে বন্যা হইতে পারে।

পাউবোর কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, পানি বাড়ছে। নাজিমখাঁন এলাকায় তিস্তার পানির ভাঙনরোধে আগে ৫০০ ব্যাগ দেওয়া হয়েছিল। এখন আরও এক হাজার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এগুলো দিয়ে যদি ভাঙন কিছুটা ঠেকানো যায়।