ঢাকা ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সরকারের সমালোচনা এনসিপি আহ্বায়কের কাগজে নদীর সংখ্যা বাড়ছে নদী রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় সংকট সাশ্রয়ী আবাসন অর্থায়নে বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি শেরপুর সীমান্তে ভারতীয় সাবান-মদ জব্দ বিজিবির গরু আটক নিয়ে চাঞ্চল্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সমাধান কেবল কূটনীতিতেই: ইরান চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বাঁধা বাবা, চা-রুটি খাইয়ে দিচ্ছিল ৯ বছরের মেয়ে জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী বিরাজলক্ষী ঘোষের কবিতা ‘ঈশ্বরের সাথে মেঘের মাঝে’ সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী আয়ুর্বেদে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ  গবেষণা কেন্দ্র গঠনের প্রস্তাব

১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১৪৫ বার পড়া হয়েছে

সোহাগী জাহান তনু

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় দীর্ঘ এক দশক পর প্রথমবারের মতো একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই ঘটনায় নতুন করে তদন্তে অগ্রগতি দেখা দেওয়ায় মামলাটি আবারও জনমনে আলোচনায় এসেছে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু-এর মরদেহ ওইদিন সন্ধ্যায় সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডটি শুরু থেকেই রহস্যাবৃত ছিল এবং দীর্ঘ সময়েও এর প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নতুন করে তদন্ত জোরদার করে। তদন্তের অংশ হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি ঘটনার সময় সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন এবং জ্যেষ্ঠ ওয়ারেন্ট অফিসার পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

গ্রেপ্তারের পর আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হলে, বিচারক মো. মুমিনুল হক শুনানি শেষে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এই রিমান্ডের মাধ্যমে তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ চালাবেন বলে জানা গেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে মামলার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল পরীক্ষার আবেদন করা হয়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করার পর তদন্তে নতুন দিক উন্মোচিত হয়, যার প্রেক্ষিতে এই গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা-এ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘদিন তদন্ত করেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনে ব্যর্থ হয়।

অবশেষে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলার তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একাধিক তদন্ত কর্মকর্তার হাত ঘুরে সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই হত্যাকাণ্ডে প্রথম গ্রেপ্তারের মাধ্যমে নতুন করে বিচারপ্রক্রিয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন তদন্তের অগ্রগতি ও রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর নির্ভর করছে এই আলোচিত মামলার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :