ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশনা বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় আশার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৩–৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ শ্রমিক বিক্ষোভে অগ্নিসংযোগ ভাঙচুর, ১৫০ কারখানায় ছুটি ফের ভরিতে সোনার দাম বাড়ল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা শ্রমিক অসন্তোষে আজও মহাসড়ক অবরোধ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে আলোকিত হবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের স্বীকারোক্তি দিয়ে পোস্ট, আটক যুবক ৩ নভেম্বর প্রথম সোলার  এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক অসন্তোষ পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে ৩০০ পোশাক কারখানায় ছুটি

Constitution Day : সংবিধান দিবসের ডাক ‘ধর্মের নামে রাজনীতি বন্ধ হোক’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৬:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ নভেম্বর ২০২২ ৩৭৯ বার পড়া হয়েছে

 একাত্তোরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ‘বঙ্গবন্ধুর সংবিধানকে সাম্প্রদায়িক কলঙ্ক থেকে মুক্ত করুন’ ৫১তম সংবিধান দিবস উপলক্ষে ঢাকায় আলোচনা সভার আয়োজন করে  

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিনিদি, ঢাকা

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পর প্রথমবারের মতো পালন হল জাতীয় সংবিধান দিবস। এর আগে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। এ অবস্থায় বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়া নিয়ে ফের আলোচনা সামনে আসে।

১৯৭২ সালে ৪ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হয়। এটি কার্যকর হয় ১৯৭২ এর ১৬ ডিসেম্বর। গেলো ৫০ বছরে ১৭ বার সংশোধন হয়েছে সংবিধান।

’৭১-এ জামায়াত যেভাবে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধসহ মানবতাবিরোধী অপরাধকে ইসলামের নামে বৈধতা দিয়েছিল, তারা এবং তাদের দেশী-বিদেশী সহযোগীরা এখনও তাই করছে, যে কারণে জামায়াত তথা ধর্মের নামে সন্ত্রাসী রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের কোনও বিকল্প নেই। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরি রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বার বার সংবিধান কাঁটাছেড়া হয়েছে।

৩০ লক্ষ শহীদের আত্মদান এবং প্রায় ৫ লক্ষ মা-বোনের চরম ত্যাগের বিনিময়ে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানকারী তার সহযোগীরা জাতিকে যে সংবিধান উপহার দিয়েছেন, সেটি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান হিসেবে স্বীকৃত। এই সংবিধানে রাষ্ট্রের চার মূলনীতি হিসেবে গৃহীত হয়েছে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ, যা ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূর্ত রূপ।

এই চার নীতি অন্য অনেক আধুনিক রাষ্ট্রের সংবিধানে থাকলেও ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে লেখা ১৯৭২-এর ৪ নবেম্বর গৃহীত বাংলাদেশের মূল সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিকে নিশ্চিত করার জন্য ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কারণ মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশে যাবতীয় গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল ধর্মের দোহাই দিয়ে।

সংবিধানে পরিবর্তন এনে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, সেসময় ধর্মান্ধতা মাথা চারা দিয়ে ওঠে। মুক্তিযুদ্ধে বিরোধী শক্তি অনেকটা পাকিস্তানি কায়দায় যা করা দরকার তাই করেছে। শুক্রবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে একাত্তোরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ‘বঙ্গবন্ধুর সংবিধানকে সাম্প্রদায়িক কলঙ্ক থেকে মুক্ত করুন’ ৫১তম সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

বক্তারা বলেন, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে নয়, বর্তমানে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে ইসলামের নামে যে ভয়াবহ সন্ত্রাস ও হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হচ্ছে তার আদর্শিক প্রণোদনা হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর মওদুদিবাদ, তথা ‘ধর্মের নামে রাজনীতি’। লেখক, সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রকের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ইতিহাসবিদ মুনতাসির মামুন, অ্যারোমা দত্ত এমপি, শহিদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Constitution Day : সংবিধান দিবসের ডাক ‘ধর্মের নামে রাজনীতি বন্ধ হোক’

আপডেট সময় : ০৭:৫৬:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ নভেম্বর ২০২২

নিজস্ব প্রতিনিদি, ঢাকা

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পর প্রথমবারের মতো পালন হল জাতীয় সংবিধান দিবস। এর আগে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। এ অবস্থায় বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়া নিয়ে ফের আলোচনা সামনে আসে।

১৯৭২ সালে ৪ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হয়। এটি কার্যকর হয় ১৯৭২ এর ১৬ ডিসেম্বর। গেলো ৫০ বছরে ১৭ বার সংশোধন হয়েছে সংবিধান।

’৭১-এ জামায়াত যেভাবে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধসহ মানবতাবিরোধী অপরাধকে ইসলামের নামে বৈধতা দিয়েছিল, তারা এবং তাদের দেশী-বিদেশী সহযোগীরা এখনও তাই করছে, যে কারণে জামায়াত তথা ধর্মের নামে সন্ত্রাসী রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের কোনও বিকল্প নেই। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরি রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বার বার সংবিধান কাঁটাছেড়া হয়েছে।

৩০ লক্ষ শহীদের আত্মদান এবং প্রায় ৫ লক্ষ মা-বোনের চরম ত্যাগের বিনিময়ে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানকারী তার সহযোগীরা জাতিকে যে সংবিধান উপহার দিয়েছেন, সেটি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান হিসেবে স্বীকৃত। এই সংবিধানে রাষ্ট্রের চার মূলনীতি হিসেবে গৃহীত হয়েছে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ, যা ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূর্ত রূপ।

এই চার নীতি অন্য অনেক আধুনিক রাষ্ট্রের সংবিধানে থাকলেও ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে লেখা ১৯৭২-এর ৪ নবেম্বর গৃহীত বাংলাদেশের মূল সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিকে নিশ্চিত করার জন্য ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কারণ মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশে যাবতীয় গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল ধর্মের দোহাই দিয়ে।

সংবিধানে পরিবর্তন এনে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, সেসময় ধর্মান্ধতা মাথা চারা দিয়ে ওঠে। মুক্তিযুদ্ধে বিরোধী শক্তি অনেকটা পাকিস্তানি কায়দায় যা করা দরকার তাই করেছে। শুক্রবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে একাত্তোরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ‘বঙ্গবন্ধুর সংবিধানকে সাম্প্রদায়িক কলঙ্ক থেকে মুক্ত করুন’ ৫১তম সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

বক্তারা বলেন, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে নয়, বর্তমানে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে ইসলামের নামে যে ভয়াবহ সন্ত্রাস ও হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হচ্ছে তার আদর্শিক প্রণোদনা হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর মওদুদিবাদ, তথা ‘ধর্মের নামে রাজনীতি’। লেখক, সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রকের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ইতিহাসবিদ মুনতাসির মামুন, অ্যারোমা দত্ত এমপি, শহিদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।