ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উত্তরাঞ্চলে অতিবৃষ্টির শঙ্কা: সিলেট-সুনামগঞ্জে সাময়িক বন্যার পূর্বাভাস বিয়াম স্কুলে শিশুদের সঙ্গে প্রাণবন্ত সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী উদ্ভাবকদের স্বীকৃতি ও সুরক্ষায় আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উত্তরণ কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের ২৯ তম বার্ষিক সাধারণ সভা পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে সংস্কারে জোর দিচ্ছে সরকার : অর্থমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা: নজরদারি বাড়িয়েছে সিটিটিসি নির্বাচনের আগেই অস্থিতিশীলতার ষড়যন্ত্র: জামায়াতকে কড়া জবাব মির্জা ফখরুলের লোডশেডিং ৩০০০ মেগাওয়াট : গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ছে ১৭ জেলায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত, ঢাকায় তাপমাত্রা সামান্য কমলেও ভ্যাপসা গরম লাইনে দাঁড়িয়ে স্বস্তি: অল্প সময়েই তেল পেলেন বাইকচালক মোহাম্মদ আলী

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ সরস্বতী পূজা, ‘গ্রিনেসবুকে’ উদ্যোগ

আমিনুল হক ভূইয়া
  • আপডেট সময় : ০৮:২৩:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮৯ বার পড়া হয়েছে

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ সরস্বতী পূজা, ‘গ্রিনেসবুকে’ উদ্যোগ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জ্ঞান, বিদ্যা ও প্রজ্ঞার দেবী সরস্বতীর আরাধনায় আবারও মুখর হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণ। আজ শুক্রবার জগন্নাথ হল মাঠে একযোগে ৭২টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ সরস্বতী পূজা। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন আয়োজকেরা।

এবছর পূজার আয়োজনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলতে ‘গ্রিনেসবুকে’ নাম তোলার পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে জগন্নাথ হলের প্রার্থনা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে ব্যস্ততার দৃশ্য। হল পুকুরের মাঝখানে প্রতিমা নির্মাণের শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। প্রতিবছরের মতো এবারও এখানেই স্থাপন করা হচ্ছে সবচেয়ে বড় সরস্বতী প্রতিমা।

শিল্পীদের নিপুণ হাতে ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে বিদ্যাদেবীর শান্ত, স্নিগ্ধ অবয়ব-হাতে বীণা, পাশে রাজহাঁস, মুখে গভীর মমতা ও জ্ঞানের দীপ্তি। চারুকলার উদ্যোগে জগন্নাথ হল পুকুরে স্থাপন করা ২৫ ফুটের সরস্বতী প্রতিমাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রতিমা বলে জানালেন, চারুশিল্পী রুপা ও পারভেজ।

জগন্নাথ হল মাঠজুড়ে সারি সারি রঙিন মণ্ডপ। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্ত, শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের ঢল নামবে এখানে। পূজা-অর্চনার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে হাতে খড়ি শিক্ষাজীবনের প্রথম আনুষ্ঠানিক সূচনা। ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে অভিভাবকেরা বিদ্যাদেবীর চরণে বসিয়ে দেবেন অক্ষরচর্চার প্রথম পাঠ।

এ দৃশ্য কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জ্ঞানের উত্তরাধিকার বহনের এক মানবিক প্রতীক। সরস্বতী পূজাকে ঘিরে শুধু প্রতিমা আর মণ্ডপেই সীমাবদ্ধ নয় উৎসবের আমেজ। পুরো এলাকা যেন রূপ নিয়েছে এক মিলনমেলায়।

ধর্ম, বয়স ও পেশার ভেদাভেদ ভুলে মানুষ এখানে এক কাতারে মিলিত হয়। বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির এই চিত্রই বাংলাদেশের উৎসব সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় শক্তি।

এবারের পূজার অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ‘গ্রিনেসবুকে’ নাম লেখানোর উদ্যোগ। প্লাস্টিক ও কৃত্রিম উপকরণের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পূজা উপলক্ষে ব্যবহার করা সামগ্রী, আলোকসজ্জা ও ব্যবস্থাপনাতেও পরিবেশবান্ধব চিন্তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। আয়োজকদের ভাষায়, বিদ্যার দেবীর আরাধনা মানেই প্রকৃতি ও মানবতার প্রতিও দায়বদ্ধ থাকা।

অপর দিকে সরস্বতী পূজাকে সামনে রেখে ঢাকার রমনা কালী মন্দিরে বসেছে প্রতিমার হাট। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে ভিড় করছেন পূজারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। নানা আকার ও নকশার প্লাস্টার ও মাটির প্রতিমায় ভরে উঠেছে মন্দির প্রাঙ্গণ। কেউ দরদাম করছেন, কেউ পছন্দের প্রতিমা বেছে নিচ্ছেন। শিল্পীরা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক এই পূজার গুরুত্ব আলাদা। শিক্ষার্থীদের আগ্রহই তাদের সৃষ্টির প্রধান প্রেরণা। যদিও আগের তুলনায় খরচ বেড়েছে, তবু ক্রেতাদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি।

বাংলাদেশে প্রতিটি উৎসবই সার্বজনীন। সরস্বতী পূজাও তার ব্যতিক্রম নয়। খাওয়া-দাওয়া, আনন্দ আর মিলনের মধ্য দিয়ে এই পূজা কেবল ধর্মীয় আচার হিসেবে নয়, বরং মানবিক চেতনা, সম্প্রীতি ও জ্ঞানের প্রতি সম্মিলিত শ্রদ্ধার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। জগন্নাথ হল মাঠে অনুষ্ঠিত এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই আয়োজন সেই সত্যকেই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ সরস্বতী পূজা, ‘গ্রিনেসবুকে’ উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৮:২৩:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

জ্ঞান, বিদ্যা ও প্রজ্ঞার দেবী সরস্বতীর আরাধনায় আবারও মুখর হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণ। আজ শুক্রবার জগন্নাথ হল মাঠে একযোগে ৭২টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ সরস্বতী পূজা। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন আয়োজকেরা।

এবছর পূজার আয়োজনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলতে ‘গ্রিনেসবুকে’ নাম তোলার পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে জগন্নাথ হলের প্রার্থনা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে ব্যস্ততার দৃশ্য। হল পুকুরের মাঝখানে প্রতিমা নির্মাণের শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। প্রতিবছরের মতো এবারও এখানেই স্থাপন করা হচ্ছে সবচেয়ে বড় সরস্বতী প্রতিমা।

শিল্পীদের নিপুণ হাতে ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে বিদ্যাদেবীর শান্ত, স্নিগ্ধ অবয়ব-হাতে বীণা, পাশে রাজহাঁস, মুখে গভীর মমতা ও জ্ঞানের দীপ্তি। চারুকলার উদ্যোগে জগন্নাথ হল পুকুরে স্থাপন করা ২৫ ফুটের সরস্বতী প্রতিমাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রতিমা বলে জানালেন, চারুশিল্পী রুপা ও পারভেজ।

জগন্নাথ হল মাঠজুড়ে সারি সারি রঙিন মণ্ডপ। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্ত, শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের ঢল নামবে এখানে। পূজা-অর্চনার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে হাতে খড়ি শিক্ষাজীবনের প্রথম আনুষ্ঠানিক সূচনা। ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে অভিভাবকেরা বিদ্যাদেবীর চরণে বসিয়ে দেবেন অক্ষরচর্চার প্রথম পাঠ।

এ দৃশ্য কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জ্ঞানের উত্তরাধিকার বহনের এক মানবিক প্রতীক। সরস্বতী পূজাকে ঘিরে শুধু প্রতিমা আর মণ্ডপেই সীমাবদ্ধ নয় উৎসবের আমেজ। পুরো এলাকা যেন রূপ নিয়েছে এক মিলনমেলায়।

ধর্ম, বয়স ও পেশার ভেদাভেদ ভুলে মানুষ এখানে এক কাতারে মিলিত হয়। বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির এই চিত্রই বাংলাদেশের উৎসব সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় শক্তি।

এবারের পূজার অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ‘গ্রিনেসবুকে’ নাম লেখানোর উদ্যোগ। প্লাস্টিক ও কৃত্রিম উপকরণের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পূজা উপলক্ষে ব্যবহার করা সামগ্রী, আলোকসজ্জা ও ব্যবস্থাপনাতেও পরিবেশবান্ধব চিন্তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। আয়োজকদের ভাষায়, বিদ্যার দেবীর আরাধনা মানেই প্রকৃতি ও মানবতার প্রতিও দায়বদ্ধ থাকা।

অপর দিকে সরস্বতী পূজাকে সামনে রেখে ঢাকার রমনা কালী মন্দিরে বসেছে প্রতিমার হাট। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে ভিড় করছেন পূজারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। নানা আকার ও নকশার প্লাস্টার ও মাটির প্রতিমায় ভরে উঠেছে মন্দির প্রাঙ্গণ। কেউ দরদাম করছেন, কেউ পছন্দের প্রতিমা বেছে নিচ্ছেন। শিল্পীরা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক এই পূজার গুরুত্ব আলাদা। শিক্ষার্থীদের আগ্রহই তাদের সৃষ্টির প্রধান প্রেরণা। যদিও আগের তুলনায় খরচ বেড়েছে, তবু ক্রেতাদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি।

বাংলাদেশে প্রতিটি উৎসবই সার্বজনীন। সরস্বতী পূজাও তার ব্যতিক্রম নয়। খাওয়া-দাওয়া, আনন্দ আর মিলনের মধ্য দিয়ে এই পূজা কেবল ধর্মীয় আচার হিসেবে নয়, বরং মানবিক চেতনা, সম্প্রীতি ও জ্ঞানের প্রতি সম্মিলিত শ্রদ্ধার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। জগন্নাথ হল মাঠে অনুষ্ঠিত এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই আয়োজন সেই সত্যকেই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।