স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু হাসপাতালে ১,৫৯৩
- আপডেট সময় : ০৭:০৬:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ যেন থামছেই না। প্রতিদিন নতুন করে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ, বাড়ছে মৃত্যুও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৪ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোববারের বুলেটিনে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় এইডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ১৩২ জন ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৩৮৪ জন।
ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে ১৫৪ জন, চট্টগ্রামে ১৬৭, খুলনায় ২৯২, ময়মনসিংহে ৮২, রাজশাহীতে ১৩৭, রংপুরে ৬৫ এবং সিলেটে ৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অর্থাৎ রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসেই ডেঙ্গুতে ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের মাসভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে মৃত্যুর সংখ্যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬১ হাজার ৯৭২ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫৭ হাজার ৬১০ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায়ও ১ হাজার ৫৮৭ জন ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে বিপুলসংখ্যক রোগী একদিকে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফিরলেও অন্যদিকে প্রায় সমসংখ্যক নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ফলে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
ডেঙ্গুর এই পরিস্থিতি শুধু পরিসংখ্যানের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য পরিবারের উদ্বেগ, চিকিৎসার ব্যয় এবং প্রিয়জনকে হারানোর শোক। একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার অর্থ অনেক পরিবারের জন্য কর্মক্ষম একজন সদস্যের অনুপস্থিতি, বাড়তি চিকিৎসা ব্যয় এবং অনিশ্চয়তার শুরু। মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করছে। সেই হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা যায়। ওই বছর ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন। গত বছরও ডেঙ্গুর প্রকোপ কম ছিল না। সে বছর চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয় এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন প্রায় ১ লাখ ২ হাজার মানুষ।
চলতি বছরের পরিস্থিতিও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর মাসে মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় ডেঙ্গুর মৌসুমি বিস্তার নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশা নিধন ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা নেওয়া যথেষ্ট নয়। মশার বংশবিস্তার রোধ, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা একই সঙ্গে জোরদার করা প্রয়োজন। কারণ হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানের প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একজন মানুষ, একটি পরিবার এবং একটি মানবিক গল্প।
ডেঙ্গু এখন আর শুধু বর্ষাকালের একটি সাময়িক স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়; প্রতিবছর এর বিস্তার ও প্রাণহানির মাত্রা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। তাই আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর হিসাব প্রকাশের পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

















