ঢাকা ০১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন ঋণচুক্তি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে, অধিকাংশ শর্তে একমত বাংলাদেশ সৌদির কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা, ২ বাংলাদেশিসহ নিহত  ১২ বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নে পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেবে ঢাকা মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় কোনো আপস নয়, সৌদি আরবকে সহায়তায় প্রস্তুত বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দিল্লিতে আটক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কী ঘটেছে তাঁকে ঘিরে এসএসসিতে অকৃতকার্যদের ৩ মাসের মধ্যে ফের পরীক্ষার সুযোগ বিবেচনা করছে সরকার: মাহদী আমিন অনলাইন চাকরির প্রলোভনে ব্যবসায়ীর ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ, তরুণী গ্রেপ্তার শেরপুরের ৫৫ বছরেও সোমেশ্বরী নদীতে সেতু নেই, দুর্ভোগে ১৫ হাজার মানুষ হাতি সংরক্ষণ ও পর্যটন উন্নয়নে কমবে মানুষ-হাতি সংঘাত: পরিবেশমন্ত্রী

নতুন ঋণচুক্তি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে, অধিকাংশ শর্তে একমত বাংলাদেশ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৩৬:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

নতুন ঋণচুক্তি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে, অধিকাংশ শর্তে একমত বাংলাদেশ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রস্তাবিত ঋণ কর্মসূচির অধিকাংশ শর্তের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে কিছু শর্ত বাস্তবায়নের সময় ও ধারাবাহিকতা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সোমবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, দুই পক্ষের মধ্যে ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে এবং পরবর্তী বৈঠকও নির্ধারিত আছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের সঙ্গে প্রস্তাবিত কর্মসূচি নিয়ে নিয়মিত সংলাপ হচ্ছে। ঋণ কর্মসূচির বিভিন্ন শর্ত নিয়ে উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও জানান, আইএমএফের কিছু শর্ত নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন হচ্ছে। এসব শর্তের মধ্যে কোনগুলো কখন এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নির্ধারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে কিছু ক্ষেত্রে শর্ত বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা বা ‘সিকোয়েন্সিং’ নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মতামত দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শর্তগুলোর বিষয়ে আলোচনা চলমান থাকলেও সেগুলো নিয়ে সমঝোতার পথ খোলা রয়েছে। ফলে নতুন ঋণ কর্মসূচি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে আলোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন ঋণ কর্মসূচি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং ঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।

সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে এমন একটি সহযোগিতামূলক কাঠামো গড়ে তোলা, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার ও জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এ ক্ষেত্রে ঋণ কর্মসূচির শর্ত এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আইএমএফের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের সঙ্গেও বাংলাদেশের সহযোগিতা আরও সুসংহত করার উদ্যোগ চলছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একটি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট বা অংশীদারত্ব কাঠামো চুক্তি নিয়ে কাজ চলছে। চুক্তিটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এই কাঠামোর মাধ্যমে আগামী দিনে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার ক্ষেত্র, অগ্রাধিকার এবং পারস্পরিক অংশীদারত্বের বিষয়গুলো নির্ধারিত হবে বলে জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যে নতুন কর্মসূচি ও উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়।

আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ কর্মসূচিতে সাধারণত অর্থনৈতিক সংস্কার, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রস্তাবিত কর্মসূচির শর্তগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে বলে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে।

তবে কোন কোন শর্তে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে, ঋণের পরিমাণ কত হবে কিংবা নতুন কর্মসূচি কবে চূড়ান্ত করা হবে—এসব বিষয়ে অর্থমন্ত্রী নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। ফলে অধিকাংশ শর্ত নিয়ে অগ্রগতির কথা জানানো হলেও চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের জন্য পরবর্তী আলোচনা ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।

এদিকে বিশ্ব অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক। শহরটির কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, উন্নয়ন সহযোগী এবং নীতিনির্ধারকেরা অংশ নিচ্ছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এ সম্মেলনে ১৯১টি দেশের ১৫ হাজারেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, উন্নয়ন অর্থায়ন এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এ সম্মেলনে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্যও এ সম্মেলন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং নতুন অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। আইএমএফের সঙ্গে প্রস্তাবিত ঋণ কর্মসূচির বিষয়ে চলমান আলোচনা এবং বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্ব কাঠামো চুক্তির উদ্যোগ সেই প্রক্রিয়ারই অংশ।

সব মিলিয়ে, নতুন ঋণচুক্তি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অধিকাংশ শর্তের বিষয়ে অগ্রগতি হলেও কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য ও বাস্তবায়নের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এসব বিষয় সমাধানের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ঋণ কর্মসূচি চূড়ান্ত করার প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :