ঢাকা ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এলপিজি সংকটে স্বস্তির উদ্যোগ: বাকিতে আমদানির সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক মাইন বিস্ফোরণে উড়ে গেল যুবকের পা, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৫৩ সদস্য বাংলাদেশের  পুলিশ হেফাজতে যুক্তরাষ্ট্র ৬৬ আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সরে যাওয়ায় বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগ বেনাপোল কাস্টমসে প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি জুলাই গণঅভ্যুত্থান হত্যাপ্রচেষ্টা মামলা, শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ নির্বাচনের মুখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ব্যর্থ : মির্জা ফখরুল শুল্কের চাপেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৫.১৪% বৃদ্ধি নির্বাচনে সরকার কোনো রাজনৈতিক দলকে অতিরিক্ত বা বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে না: প্রেস সচিব সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও বান্ধবীর বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলা

Female fetus : নারীর ভ্রুন থেকেই উৎপত্তি মানব সমাজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল ২০২২ ২৭০ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অগ্নিশিখা

‘নারীর ভ্রুন থেকেই উৎপত্তি মানব সমাজ,   নারীর সাহায্য বিনা এই পৃথিবীতে মানব হয়ে জন্মানোর কারো সাধ্য নেই, নারীই তার শরীর চিরে রক্তে ভেজা ভ্রুনকে এই পৃথিবীর আলোয় নিয়ে আসেন এবং সযত্নে বড় করে তোলেন’

এই পৃথিবীর অর্ধেক আকাশ নারীর আর অর্ধেক আকাশ পুরুষের, যা বিধাতার দান। এতোদিন কবিরা এই কথাটি বলে এসেছেন, তা সর্বোপরি ভুল। আমিই বোধহয় প্রথম এ কথার তীব্র প্রতিবাদ করছি। জানি আমার এ কথাটি অনেকের মেনে নিতে কষ্ট হবে। এটা বিধাতার দান নয়, এটা পুরোপুরো নারীর দান।

কারণ, সমগ্র বিশ্বের পুরো মানব সমাজ নারীর ভ্রুন থেকেই উৎপত্তি হয়েছে। ক্ষেত্রে কারো সাধ্য নেই নারীর সাহায্য বিনা এই পৃথিবীতে মানব হয়ে জন্মানোর। নারীই তার শরীর চিরে রক্তে ভেজা ভ্রুনকে এই পৃথিবীর আলোয় নিয়ে আসেন এবং সযত্নে বড় করে তোলেন।

নারী-পুরুষে মিলিতভাবে অর্ধেক নয়, পুরো আকাশ। বীর্য দান করার সুবাদে সে দখলদারি নিতে চায় পুরো পৃথিবীর! ভুলে যায় তার জন্ম বৃত্তান্তের জীবনের কথা। যেখানে সে দশ মাস দশ দিন পৃথিবীতে আসার অপেক্ষায় নারীর গর্ভেই ছিল। হাজারো যন্ত্রণা সহ্য করে নারী তার শরীরের পুষ্টি দান করে গিয়েছেন। আজ ভাবতে অবাক লাগে এসব কথা প্রতিটি পুরুষ জেনেও নারীর ওপর এতো বিধি নিষেধের ঘেরাটোপ, এতো অত্যাচার কেন?

সীতা মা এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বলেছিলেন ‘হে ধরণী দ্বিধা হও আমি প্রবেশ করি’ কিন্তু আমরা এ যুগের নারী পাতালে প্রবেশ নয়, বলি হে পুরুষ লজ্জিত হও এখোনো সাবধান হও, না হলে প্রনয়ী নও ক্রীতদাস বানিয়ে রাখবো এটা আমাদের অঙ্গীকার।

পৃথিবীতে নারী অসাধ্য কোন কাজ নেই। যেদিন এই সত্য প্রতিটি নারী বুঝতে পারবে, সেদিন সত্যিই এ পৃথিবী অন্য রকম হবে। সেদিন সত্যিই আমরা বলতে পারবো-সত্যম্ শিবম্ সুন্দরম্। নারী ও পুরুষের মিলিত চেতনাই তো জন্ম দেবে এক নতুন ইভ আর আদমের পৃথিবীকে।

জানি এতে নারী পুরুষের ক্রোমোজোম এর খেলা আছে অর্ধেক অর্ধেক, কিন্তু সেটা তো অস্বীকার করিনি। তাই বলে এতো গগনচুম্বী আস্ফালন আর যে সহ্য হয়না। নারীরও অধিকার আছে, সৃষ্টিতে শুধু ক্রোমোজমের খেলাই শেষ কথা নয়, দশ মাস দশ দিন যে সৃষ্টিকে রক্ষা করে চলেছে, তাকে ভুলে যাওয়াটা আমাদের লজ্জা।

লেখক : অগ্নিশিখা, সাহিত্যিক ও সমাজ সেবক

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Female fetus : নারীর ভ্রুন থেকেই উৎপত্তি মানব সমাজ

আপডেট সময় : ০৬:০২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল ২০২২

অগ্নিশিখা

‘নারীর ভ্রুন থেকেই উৎপত্তি মানব সমাজ,   নারীর সাহায্য বিনা এই পৃথিবীতে মানব হয়ে জন্মানোর কারো সাধ্য নেই, নারীই তার শরীর চিরে রক্তে ভেজা ভ্রুনকে এই পৃথিবীর আলোয় নিয়ে আসেন এবং সযত্নে বড় করে তোলেন’

এই পৃথিবীর অর্ধেক আকাশ নারীর আর অর্ধেক আকাশ পুরুষের, যা বিধাতার দান। এতোদিন কবিরা এই কথাটি বলে এসেছেন, তা সর্বোপরি ভুল। আমিই বোধহয় প্রথম এ কথার তীব্র প্রতিবাদ করছি। জানি আমার এ কথাটি অনেকের মেনে নিতে কষ্ট হবে। এটা বিধাতার দান নয়, এটা পুরোপুরো নারীর দান।

কারণ, সমগ্র বিশ্বের পুরো মানব সমাজ নারীর ভ্রুন থেকেই উৎপত্তি হয়েছে। ক্ষেত্রে কারো সাধ্য নেই নারীর সাহায্য বিনা এই পৃথিবীতে মানব হয়ে জন্মানোর। নারীই তার শরীর চিরে রক্তে ভেজা ভ্রুনকে এই পৃথিবীর আলোয় নিয়ে আসেন এবং সযত্নে বড় করে তোলেন।

নারী-পুরুষে মিলিতভাবে অর্ধেক নয়, পুরো আকাশ। বীর্য দান করার সুবাদে সে দখলদারি নিতে চায় পুরো পৃথিবীর! ভুলে যায় তার জন্ম বৃত্তান্তের জীবনের কথা। যেখানে সে দশ মাস দশ দিন পৃথিবীতে আসার অপেক্ষায় নারীর গর্ভেই ছিল। হাজারো যন্ত্রণা সহ্য করে নারী তার শরীরের পুষ্টি দান করে গিয়েছেন। আজ ভাবতে অবাক লাগে এসব কথা প্রতিটি পুরুষ জেনেও নারীর ওপর এতো বিধি নিষেধের ঘেরাটোপ, এতো অত্যাচার কেন?

সীতা মা এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বলেছিলেন ‘হে ধরণী দ্বিধা হও আমি প্রবেশ করি’ কিন্তু আমরা এ যুগের নারী পাতালে প্রবেশ নয়, বলি হে পুরুষ লজ্জিত হও এখোনো সাবধান হও, না হলে প্রনয়ী নও ক্রীতদাস বানিয়ে রাখবো এটা আমাদের অঙ্গীকার।

পৃথিবীতে নারী অসাধ্য কোন কাজ নেই। যেদিন এই সত্য প্রতিটি নারী বুঝতে পারবে, সেদিন সত্যিই এ পৃথিবী অন্য রকম হবে। সেদিন সত্যিই আমরা বলতে পারবো-সত্যম্ শিবম্ সুন্দরম্। নারী ও পুরুষের মিলিত চেতনাই তো জন্ম দেবে এক নতুন ইভ আর আদমের পৃথিবীকে।

জানি এতে নারী পুরুষের ক্রোমোজোম এর খেলা আছে অর্ধেক অর্ধেক, কিন্তু সেটা তো অস্বীকার করিনি। তাই বলে এতো গগনচুম্বী আস্ফালন আর যে সহ্য হয়না। নারীরও অধিকার আছে, সৃষ্টিতে শুধু ক্রোমোজমের খেলাই শেষ কথা নয়, দশ মাস দশ দিন যে সৃষ্টিকে রক্ষা করে চলেছে, তাকে ভুলে যাওয়াটা আমাদের লজ্জা।

লেখক : অগ্নিশিখা, সাহিত্যিক ও সমাজ সেবক