ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিশুহত্যার অভিযুক্ত বাবা-ছেলেকে ঘিরে আদিতমারীতে রণক্ষেত্র, এসপিসহ আহত ২০ ইরান-মার্কিন চুক্তি আলোচনায় তিন হাজার কোটি ডলার রাজশাহীর আম ও কালাইরুটি স্বাদে মুগ্ধ মার্কিন অতিথি   বেনজীরকে বিচারের মুখোমুখি করতে দেশে ফেরানো প্রক্রিয়া চলছে: উপদেষ্টা চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে সবুজ অবকাঠামো নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর তারল্য  সকট মোকাবিলায় ২,৫০০ কোটি টাকার ঋণ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক  অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী  দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু অভিনেত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হত্যার অভিযোগে স্বামী কারাগারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি, ঘোষণা পাকিস্তানের

উখিয়ায় বিজিবির বিশেষ অভিযানে ২ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:১২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ ১৮৫ বার পড়া হয়েছে

উখিয়ায় বিজিবির বিশেষ অভিযানে ২ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সীমান্তজুড়ে কড়া নজরদারি, পালিয়ে গেছে চোরাকারবারীরা

কক্সবাজারের উখিয়ায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার রাতে সীমান্তবর্তী উনচিপ্রাং এলাকার শাকেরের ঘের এলাকায় পরিচালিত অভিযানে মালিকবিহীন প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় চোরাকারবারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার ঠেকাতে বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়ার উনচিপ্রাং বিওপির একটি বিশেষ টহল দল শনিবার রাত থেকে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয়। তারা সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৭ এর প্রায় এক কিলোমিটার পশ্চিমে এবং বিওপি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে।

রাত আনুমানিক ৮টার দিকে চারজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিজিবি সদস্যরা চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারীরা দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। এসময় তারা সঙ্গে থাকা একটি প্লাস্টিকের বস্তা ফেলে খালের ভেতর দিয়ে সাঁতরে গ্রামের দিকে পালিয়ে যায়।

পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ফেলে যাওয়া বস্তার ভেতরে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেন। উদ্ধার করা ইয়াবাগুলো খাকি রঙের প্যাকেটের মধ্যে নীল রঙের বায়ুরোধী মোড়কে সংরক্ষিত ছিল। গণনা শেষে সেখানে মোট ২ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

অভিযানের পরপরই পালিয়ে যাওয়া চোরাকারবারিদের ধরতে আশপাশের এলাকায় অভিযান চালানো হয়। তবে রাতের অন্ধকার এবং দুর্গম সীমান্ত এলাকার কারণে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। বিজিবি জানিয়েছে, জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

সীমান্তবর্তী কক্সবাজার, বিশেষ করে উখিয়া ও টেকনাফ অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াবা পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে পরিচিত। মিয়ানমার থেকে নাফ নদী ও পাহাড়ি সীমান্তপথ ব্যবহার করে নিয়মিত ইয়াবার বড় বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে চোরাকারবারীরা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও বিভিন্ন সময় বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হলেও পাচারকারীরা নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্যই নয়, সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। তরুণ সমাজের একটি অংশ ইয়াবার ভয়াবহ নেশায় জড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। তাই সীমান্তে আরও আধুনিক নজরদারি, গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজিবি জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সীমান্তকে নিরাপদ রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

উখিয়ায় বিজিবির বিশেষ অভিযানে ২ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার

আপডেট সময় : ১২:১২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

সীমান্তজুড়ে কড়া নজরদারি, পালিয়ে গেছে চোরাকারবারীরা

কক্সবাজারের উখিয়ায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার রাতে সীমান্তবর্তী উনচিপ্রাং এলাকার শাকেরের ঘের এলাকায় পরিচালিত অভিযানে মালিকবিহীন প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় চোরাকারবারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার ঠেকাতে বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়ার উনচিপ্রাং বিওপির একটি বিশেষ টহল দল শনিবার রাত থেকে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয়। তারা সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৭ এর প্রায় এক কিলোমিটার পশ্চিমে এবং বিওপি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে।

রাত আনুমানিক ৮টার দিকে চারজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিজিবি সদস্যরা চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারীরা দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। এসময় তারা সঙ্গে থাকা একটি প্লাস্টিকের বস্তা ফেলে খালের ভেতর দিয়ে সাঁতরে গ্রামের দিকে পালিয়ে যায়।

পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ফেলে যাওয়া বস্তার ভেতরে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেন। উদ্ধার করা ইয়াবাগুলো খাকি রঙের প্যাকেটের মধ্যে নীল রঙের বায়ুরোধী মোড়কে সংরক্ষিত ছিল। গণনা শেষে সেখানে মোট ২ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

অভিযানের পরপরই পালিয়ে যাওয়া চোরাকারবারিদের ধরতে আশপাশের এলাকায় অভিযান চালানো হয়। তবে রাতের অন্ধকার এবং দুর্গম সীমান্ত এলাকার কারণে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। বিজিবি জানিয়েছে, জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

সীমান্তবর্তী কক্সবাজার, বিশেষ করে উখিয়া ও টেকনাফ অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াবা পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে পরিচিত। মিয়ানমার থেকে নাফ নদী ও পাহাড়ি সীমান্তপথ ব্যবহার করে নিয়মিত ইয়াবার বড় বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে চোরাকারবারীরা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও বিভিন্ন সময় বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হলেও পাচারকারীরা নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্যই নয়, সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। তরুণ সমাজের একটি অংশ ইয়াবার ভয়াবহ নেশায় জড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। তাই সীমান্তে আরও আধুনিক নজরদারি, গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজিবি জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সীমান্তকে নিরাপদ রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।