ঢাকা ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইডের নির্দেশনা অমান্য বান্দরবানে মোটরসাইকেল খাদে পড়ে প্রাণ হারালেন দুই পর্যটক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন স্বস্তির আভাস তবুও কাটেনি শঙ্কা সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিহত ২০০ ছাড়িয়েছে: আইআরজিসি প্রকৃতি ও পরিবেশ চাঁইয়ের ফাঁদে পাঙাশ নিধন উপকূলের নদ-নদীতে মাছশূন্য ভবিষ্যতের অশনিসংকেত এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা

আকাশে ছিলেন মাত্র ১২ মিনিট, কী হয়েছিল সঞ্জয় গান্ধীর শেষ দিনে?

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:০৭:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুন ২০২১ ২৮৮ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

(ছবি সূত্র-গেট্টি)

একসময় কংগ্রেসে ইন্দিরা গান্ধীর পরে সেকেন্ড ইন কম্যান্ড তাঁকেই মনে করা হত। তৎকালীন রাজনীতিবিদদের মধ্যে অনেকেই বলতেন, তাঁকেই কার্যত নিজের উত্তরসূরী হিসেবে সঞ্জয় গান্ধীকেমনে মনে নির্বাচন করেছিলেন ইন্দিরা। কিন্তু ১৯৮০-র ২৩ জুন সকালটা সমস্ত হিসেব ওলটপালট করে দেয়। মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা কেড়ে নেয় তাঁকে। (ছবি সূত্র-গেট)।

ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ছোট ছেলে এবং আরও এক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ভাই। আকাশে বিমান ওড়ানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন সঞ্জয় গান্ধী। আকাশে শেষ হয়ে যায় এক তুরুণ তুর্কী জনপ্রিয় নেতার জীবন।

কিন্তু কীভাবে ঘটেছিল সেই দুর্ঘটনা? জানা যায় সেদিন সকালে কুর্তা পাজামা ও কোলাপুরি জুতো পরে সফদরজং বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন সঞ্জয় গান্ধী। ১০ মিনিটের মধ্যে সেদিন ককপিটের পিছনের আসনে বসেন সঞ্জয়। সামনের আসনে ছিলেন তাঁর প্রশিক্ষক ক্যাপ্টেন সুভাষ সাক্সেনা।

জানা যায় বিমানটিকে সেই দিনের আগে মাত্র ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট ওড়ানোর অভিজ্ঞতা ছিল সঞ্জয়ের। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতেই রাখেন ইন্দিরা-পুত্র। সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে মাটি ছাড়ে সঞ্জয় গান্ধীর বিমান। কিছুক্ষণের মধ্যেই আকাশের বুকে স্টান্ট শুরু করেন সঞ্জয়।

কিন্তু নিয়তি সেদিন হয়ত অন্য কিছুই লিখে রেখেছিল। বিমান ঠিক কতটা উচ্চতায় রয়েছে তা আন্দাজ করতে পারেননি সঞ্জয় গান্ধি। যার জেরে বিমানের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন তিনি। নিয়ন্ত্রণহীন বিমানের একটি ডানা ধাক্কা খায় একটি নিম গাছে। সকাল ৮টা ১০, অর্থাৎ ঠিক ১২ মিনিটের মধ্যে ভেঙ্গে পড়ে বিমানটি। দুর্ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সঞ্জয় গান্ধীর।


অন্যদিকে সেই সময় নিজের অফিসে কাজ করছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। সেখানেই ছেলের দুর্ঘটনার খবর পান তিনি। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান ইন্দিরা। যদিও সেখানে গিয়ে শুধুই বিমানের ধ্বংসস্তুপ দেখতে পান তিনি। ছেলেকে আর ফিরে পাননি।

কংগ্রেসের বরিষ্ঠ নেতাদের কেউ কেউ বলেন, নিজের দুই ছেলেকেই ভীষণ ভালবাসতেন ইন্দিরা। কিন্তু সঞ্জয় ছিলেন তাঁর বেশি কাছের। তাই সেই সঞ্জয়ের মৃত্যুতে ভিতরে ভিতরে ভেঙ্গে কার্যত পুরোটাই ভেঙ্গে পড়েন ইন্দিরা। যদিও নিজের সেই অনুভূতি কখনই প্রকাশ্যে আসতে দেননি তিনি।

তবে নিয়তির পরিহাস সঞ্জয় গান্ধীকে যদি অকালে চলে যেতে না হত, তাহলে বর্তমান কংগ্রেস তথা দেশের রাজনীতির চিত্রটা অন্যরকম হত বলেই মনে করেন রাজনীতিবিদদের অনেকেই। সূত্র আজতক বাংলা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আকাশে ছিলেন মাত্র ১২ মিনিট, কী হয়েছিল সঞ্জয় গান্ধীর শেষ দিনে?

আপডেট সময় : ১০:০৭:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুন ২০২১

(ছবি সূত্র-গেট্টি)

একসময় কংগ্রেসে ইন্দিরা গান্ধীর পরে সেকেন্ড ইন কম্যান্ড তাঁকেই মনে করা হত। তৎকালীন রাজনীতিবিদদের মধ্যে অনেকেই বলতেন, তাঁকেই কার্যত নিজের উত্তরসূরী হিসেবে সঞ্জয় গান্ধীকেমনে মনে নির্বাচন করেছিলেন ইন্দিরা। কিন্তু ১৯৮০-র ২৩ জুন সকালটা সমস্ত হিসেব ওলটপালট করে দেয়। মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা কেড়ে নেয় তাঁকে। (ছবি সূত্র-গেট)।

ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ছোট ছেলে এবং আরও এক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ভাই। আকাশে বিমান ওড়ানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন সঞ্জয় গান্ধী। আকাশে শেষ হয়ে যায় এক তুরুণ তুর্কী জনপ্রিয় নেতার জীবন।

কিন্তু কীভাবে ঘটেছিল সেই দুর্ঘটনা? জানা যায় সেদিন সকালে কুর্তা পাজামা ও কোলাপুরি জুতো পরে সফদরজং বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন সঞ্জয় গান্ধী। ১০ মিনিটের মধ্যে সেদিন ককপিটের পিছনের আসনে বসেন সঞ্জয়। সামনের আসনে ছিলেন তাঁর প্রশিক্ষক ক্যাপ্টেন সুভাষ সাক্সেনা।

জানা যায় বিমানটিকে সেই দিনের আগে মাত্র ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট ওড়ানোর অভিজ্ঞতা ছিল সঞ্জয়ের। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতেই রাখেন ইন্দিরা-পুত্র। সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে মাটি ছাড়ে সঞ্জয় গান্ধীর বিমান। কিছুক্ষণের মধ্যেই আকাশের বুকে স্টান্ট শুরু করেন সঞ্জয়।

কিন্তু নিয়তি সেদিন হয়ত অন্য কিছুই লিখে রেখেছিল। বিমান ঠিক কতটা উচ্চতায় রয়েছে তা আন্দাজ করতে পারেননি সঞ্জয় গান্ধি। যার জেরে বিমানের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন তিনি। নিয়ন্ত্রণহীন বিমানের একটি ডানা ধাক্কা খায় একটি নিম গাছে। সকাল ৮টা ১০, অর্থাৎ ঠিক ১২ মিনিটের মধ্যে ভেঙ্গে পড়ে বিমানটি। দুর্ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সঞ্জয় গান্ধীর।


অন্যদিকে সেই সময় নিজের অফিসে কাজ করছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। সেখানেই ছেলের দুর্ঘটনার খবর পান তিনি। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান ইন্দিরা। যদিও সেখানে গিয়ে শুধুই বিমানের ধ্বংসস্তুপ দেখতে পান তিনি। ছেলেকে আর ফিরে পাননি।

কংগ্রেসের বরিষ্ঠ নেতাদের কেউ কেউ বলেন, নিজের দুই ছেলেকেই ভীষণ ভালবাসতেন ইন্দিরা। কিন্তু সঞ্জয় ছিলেন তাঁর বেশি কাছের। তাই সেই সঞ্জয়ের মৃত্যুতে ভিতরে ভিতরে ভেঙ্গে কার্যত পুরোটাই ভেঙ্গে পড়েন ইন্দিরা। যদিও নিজের সেই অনুভূতি কখনই প্রকাশ্যে আসতে দেননি তিনি।

তবে নিয়তির পরিহাস সঞ্জয় গান্ধীকে যদি অকালে চলে যেতে না হত, তাহলে বর্তমান কংগ্রেস তথা দেশের রাজনীতির চিত্রটা অন্যরকম হত বলেই মনে করেন রাজনীতিবিদদের অনেকেই। সূত্র আজতক বাংলা