ঢাকা ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিশুহত্যার অভিযুক্ত বাবা-ছেলেকে ঘিরে আদিতমারীতে রণক্ষেত্র, এসপিসহ আহত ২০ ইরান-মার্কিন চুক্তি আলোচনায় তিন হাজার কোটি ডলার রাজশাহীর আম ও কালাইরুটি স্বাদে মুগ্ধ মার্কিন অতিথি   বেনজীরকে বিচারের মুখোমুখি করতে দেশে ফেরানো প্রক্রিয়া চলছে: উপদেষ্টা চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে সবুজ অবকাঠামো নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর তারল্য  সকট মোকাবিলায় ২,৫০০ কোটি টাকার ঋণ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক  অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী  দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু অভিনেত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হত্যার অভিযোগে স্বামী কারাগারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি, ঘোষণা পাকিস্তানের

কোরবানির পশুতে স্বস্তি, বাড়ছে খামারিদের খরচের চাপ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ ১৩৯ বার পড়া হয়েছে

কোরবানির পশুতে স্বস্তি, বাড়ছে খামারিদের খরচের চাপ ফোইল ছবি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একসময় কোরবানির ঈদ সামনে এলেই সীমান্তপথে ভারতীয় গরু আসবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতো। পশুর হাটে দেখা দিত অস্থিরতা, বাড়ত দামও। তবে গত কয়েক বছরে সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন দেশীয় খামারেই কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণ হচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খামারে লালন-পালন করা গরু, ছাগল ও মহিষে ভরে উঠছে হাট। সরকারি হিসাব বলছে, এবার কোরবানির চাহিদা মিটিয়েও দেশে প্রায় ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। ফলে কোরবানির পশু উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কোরবানির জন্য সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি পশু। এর বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ রয়েছে ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি, ছাগল ও ভেড়া ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি এবং অন্যান্য প্রজাতির পশু রয়েছে ৫ হাজার ৬৫৫টি।

গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানেও একই ধারা দেখা গেছে। ২০২৩ সালে দেশে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ পশু উৎপাদিত হলেও কোরবানি হয়েছিল প্রায় ১ কোটি। ২০২৪ সালে উৎপাদন ছিল প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ, আর কোরবানি হয় প্রায় ৯৫ লাখ পশু।

২০২৫ সালে উৎপাদন দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখে, যেখানে কোরবানি হয়েছিল প্রায় ৯০ লাখ পশু। অর্থাৎ উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও চাহিদা তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

তবে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও খামারিদের মধ্যে স্বস্তি নেই। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পশুখাদ্য, শ্রমিক, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধিতে মাঝারি ও বড় খামারিরা বেশি চাপে পড়েছেন।

রাজধানীর উত্তরখানের ময়নারটেক এলাকার খামারি রবিউস সানি ২০০৭ সাল থেকে ‘এইচ আর এগ্রো ফার্মস’-এর মাধ্যমে গরু ও ছাগল পালন করছেন। তিনি বলেন, খাবারের দাম আগের মতো থাকলেও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় অনেক বেড়েছে।

অথচ পশুর বাজারদর গত বছরের কাছাকাছিই রয়েছে। ছোট গরুর চাহিদা বেশি থাকায় সেগুলোর দাম তুলনামূলক ভালো পাওয়া যাচ্ছে, তবে বড় গরুর বাজার ততটা শক্তিশালী নয়।

কুষ্টিয়াভিত্তিক আদিল ডেইরি ফার্মের মালিক আদিল হোসেন জানান, এবার তিনি ১৫০ থেকে ২০০ গরু বাজারে আনার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় মাঝারি আকারের গরুর দাম গত বছরের তুলনায় বাড়তে পারে।

আগে যে গরু এক লাখ টাকার কিছু বেশি দামে বিক্রি হতো, এবার সেটির দাম দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি যেতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

খামারিদের সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তাদের মতে, বড় গরুর চাহিদা কমে যাওয়ায় বড় খামারিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন। খাদ্য ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় অনেকেই লোকসানের আশঙ্কা করছেন। কেউ কেউ খামার গুটিয়ে নেওয়ার কথাও ভাবছেন।

বিভাগভিত্তিক তথ্যেও পশুর সরবরাহে বৈষম্যের চিত্র দেখা গেছে। রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে চাহিদার তুলনায় পশুর ঘাটতি রয়েছে। ঢাকায় সম্ভাব্য চাহিদা ২১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৬৯টি হলেও প্রাপ্যতা রয়েছে ১৪ লাখ ৪৩ হাজার ৯৪২টি। চট্টগ্রামেও প্রায় ৫০ হাজার পশুর ঘাটতি রয়েছে।

অন্যদিকে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগে বড় ধরনের উদ্বৃত্ত রয়েছে। শুধু রাজশাহী বিভাগেই চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৯ লাখ বেশি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। ফলে রাজধানীর কোরবানির পশুর বড় অংশ উত্তরাঞ্চল থেকেই সরবরাহ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, এ বছরও কোরবানির পশুর কোনও সংকট হবে না। সম্ভাব্য চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে এবার ৩ হাজার ৬০০টির বেশি পশুর হাট বসবে। রাজধানীতে উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১টিসহ মোট ২৭টি হাট নির্ধারণ করা হয়েছে।

এসব হাটে ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম দায়িত্ব পালন করবে, যাতে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যায়।

সরকারের পক্ষ থেকে পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় খামারিদের সুরক্ষায় সীমান্তবর্তী পশুর হাট নিয়ন্ত্রণেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, বাজার ব্যবস্থাপনাও কার্যকর করতে হবে। নইলে উদ্বৃত্ত পশুর চাপ শেষ পর্যন্ত খামারিদের জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কোরবানির পশুতে স্বস্তি, বাড়ছে খামারিদের খরচের চাপ

আপডেট সময় : ০৯:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

একসময় কোরবানির ঈদ সামনে এলেই সীমান্তপথে ভারতীয় গরু আসবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতো। পশুর হাটে দেখা দিত অস্থিরতা, বাড়ত দামও। তবে গত কয়েক বছরে সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন দেশীয় খামারেই কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণ হচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খামারে লালন-পালন করা গরু, ছাগল ও মহিষে ভরে উঠছে হাট। সরকারি হিসাব বলছে, এবার কোরবানির চাহিদা মিটিয়েও দেশে প্রায় ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। ফলে কোরবানির পশু উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কোরবানির জন্য সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি পশু। এর বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ রয়েছে ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি, ছাগল ও ভেড়া ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি এবং অন্যান্য প্রজাতির পশু রয়েছে ৫ হাজার ৬৫৫টি।

গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানেও একই ধারা দেখা গেছে। ২০২৩ সালে দেশে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ পশু উৎপাদিত হলেও কোরবানি হয়েছিল প্রায় ১ কোটি। ২০২৪ সালে উৎপাদন ছিল প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ, আর কোরবানি হয় প্রায় ৯৫ লাখ পশু।

২০২৫ সালে উৎপাদন দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখে, যেখানে কোরবানি হয়েছিল প্রায় ৯০ লাখ পশু। অর্থাৎ উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও চাহিদা তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

তবে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও খামারিদের মধ্যে স্বস্তি নেই। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পশুখাদ্য, শ্রমিক, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধিতে মাঝারি ও বড় খামারিরা বেশি চাপে পড়েছেন।

রাজধানীর উত্তরখানের ময়নারটেক এলাকার খামারি রবিউস সানি ২০০৭ সাল থেকে ‘এইচ আর এগ্রো ফার্মস’-এর মাধ্যমে গরু ও ছাগল পালন করছেন। তিনি বলেন, খাবারের দাম আগের মতো থাকলেও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় অনেক বেড়েছে।

অথচ পশুর বাজারদর গত বছরের কাছাকাছিই রয়েছে। ছোট গরুর চাহিদা বেশি থাকায় সেগুলোর দাম তুলনামূলক ভালো পাওয়া যাচ্ছে, তবে বড় গরুর বাজার ততটা শক্তিশালী নয়।

কুষ্টিয়াভিত্তিক আদিল ডেইরি ফার্মের মালিক আদিল হোসেন জানান, এবার তিনি ১৫০ থেকে ২০০ গরু বাজারে আনার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় মাঝারি আকারের গরুর দাম গত বছরের তুলনায় বাড়তে পারে।

আগে যে গরু এক লাখ টাকার কিছু বেশি দামে বিক্রি হতো, এবার সেটির দাম দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি যেতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

খামারিদের সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তাদের মতে, বড় গরুর চাহিদা কমে যাওয়ায় বড় খামারিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন। খাদ্য ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় অনেকেই লোকসানের আশঙ্কা করছেন। কেউ কেউ খামার গুটিয়ে নেওয়ার কথাও ভাবছেন।

বিভাগভিত্তিক তথ্যেও পশুর সরবরাহে বৈষম্যের চিত্র দেখা গেছে। রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে চাহিদার তুলনায় পশুর ঘাটতি রয়েছে। ঢাকায় সম্ভাব্য চাহিদা ২১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৬৯টি হলেও প্রাপ্যতা রয়েছে ১৪ লাখ ৪৩ হাজার ৯৪২টি। চট্টগ্রামেও প্রায় ৫০ হাজার পশুর ঘাটতি রয়েছে।

অন্যদিকে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগে বড় ধরনের উদ্বৃত্ত রয়েছে। শুধু রাজশাহী বিভাগেই চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৯ লাখ বেশি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। ফলে রাজধানীর কোরবানির পশুর বড় অংশ উত্তরাঞ্চল থেকেই সরবরাহ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, এ বছরও কোরবানির পশুর কোনও সংকট হবে না। সম্ভাব্য চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে এবার ৩ হাজার ৬০০টির বেশি পশুর হাট বসবে। রাজধানীতে উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১টিসহ মোট ২৭টি হাট নির্ধারণ করা হয়েছে।

এসব হাটে ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম দায়িত্ব পালন করবে, যাতে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যায়।

সরকারের পক্ষ থেকে পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় খামারিদের সুরক্ষায় সীমান্তবর্তী পশুর হাট নিয়ন্ত্রণেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, বাজার ব্যবস্থাপনাও কার্যকর করতে হবে। নইলে উদ্বৃত্ত পশুর চাপ শেষ পর্যন্ত খামারিদের জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।