ভোক্তাদের ক্ষোভের মধ্যে স্বস্তি এলপিজি ব্যবসায়ীদের দু’দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার
- আপডেট সময় : ০৬:১০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
২৯ অক্টোবর দাম নির্ধারণে গণশুনানি
এলপিজি ব্যবসায়ীদের ঘোষিত দুই দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আগামী ২৯ অক্টোবর গণশুনানির সিদ্ধান্তের পর বুধবার ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীরা। এতে আপাতত এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রিতে অচলাবস্থার আশঙ্কা কমেছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ওপর দেশের বিপুলসংখ্যক পরিবারের নির্ভরতা রয়েছে। রান্নার কাজে ব্যবহৃত এ জ্বালানির দাম, সরবরাহ এবং বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। দাম নির্ধারণে অনিয়ম, কথিত সিন্ডিকেটের প্রভাব এবং ব্যবসায়ীদের ইচ্ছামতো মূল্য পরিবর্তনের অভিযোগে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের ঘোষণা জনদুর্ভোগ আরও বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছিল।
এর আগে গত ১২ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এলপিজি ব্যবসায়ীরা ১৫ ও ১৬ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার, সারা দেশে এলপিজি বিক্রির দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের পক্ষ থেকে কমিশন বৃদ্ধি, কোম্পানিগুলোর ইচ্ছামতো দাম পরিবর্তন বন্ধসহ সাত দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো আদায়ে ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও সরকারের কঠোর অবস্থান এবং গণশুনানির সিদ্ধান্তের পর তা প্রত্যাহার করা হলো।
এর আগে ধর্মঘট প্রত্যাহার না করলে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয় সরকার। বুধবার সকালে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সরকারের এ অবস্থানের মধ্যেই ২৯ অক্টোবর গণশুনানির সিদ্ধান্ত আসে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এলপিজির মূল্য নির্ধারণ, ব্যবসায়ীদের কমিশন, সরবরাহব্যবস্থা এবং বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে গণশুনানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু শুনানির সিদ্ধান্ত নয়, এর মাধ্যমে উত্থাপিত সমস্যাগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান কতটা নিশ্চিত করা যায়, সেটিই হবে মূল বিবেচ্য।
এলপিজি ব্যবসায়ীদের দাবি ও সরকারের অবস্থানের পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, রান্নার জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে পরিবারগুলোর দৈনন্দিন ব্যয়ে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এলপিজির দাম বৃদ্ধি বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। দোকান বন্ধ থাকলে বা সরবরাহ ব্যাহত হলে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের খরচও বাড়তে পারে।
ব্যবসায়ীদের কমিশন ও পরিচালন ব্যয়ের যৌক্তিকতা বিবেচনা করা প্রয়োজন হলেও তার দায় যেন শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা, বাজারে সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি জরুরি। এলপিজির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানির বাজারে অস্বচ্ছতা ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ থাকলে তা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
ধর্মঘট প্রত্যাহারের ফলে আপাতত সম্ভাব্য ভোগান্তি এড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ভোক্তাদের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ দূর করতে শুধু ধর্মঘট বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়। ২৯ অক্টোবরের গণশুনানিতে ব্যবসায়ীদের দাবি, মূল্য নির্ধারণের যৌক্তিকতা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এলপিজির বাজারে স্বচ্ছতা, ন্যায্য মূল্য এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসায়ী ও ভোক্তা উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব হবে।



















