বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বাড়াতে বি-টু-বি টাস্কফোর্স গঠনের তাগিদ
- আপডেট সময় : ০৬:০৯:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬১ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়ানো, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করা এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে নতুন গতি দিতে বিজনেস-টু-বিজনেস (বি-টু-বি) টাস্কফোর্স গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার তুলসীদাস বাধে।
ঢাকায় এফবিসিসিআইয়ের গুলশান কার্যালয়ে ফেডারেশনের প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা, ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
পবন কুমার তুলসীদাস বাধে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে একটি যৌথ বি-টু-বি টাস্কফোর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা এবং সম্ভাবনাময় খাতে নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রস্তাবিত টাস্কফোর্স গঠনের প্রক্রিয়ায় গতি আনতে তাঁর কার্যালয় উভয় দেশের সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার। একই সঙ্গে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
দুই দেশের মানুষের যাতায়াত ও ভিসা প্রসঙ্গও বৈঠকে উঠে আসে। এ বিষয়ে পবন কুমার তুলসীদাস বাধে জানান, বিভিন্ন ধরনের ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় হাইকমিশন প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ভিসা ইস্যু করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, একটি যৌথ বি-টু-বি টাস্কফোর্স বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়িয়ে উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা গেলে উভয় দেশের জন্যই বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে সম্ভাবনাময় খাতে যৌথ উদ্যোগ, বিনিয়োগ এবং উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমুখী করা সম্ভব।
বৈঠকে উঠে আসা আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে আরও নিবিড় যোগাযোগ এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাই স্পষ্ট হয়েছে। প্রস্তাবিত বি-টু-বি টাস্কফোর্স গঠিত হলে ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে নিয়মিত মতবিনিময়, বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিতকরণ এবং নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা অনুসন্ধানে একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।


















