যানজট কমাতে বৃত্তাকার সড়কের কাজ দ্রুত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০৩:৪২:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা মহানগরের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে অভ্যন্তরীণ বৃত্তাকার সড়ক (ইনার সার্কুলার রিং রোড) নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটির অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দ্রুত কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাজধানীর যানজটকে অন্যতম বড় নাগরিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করে সরকার এ সমস্যা সমাধানে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সড়ক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে চায়। এর অংশ হিসেবে আজ রবিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে সমন্বিতভাবে প্রকল্পের বিদ্যমান পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্প বাস্তবায়নে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত দূর করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে প্রকল্পটি শেষ করার জন্য বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণ এবং কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। রাজধানীর ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়ার বিষয়েও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ঢাকার যানজট এখন শুধু নাগরিক দুর্ভোগের বিষয় নয়, এটি নগর অর্থনীতি, কর্মঘণ্টা, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রোগী ও জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।
একটি স্বাভাবিক যাত্রা যেখানে অল্প সময়ে শেষ হওয়ার কথা, যানজটের কারণে সেখানে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। ফলে কর্মঘণ্টার অপচয়ের পাশাপাশি জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে এবং পরিবহন খাতেও তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ।
রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, একই সড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চাপ, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সড়কের অপর্যাপ্ত সক্ষমতা এবং যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা ও পার্কিংকে দায়ী করা হয়।
এর সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ বা অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বিস্তারও অনেক সড়কে যান চলাচলকে আরও জটিল করে তুলছে। এসব যান অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রুট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বাইরে চলাচল করায় মূল সড়কে যানবাহনের গতি কমে যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে তৈরি হয় দীর্ঘ সারি।
বিশেষ করে রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত হওয়ায় যানজট দ্রুত আশপাশের সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে একটি সড়কের সমস্যা অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো এলাকার চলাচল ব্যবস্থাকে অচল করে দেয়।
এই পরিস্থিতিতে বৃত্তাকার সড়কব্যবস্থা কার্যকরভাবে গড়ে তোলা গেলে শহরের কেন্দ্রভাগে প্রবেশ না করেই এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাওয়ার সুযোগ বাড়বে। এতে প্রধান সড়কগুলোর ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি দূরপাল্লা ও আঞ্চলিক যানবাহনের চলাচলও তুলনামূলকভাবে সহজ করা সম্ভব হবে।
তবে শুধু নতুন সড়ক নির্মাণ করলেই রাজধানীর যানজট পুরোপুরি নিরসন হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন অবকাঠামোর সঙ্গে গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার, অবৈধ পার্কিং বন্ধ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নগর পরিকল্পনার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বয় জরুরি।
সরকারের পরিকল্পনায় তাই ইনার সার্কুলার রিং রোড শুধু একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্প নয়, বরং রাজধানীর সামগ্রিক যান চলাচল ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী প্রকল্পের প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করে কাজের গতি বাড়ানো গেলে রাজধানীবাসীর দীর্ঘদিনের যানজটের ভোগান্তি কমানোর ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।











