সৌদিগামী ৬১ ফ্লাইট বাতিল, প্রবাসীদের ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা, ভোগান্তিতে ৯২৬৯ যাত্রী
- আপডেট সময় : ১০:৫০:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
বাড়ছে যাতায়াত ও আবাসন ব্যয়
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে বিধিনিষেধের কারণে ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী এবং সৌদি আরব হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী ৬১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ৯ হাজার ২৬৯ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। ফ্লাইট বাতিলের কারণে প্রবাসী কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরা, নতুন কর্মীদের কাজে যোগদান এবং জরুরি প্রয়োজনে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি টিকিট পুনর্নির্ধারণ, অতিরিক্ত থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক যাত্রী।
মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক বিজ্ঞপ্তিতে ফ্লাইট বাতিল ও যাত্রী ভোগান্তির এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ২২টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৩৯টি। সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী চারটি এয়ারলাইন্স এবং ট্রানজিট ফ্লাইট পরিচালনাকারী ছয়টি এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম এ পরিস্থিতিতে ব্যাহত হয়েছে। সব মিলিয়ে ১০টি এয়ারলাইন্সের ৬১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুটি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের চারটি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের পাঁচটি, ফ্লাইদুবাইয়ের পাঁচটি, সালামএয়ারের তিনটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
বিপাকে প্রবাসী কর্মীরা
ফ্লাইট বাতিলের কারণে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের একাংশ। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা কর্মীদের যাত্রা পিছিয়ে গেলে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, বেতন কাটা কিংবা চাকরি নিয়ে জটিলতার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের সমস্যায় কতজন পড়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, নতুন ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কর্মীদের নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগদান নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিতে পারে। নিয়োগকর্তার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারলে নতুন কর্মীদের আবাসন, যোগদান এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া সৌদি আরবে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছে যাওয়ার জন্য যাত্রার প্রস্তুতি নেওয়া ব্যক্তি, চিকিৎসা বা জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণকারী এবং ব্যবসায়িক কাজে যাতায়াতকারীরাও বিপাকে পড়তে পারেন। বিশেষ করে যাদের ভিসার মেয়াদ, কর্মস্থলে যোগদানের সময় কিংবা জরুরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্দিষ্ট তারিখের সঙ্গে যুক্ত, তাদের জন্য ফ্লাইট বাতিল বাড়তি অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

বাড়ছে যাতায়াত ও আবাসন ব্যয়ের চাপ
ফ্লাইট বাতিলের ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি শুধু যাত্রা বিলম্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নতুন ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেকের অতিরিক্ত থাকা-খাওয়া, বিমানবন্দরে যাতায়াত এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বাড়তে পারে। যারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসে ফ্লাইট ধরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে যাতায়াত ও প্রয়োজনে আবাসনের খরচও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফ্লাইট পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সের নীতি অনুযায়ী টিকিট পরিবর্তন, বিকল্প ফ্লাইটে আসন পাওয়া কিংবা অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যাত্রীদের জন্য এসব সুবিধা কীভাবে কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সিদ্ধান্ত ও টিকিটের শর্তের ওপর নির্ভর করবে।
তবে ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাত্রীদের অতিরিক্ত ব্যয়ের মোট পরিমাণ, কতজনকে হোটেলে থাকতে হচ্ছে কিংবা কতজনের টিকিট পরিবর্তন করতে হয়েছে, এসব বিষয়ে বেবিচকের বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
ট্রানজিট যাত্রীদেরও দুর্ভোগ
সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তৃতীয় কোনো দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও সমস্যায় পড়েছেন। একটি সংযোগ ফ্লাইট বাতিল হলে পরবর্তী ফ্লাইটের সঙ্গে সংযোগ, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা এবং বিকল্প রুটে যাত্রার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।
এতে যাত্রার সময় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি লাগেজ ব্যবস্থাপনা, নতুন টিকিট এবং সংযোগ ফ্লাইটের সময়সূচি নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে কোন কোন ট্রানজিট বিমানবন্দরে কতজন যাত্রী আটকে পড়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে স্বাভাবিকতা
বেবিচকের বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে বিধিনিষেধের কারণে ফ্লাইট বাতিলের কথা জানানো হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
এ অবস্থায় যাত্রীদের বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফ্লাইট বাতিল হলে টিকিট পরিবর্তন, বিকল্প ফ্লাইট, অর্থ ফেরত এবং অতিরিক্ত খরচের দায় সম্পর্কে এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে স্পষ্ট তথ্য নেওয়াও জরুরি।
সৌদি আরবগামী ৯ হাজার ২৬৯ যাত্রীর এই ভোগান্তি প্রবাসী কর্মীদের যাতায়াতসহ দেশের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে সৃষ্ট চাপের বিষয়টি সামনে এনেছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে যাত্রীদের আর্থিক ক্ষতি ও কর্মস্থলে ফেরার অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।













