ডেঙ্গু প্রতিরোধে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
জুমার খুতবায় সচেতনতামূলক বক্তব্য, আক্রান্ত এলাকাগুলোয় প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদারের তাগিদ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিং করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে জুমার নামাজের খুতবায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
গতকাল বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক সভায় এসব নির্দেশনা দেন তিনি। সভায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আক্রান্ত এলাকাগুলোয় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনো সংস্থার বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সম্মিলিত কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে যেসব এলাকায় মানুষ বেশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন, সেসব এলাকায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেন। আক্রান্ত এলাকাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর জোর দেন তিনি।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি জুমার খুতবায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। জনসাধারণের কাছে প্রতিরোধের বার্তা পৌঁছে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনসচেতনতা বাড়ানো, আক্রান্ত এলাকাগুলোয় কার্যক্রম জোরদার করা এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজের আওতায় আনা। আগামী কয়েক মাসকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় নিয়ে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ কার্যকর করা এবং সাধারণ মানুষকে সচেতনতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।



















