ঢাকা ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইডের নির্দেশনা অমান্য বান্দরবানে মোটরসাইকেল খাদে পড়ে প্রাণ হারালেন দুই পর্যটক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন স্বস্তির আভাস তবুও কাটেনি শঙ্কা সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিহত ২০০ ছাড়িয়েছে: আইআরজিসি প্রকৃতি ও পরিবেশ চাঁইয়ের ফাঁদে পাঙাশ নিধন উপকূলের নদ-নদীতে মাছশূন্য ভবিষ্যতের অশনিসংকেত এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা

Gas-electricity crisis : নারায়ণগঞ্জের পোশাকশিল্প, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদনে ধস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৮:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ নভেম্বর ২০২২ ২১৯ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জরে পঞ্চবটীর বসিকি শল্পিনগররে একটি কারখানা : ছবি সংগৃহীত

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে রপ্তানির আদেশ কমেছে। নিটিং কারখানাগুলোয় কাজের আদেশ কমে গিয়ে উৎপাদন নেমেছে প্রায় অর্ধেকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্যাস সংকট ও বিদ্যুতের লোডশেডিং। ফলে বাড়ছে খরচ। এতে লোকসানে পড়েছে নিটিংশিল্প। জানা গেছে, সংকটের মুখে গত ছয় মাসে অন্তত ৩৫টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবার পাশাপাশি বেকার হয়ে পড়েছেন কয়েক শ’ শ্রমিক’

 

ভেয়েস ডিজিটাল ডেস্ক 

গ্যাসের চাপ ৫০ শতাংশের কম থাকছে। কোন কোন সময় তা ২০ শতাংশে নেমে আসে। তাতে পোশাক কারখানার ডায়িং সেকশন সচল রাখতে প্রতিদিন ১০ থেকে ১১ লাখ টাকার ডিজেল কিনতে হচ্ছে। গ্যাস বিলের পাশাপাশি ডিজেলের ব্যয় দুটোই চালাতে হচ্ছে। বাড়তি ব্যয়ের বোঝা বাড়ছে। শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। একটি কারখানায় নিট, ওভেন ও সোয়েটার তিনটি ইউনিটের মধ্যে সোয়েটার অর্ডার প্রায় বন্ধ রাখতে হয়েছে।

এই চিত্র রাজধানী ঢাকার পাজর ঘেষা প্রাচ্যের ডান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জ শিল্পঞ্চলের একটি পোশাক কারখানার। নারায়ণগঞ্জে পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানির সঙ্গে জড়িত কারখানা রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার। সরকারের কলকারখানা অধিদপ্তরে নিবন্ধিত কারখানা ২ হাজার ২০০টি। এসব পোশাক কারখানায় কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ।

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট অনেক কারখানার সুইং, নিটিং, প্যাকেজিং, ডায়িং সেকশনের একাধিক লাইন বন্ধ। কোন কোন কারাখানার সুইং সেকশনের লাইন ১২৫ থেকে নেমে ৮৫’তে নেমে এসেছে। গ্যাসের অভাবে ডায়িং সেকশনে মেশিন বন্ধ করে রাখা, প্যাকেজিং সেকশনে পর্যাপ্ত কাজ না থাকাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ধুকছে পোশাক কারাখানাগুলো।

ডিজেলের দাম বাড়তির পর এলএনজি দিয়ে কাজ চালিয়ে নিচ্ছিল কারখানাগুলো। কিন্তু বাজারে এলএনজি সংকট। ফলে বাড়তি দামে জ্বালানি দিয়ে উৎপাদন চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে ব্যয় বেড়ে গিয়ে লোকসানের মাথা উচু হচ্ছে। কোন কোন কারখানায় প্রতিদিন ২ লাখ টাকার মতো ডিজেল কিনতে হচ্ছে। এছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে সঙ্গী হয়েছে অন্যান্য বাড়তি খরচ।

গ্যাস-বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর এলএনজি ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করে আসছিলেন উদ্যোগক্তারা। কিন্তু পর্যাপ্ত এলএনজির সরবরাহ না থাকায় ডিজেলে উৎপাদন ধরে রাখতে গিয়ে যে ব্যয় হচ্ছে, তাতে কারখানা সচল রাখাটাই কঠিন হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ছোট ও মাঝারি অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা বিকেএমইএ’র।

পোশাকশিল্পে র্কমরত পোশাকর্কমী : ছবি সংগ্রহ

বিকেএমইএর এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম সংবাদমাধ্যমকে জানান, অনেক পোশাক কারখানার অধিকাংশ শ্রমিক বেতনের চেয়ে বাড়তি আয়ের আশায় ‘প্রতি পিস রেটে’ কাজ করে থাকেন। এখন কাজের অভাবে ‘নো ওয়ার্ক নো পে’। এরপরও তাদের ন্যূনতম বেতন দিয়ে চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অনেক তৈরি পণ্য বায়ার নিচ্ছে না। তাদের অর্থের সংকট। কেউ বলছে দুই মাস পরে পাঠাও, আবার অনেকে পণ্য নিলেও বলছেন পেমেন্ট দেবেন মাস ছয়েক পর। তাতে ব্যাংকের কিস্তি আটকে আছে। জ্বালানি খরচ বেড়েছে। পোশাকখাত এখন বিপদের মুখে।

শিল্পাঞ্চলে চলমান গ্যাস সংকট নিয়ে তিতাসের ফতুল্লা আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জয়নাল আবেদীন সংবাদমাধ্যমকে জানান, গ্যাস ও বিদ্যুৎসংকট জাতীয় সমস্যা। বিদ্যুৎ সেক্টরের ভারসাম্য রক্ষায় বিভিন্ন পাওয়ার প্ল্যান্টে গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। যে কারণে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে শিল্পকারখানায় গ্যাসের স্বল্পতা দেখা দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

Gas-electricity crisis : নারায়ণগঞ্জের পোশাকশিল্প, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদনে ধস

আপডেট সময় : ০৮:৩৮:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ নভেম্বর ২০২২

‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে রপ্তানির আদেশ কমেছে। নিটিং কারখানাগুলোয় কাজের আদেশ কমে গিয়ে উৎপাদন নেমেছে প্রায় অর্ধেকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্যাস সংকট ও বিদ্যুতের লোডশেডিং। ফলে বাড়ছে খরচ। এতে লোকসানে পড়েছে নিটিংশিল্প। জানা গেছে, সংকটের মুখে গত ছয় মাসে অন্তত ৩৫টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবার পাশাপাশি বেকার হয়ে পড়েছেন কয়েক শ’ শ্রমিক’

 

ভেয়েস ডিজিটাল ডেস্ক 

গ্যাসের চাপ ৫০ শতাংশের কম থাকছে। কোন কোন সময় তা ২০ শতাংশে নেমে আসে। তাতে পোশাক কারখানার ডায়িং সেকশন সচল রাখতে প্রতিদিন ১০ থেকে ১১ লাখ টাকার ডিজেল কিনতে হচ্ছে। গ্যাস বিলের পাশাপাশি ডিজেলের ব্যয় দুটোই চালাতে হচ্ছে। বাড়তি ব্যয়ের বোঝা বাড়ছে। শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। একটি কারখানায় নিট, ওভেন ও সোয়েটার তিনটি ইউনিটের মধ্যে সোয়েটার অর্ডার প্রায় বন্ধ রাখতে হয়েছে।

এই চিত্র রাজধানী ঢাকার পাজর ঘেষা প্রাচ্যের ডান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জ শিল্পঞ্চলের একটি পোশাক কারখানার। নারায়ণগঞ্জে পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানির সঙ্গে জড়িত কারখানা রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার। সরকারের কলকারখানা অধিদপ্তরে নিবন্ধিত কারখানা ২ হাজার ২০০টি। এসব পোশাক কারখানায় কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ।

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট অনেক কারখানার সুইং, নিটিং, প্যাকেজিং, ডায়িং সেকশনের একাধিক লাইন বন্ধ। কোন কোন কারাখানার সুইং সেকশনের লাইন ১২৫ থেকে নেমে ৮৫’তে নেমে এসেছে। গ্যাসের অভাবে ডায়িং সেকশনে মেশিন বন্ধ করে রাখা, প্যাকেজিং সেকশনে পর্যাপ্ত কাজ না থাকাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ধুকছে পোশাক কারাখানাগুলো।

ডিজেলের দাম বাড়তির পর এলএনজি দিয়ে কাজ চালিয়ে নিচ্ছিল কারখানাগুলো। কিন্তু বাজারে এলএনজি সংকট। ফলে বাড়তি দামে জ্বালানি দিয়ে উৎপাদন চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে ব্যয় বেড়ে গিয়ে লোকসানের মাথা উচু হচ্ছে। কোন কোন কারখানায় প্রতিদিন ২ লাখ টাকার মতো ডিজেল কিনতে হচ্ছে। এছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে সঙ্গী হয়েছে অন্যান্য বাড়তি খরচ।

গ্যাস-বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর এলএনজি ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করে আসছিলেন উদ্যোগক্তারা। কিন্তু পর্যাপ্ত এলএনজির সরবরাহ না থাকায় ডিজেলে উৎপাদন ধরে রাখতে গিয়ে যে ব্যয় হচ্ছে, তাতে কারখানা সচল রাখাটাই কঠিন হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ছোট ও মাঝারি অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা বিকেএমইএ’র।

পোশাকশিল্পে র্কমরত পোশাকর্কমী : ছবি সংগ্রহ

বিকেএমইএর এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম সংবাদমাধ্যমকে জানান, অনেক পোশাক কারখানার অধিকাংশ শ্রমিক বেতনের চেয়ে বাড়তি আয়ের আশায় ‘প্রতি পিস রেটে’ কাজ করে থাকেন। এখন কাজের অভাবে ‘নো ওয়ার্ক নো পে’। এরপরও তাদের ন্যূনতম বেতন দিয়ে চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অনেক তৈরি পণ্য বায়ার নিচ্ছে না। তাদের অর্থের সংকট। কেউ বলছে দুই মাস পরে পাঠাও, আবার অনেকে পণ্য নিলেও বলছেন পেমেন্ট দেবেন মাস ছয়েক পর। তাতে ব্যাংকের কিস্তি আটকে আছে। জ্বালানি খরচ বেড়েছে। পোশাকখাত এখন বিপদের মুখে।

শিল্পাঞ্চলে চলমান গ্যাস সংকট নিয়ে তিতাসের ফতুল্লা আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জয়নাল আবেদীন সংবাদমাধ্যমকে জানান, গ্যাস ও বিদ্যুৎসংকট জাতীয় সমস্যা। বিদ্যুৎ সেক্টরের ভারসাম্য রক্ষায় বিভিন্ন পাওয়ার প্ল্যান্টে গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। যে কারণে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে শিল্পকারখানায় গ্যাসের স্বল্পতা দেখা দিয়েছে।