এসএসসিতে অকৃতকার্যদের ৩ মাসের মধ্যে ফের পরীক্ষার সুযোগ বিবেচনা করছে সরকার: মাহদী আমিন
- আপডেট সময় : ০৬:৫৩:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে ফল প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে সরকার। এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তবে চলতি বছর থেকেই এ ব্যবস্থা চালু করা কঠিন হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গণসাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন, ২০২৬’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের সমস্যা, হতাশা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
সম্মেলনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা দাবি জানান, এক বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে যেন শিক্ষার্থীদের পুরো এক বছর অপেক্ষা করতে না হয়। ফল প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ চালু হলে শিক্ষার্থীরা দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে তাঁরা মনে করেন।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পরবর্তী বছরের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে আবার পরীক্ষা দিতে হয়। চাইলে সব বিষয়েও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে কোনো শিক্ষার্থী একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও পরবর্তী শিক্ষাজীবনে এগিয়ে যেতে তাকে এক বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।
শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মাহদী আমিন বলেন, এক বছর অপেক্ষা না করে তিন মাসের মধ্যে অকৃতকার্য বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা যায় কি না, তা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাসও দেন তিনি। তবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার কারণে চলতি বছরেই এ ব্যবস্থা চালু করা কঠিন হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
চলতি বছরের ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।
পরে ফল পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের পর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়। এ ছাড়া প্রথমবার ফল প্রকাশের সময় অকৃতকার্য হলেও পুনর্নিরীক্ষণের পর ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২০৭। অর্থাৎ, এবার পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে অকৃতকার্য থেকে উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।
এদিকে, পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল করতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প শিক্ষাপথ ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও দক্ষতা বিবেচনায় কাউকে কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র বা কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা হতে পারে। যাঁরা ব্যবসা করতে আগ্রহী, তাঁদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে তহবিল সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে দক্ষতা অর্জন ও তৃতীয় ভাষা শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ কোর্সের মাধ্যমে বিদেশে কাজের সুযোগ সহজ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
মাহদী আমিন আরও বলেন, এ বিষয়ে সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিবের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শিক্ষার্থীরা যেন পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না করলেও শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ শিক্ষাক্রম যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকার তড়িঘড়ি বা অপরিকল্পিত কোনো উদ্যোগ নেবে না।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরীর সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান, গণসাক্ষরতা অভিযানের চেয়ারপারসন ইরাম মরিয়ম, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের এদেশীয় পরিচালক কবিতা বোস, পরিচালক নিশাত সুলতানা, লেখক ও মোটিভেশনাল স্পিকার সাদাত হোসাইন এবং নিউজিল্যান্ড ডেইরির চিফ মার্কেটিং অফিসার আসিফ রউফসহ অন্যরা।
তবে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রস্তাবটি বিবেচনাধীন থাকায় নতুন নিয়ম চালুর ঘোষণা না আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিদ্যমান পরীক্ষাব্যবস্থাই অনুসরণ করতে হবে।















