ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এখনও ডিজেলে লোকসান লিটারে ৭০ টাকা : রিজভী জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যে তেমন প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: মৎস্যমন্ত্রী বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষায় ভারতকে পণ্য আমদানি বাড়ানোর তাগিদ জাতিসংঘে জিয়া পরিবার বাংলাদেশের কণ্ঠস্বরের চার দশকের পথচলা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি   কিলোমিটার প্রতি বাসভাড়া বাড়ল ১৭ পয়সা দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ, এমপি গাজী নজরুল ৪ দিনের রিমান্ডে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ট্রাক ভাড়া বেড়েছে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ৮১তম জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘে জিয়া পরিবার বাংলাদেশের কণ্ঠস্বরের চার দশকের পথচলা

আমিনুল হক ভূইয়া
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৮:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে

জাতিসংঘে জিয়া পরিবার বাংলাদেশের কণ্ঠস্বরের চার দশকের পথচলা

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চ জাতিসংঘ। সেখানে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, গণতন্ত্র, উন্নয়ন, শান্তি ও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার ইতিহাসে জিয়া পরিবারের উপস্থিতি একটি দীর্ঘ ধারাবাহিকতার প্রতীক। ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কণ্ঠে যে আত্মনির্ভর বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতার প্রত্যয় উচ্চারিত হয়েছিল, ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারায় যুক্ত করেছিলেন গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ন্যায়সংগত বৈশ্বিক ব্যবস্থা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রশ্ন।

এবার সেই ধারাবাহিকতার তৃতীয় অধ্যায় রচনা করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তিনি ইতোমধ্যে (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। তাঁর এই ভাষণ হবে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্যের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য। এই পথচলার শুরু ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট। জাতিসংঘের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল বাংলাদেশের কঠিন বাস্তবতা, আত্মনির্ভর উন্নয়ন, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং বিশ্বব্যাপী ধনী-দরিদ্র বৈষম্য কমানোর প্রয়োজনীয়তা। একই সঙ্গে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। জিয়াউর রহমানের বক্তব্যে একটি বিষয় বিশেষভাবে স্পষ্ট ছিল, বাংলাদেশের উন্নয়নের দায়িত্ব বাংলাদেশকেই নিতে হবে, তবে সেই উন্নয়নযাত্রায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতারও প্রয়োজন রয়েছে।

কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের কাজে সম্পৃক্ত করার কথা বলেন। আত্মনির্ভরতাকে তিনি বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার মূলমন্ত্র হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর দৃষ্টিতে বাংলাদেশের উন্নয়ন কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় ছিল না, এর সঙ্গে যুক্ত ছিল দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা। এ কারণেই তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

তাঁর সেই আহ্বান পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার বৃহত্তর ধারণার সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত হয়ে যায়। এর ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন বেগম খালেদা জিয়া। জাতিসংঘের নথিতেও তাঁর ওই ভাষণের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। খালেদা জিয়ার বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা, উন্নয়ন, মানবাধিকার, জাতীয় সার্বভৌমত্ব, ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রশ্ন গুরুত্ব পায়।

তিনি গণতন্ত্র ও উন্নয়নকে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত হিসেবে তুলে ধরেন। উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের মধ্যে প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমানো, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। আঞ্চলিক ইস্যুতেও তাঁর বক্তব্য ছিল স্পষ্ট। সার্ককে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়ন ও সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, বিশেষ করে গঙ্গার পানি বণ্টনের বিষয়টি তিনি জাতিসংঘের সামনে তুলে ধরেন।

শরণার্থী সমস্যা, পরিবেশ, শান্তিরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইনের শাসন নিয়েও তিনি বাংলাদেশের অবস্থান ব্যক্ত করেন। দুই প্রজন্মের দুই নেতার বক্তব্যে সময়ের ব্যবধান থাকলেও বাংলাদেশের কিছু মৌলিক অগ্রাধিকার স্পষ্টভাবে ধারাবাহিক জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আঞ্চলিক সহযোগিতা, শান্তি, সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার।

এবার সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় যুক্ত হতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ৮১তম সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহারের মতো বিষয় উঠে আসার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।

অর্থাৎ ১৯৮০ সালে যে মঞ্চে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের আত্মনির্ভরতার কথা বলেছিলেন, ১৯৯৩ সালে যে মঞ্চে খালেদা জিয়া গণতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কথা বলেছিলেন, চার দশকের বেশি সময় পর সেই একই বিশ্বমঞ্চে তারেক রহমান বাংলাদেশের বর্তমান অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরবেন। এটি শুধু একটি পরিবারের তিন সদস্যের জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার ঘটনা নয়, এটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনীতির দীর্ঘ পথচলারও একটি দৃশ্যমান অধ্যায়। সময় বদলেছে, বিশ্বের বাস্তবতা বদলেছে, বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জও বদলেছে।

কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বমঞ্চে নিজের কথা বলার প্রয়োজনটি রয়ে গেছে অটুট। তাই ২৪ সেপ্টেম্বরের সেই মুহূর্তের দিকে বাংলাদেশের মানুষের দৃষ্টি থাকবে স্বাভাবিকভাবেই। নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কথা বলবেন, তখন তাঁর কণ্ঠে প্রতিফলিত হবে একটি দেশের বর্তমান বাস্তবতা, জাতীয় প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

বাবা জিয়াউর রহমানের আত্মনির্ভরতার বার্তা, মা খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রত্যয় এবং নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা এই তিন ধারার মিলনেই রচিত হতে পারে জাতিসংঘে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বরের নতুন অধ্যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :