ঢাকা ০৭:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পহেলা বৈশাখ আবহমান বাংলার শিকড় সংস্কৃতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৩ ২৭৭ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনিরুদ্ধ

পহেলা বৈশাখ তথা বাংলানববর্ষ প্রাণের উৎসব। অসম্প্রদায়িক বাঙলার মানুষ যুগ যুগ ধরে শিকড় সংস্কৃতির সড়কে একত্রে হেটে চলেছে। পহেলা বৈশাক মানেই মেলা এবং বাঙালিয়ানার নানা আয়োজন। লোকজ এই সংস্কৃতিতে মিশে আছে বাঙলার সোঁদা মাটির গন্ধ। এর টানে না এসে পারা যায় বলুন?

উচ্ছ্বাসমাখা কণ্ঠে কথাগুলো বলেন চিকিৎসক ফাহমিদা। চৈত্রের খড়তাপে নগর জীবন যখন হাসফাস অবস্থা তখন বাঙালি সাজে নিজেকে সজিব রেখেছেন তিনি। একমুখ হেসে বলেন, কি আর বলব, পহেলা বৈশাখ ঘিরে কত রকমের আয়োজন হয়ে থাকে বাংলার বুকে। এটিই মূলত আমাদের আদি সংস্কৃতি। এসো হে বৈশাখ এসো এসো-এই সুরে বাংলা নববর্ষকে আহ্বান জানানো হয়। এই দিনটির জন্য বাঙালি কেন, গোটা বিশ্বের মানুষের উৎসব পহেলা বৈশাখ।

বিগত দুটো বছর অতিমারির কারণে বাংলায় নববর্ষ কেন, কোন উৎসবই পালন হয়ে ওঠেনি। হৃদয় রক্তক্ষরণ নিয়েই আমাদের কাটাতে হয়েছে। পহেলা ফাল্গুনের বসন্ত উৎসব, ঈদ, দুর্গাপুজাসহ নানা আয়োজনের মাঠ ছিল ফিকে। দুর্যোগের পর্দা সরিয়ে দু’বছর পর আমরা পা রেখেছি শঙ্কামুক্ত পরিবেশে। ফলে এবারের নববর্ষের উৎসব ঘিরে আনন্দটা একটু বেশি।

ডা. ফামিদা আরও জানালেন, ইটপাথরের নগরে লোকজ সাংস্কৃতির সঙ্গে আগামপ্রজকে পরিচয় করানোটা জরুরী। আবহমান সংস্কৃতি থেকে আমরা অনেকটা দূরে সরে যাচ্ছি। এটি যে কেবল বাংলাদেশের বেলায় হচ্ছে, তা কিন্তু নয়। আপনি যদি বিশ্বের দিকে তাকান, তাহলে দেখতে পাবেন মানুষে মানুষে বন্ধনটা খুব একটা মজবুত নয়। সবাই কেমন নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত। সমাজকে এতোটুকু সময় দিতে পারি না। এটা খুব সুখকর বার্তা নয়।

বোনের ছেলে আবরার ফেরদৌস। খালামনির আঁচ ছাড়তে চায় না। চারুকলার স্টল থেকে বিভিন্ন রকমের খেলা সমাগ্রী কিনে দিলেন খালামনি। আবরার বাবু খুশিতে আটখানা। সাদা জামদানি পরিহিত ফাহমিদা আচর-আচরণে আধুরক রুচিশীল। পাবলিক সার্ভিসে উচ্চতর ডিগ্রি। এখন পেশায় চিকিৎসক। তাও আবার ফরেনসিক বিভাগে। ব্যতিক্রম কিছুাটাই আমার ইচ্ছে, স্মিত হেসে জানালেন এই চিকিৎসক।

পহেলা বৈশাখ ব্যস্ত নগর জীবনের সেতুবন্ধন। এ অনুষ্ঠান পরিণত হয় প্রত্যেকটি বাঙালির কাছে শিকড়ের মিলনমেলায়। ধর্ম, বর্ণ এখানে বিচার্য নয়, সকল কিছুর ঊর্ধ্বে বাঙালি জাতির আস্থার এবং প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ তথা বাংলা নববর্ষ। আর এই দিনটির সঙ্গে মঙ্গল শোভাযাত্রায় হাটা এই উৎসবকে আরও বর্ণময় করে তোলে।

বাংলা ভাষাভাষী আদিবাসী ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মানুষের জীবন স্বপ্নময় নতুন বছরের শুভ সূচনা ঘটায়। জীর্ণ-পুরোনোকে পেছনে ফেলে সম্ভাবনার নতুন বছরে প্রবেশ করে বাঙালি জাতি। তাই সহজভাবেই উচ্চারণ করা যায়, ‘হাত বাড়ালেই বন্ধ, পা বাড়ালেই পথ’।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পহেলা বৈশাখ আবহমান বাংলার শিকড় সংস্কৃতি

আপডেট সময় : ১২:১০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৩

অনিরুদ্ধ

পহেলা বৈশাখ তথা বাংলানববর্ষ প্রাণের উৎসব। অসম্প্রদায়িক বাঙলার মানুষ যুগ যুগ ধরে শিকড় সংস্কৃতির সড়কে একত্রে হেটে চলেছে। পহেলা বৈশাক মানেই মেলা এবং বাঙালিয়ানার নানা আয়োজন। লোকজ এই সংস্কৃতিতে মিশে আছে বাঙলার সোঁদা মাটির গন্ধ। এর টানে না এসে পারা যায় বলুন?

উচ্ছ্বাসমাখা কণ্ঠে কথাগুলো বলেন চিকিৎসক ফাহমিদা। চৈত্রের খড়তাপে নগর জীবন যখন হাসফাস অবস্থা তখন বাঙালি সাজে নিজেকে সজিব রেখেছেন তিনি। একমুখ হেসে বলেন, কি আর বলব, পহেলা বৈশাখ ঘিরে কত রকমের আয়োজন হয়ে থাকে বাংলার বুকে। এটিই মূলত আমাদের আদি সংস্কৃতি। এসো হে বৈশাখ এসো এসো-এই সুরে বাংলা নববর্ষকে আহ্বান জানানো হয়। এই দিনটির জন্য বাঙালি কেন, গোটা বিশ্বের মানুষের উৎসব পহেলা বৈশাখ।

বিগত দুটো বছর অতিমারির কারণে বাংলায় নববর্ষ কেন, কোন উৎসবই পালন হয়ে ওঠেনি। হৃদয় রক্তক্ষরণ নিয়েই আমাদের কাটাতে হয়েছে। পহেলা ফাল্গুনের বসন্ত উৎসব, ঈদ, দুর্গাপুজাসহ নানা আয়োজনের মাঠ ছিল ফিকে। দুর্যোগের পর্দা সরিয়ে দু’বছর পর আমরা পা রেখেছি শঙ্কামুক্ত পরিবেশে। ফলে এবারের নববর্ষের উৎসব ঘিরে আনন্দটা একটু বেশি।

ডা. ফামিদা আরও জানালেন, ইটপাথরের নগরে লোকজ সাংস্কৃতির সঙ্গে আগামপ্রজকে পরিচয় করানোটা জরুরী। আবহমান সংস্কৃতি থেকে আমরা অনেকটা দূরে সরে যাচ্ছি। এটি যে কেবল বাংলাদেশের বেলায় হচ্ছে, তা কিন্তু নয়। আপনি যদি বিশ্বের দিকে তাকান, তাহলে দেখতে পাবেন মানুষে মানুষে বন্ধনটা খুব একটা মজবুত নয়। সবাই কেমন নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত। সমাজকে এতোটুকু সময় দিতে পারি না। এটা খুব সুখকর বার্তা নয়।

বোনের ছেলে আবরার ফেরদৌস। খালামনির আঁচ ছাড়তে চায় না। চারুকলার স্টল থেকে বিভিন্ন রকমের খেলা সমাগ্রী কিনে দিলেন খালামনি। আবরার বাবু খুশিতে আটখানা। সাদা জামদানি পরিহিত ফাহমিদা আচর-আচরণে আধুরক রুচিশীল। পাবলিক সার্ভিসে উচ্চতর ডিগ্রি। এখন পেশায় চিকিৎসক। তাও আবার ফরেনসিক বিভাগে। ব্যতিক্রম কিছুাটাই আমার ইচ্ছে, স্মিত হেসে জানালেন এই চিকিৎসক।

পহেলা বৈশাখ ব্যস্ত নগর জীবনের সেতুবন্ধন। এ অনুষ্ঠান পরিণত হয় প্রত্যেকটি বাঙালির কাছে শিকড়ের মিলনমেলায়। ধর্ম, বর্ণ এখানে বিচার্য নয়, সকল কিছুর ঊর্ধ্বে বাঙালি জাতির আস্থার এবং প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ তথা বাংলা নববর্ষ। আর এই দিনটির সঙ্গে মঙ্গল শোভাযাত্রায় হাটা এই উৎসবকে আরও বর্ণময় করে তোলে।

বাংলা ভাষাভাষী আদিবাসী ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মানুষের জীবন স্বপ্নময় নতুন বছরের শুভ সূচনা ঘটায়। জীর্ণ-পুরোনোকে পেছনে ফেলে সম্ভাবনার নতুন বছরে প্রবেশ করে বাঙালি জাতি। তাই সহজভাবেই উচ্চারণ করা যায়, ‘হাত বাড়ালেই বন্ধ, পা বাড়ালেই পথ’।