ঢাকা ০৬:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বগুড়া কৃষকের হাসি কেড়ে নিয়েছে সবজির দরপতন বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও বিকল্প অর্থায়নে গুরুত্ব এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ প্রস্তাবসহ ২৩ সমঝোতায় এগোল বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হাটে ঢুকেই গুলি, বের হওয়ার সময় বলল ‘আজ স্বাধীন পুষ্পপাড়া ’ পাবনায় বিলে বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু আহত আরও কয়েকজন পাকা জুম ধানে সোনালি হাসি, ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত রাঙামাটির জুমিয়ারা সংসদীয় কূটনীতিতে বাংলাদেশ-ব্রিটেন সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যয় চন্দ্রনাথ পাহাড়ে সবুজ প্রকৃতি, নজরুল ও বন্ধুত্বের অমলিন স্মৃতি শনিবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ

সমর্থক ভাইয়ারা না থাকলে ঘটনা অন্য রকম হয়ে যেতো: নাঈম হাসান

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:১৮:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ ৩১৬ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখে জাদীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান : ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে চট্টগ্রামে পুলিশের কথিত মারধর ও হেনস্তার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একজন জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদের সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগ শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীলতা, মানবাধিকার এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

নাঈম হাসানের বর্ণনা অনুযায়ী, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ তাঁর বহনকারী অটোরিকশা থামায়। পরে তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয় এবং থানায় নিয়ে গিয়ে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে নাঈম বলেন, ঘটনাকালে স্থানীয় শতাধিক মানুষের উপস্থিতি না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। তিনি দাবি করেন, তাঁকে জোরপূর্বক সিএনজিতে তোলা হলে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন।

ঘটনার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হস্তক্ষেপে তিনি থানা থেকে মুক্তি পান। নাঈমের অভিযোগ, থানায় অবস্থানকালে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে কথা বলার সময়ও তাঁকে চুপ থাকতে বলা হয়েছিল। পুরো ঘটনার পর তিনি নিজেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে উল্লেখ করেছেন।

এ ঘটনায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) দ্রুত কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে খুলশী থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত পুলিশের সোর্সকেও আটক করা হয়েছে এবং ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, তদন্তের ফলাফল কতটা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।

সমর্থক ভাইয়ারা না থাকলে ঘটনা অন্য রকম হয়ে যেতো: নাঈম হাসান
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন নাঈম হাসানের বাবা মাহবুবুল আলম। ছবি সংগ্রহ

নাঈম হাসানের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। কারণ, যদি তাঁর বক্তব্য সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি শুধু পেশাগত দায়িত্বে অবহেলা নয়, বরং নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভয়ভীতি সৃষ্টি করা নয়।

দেশের একজন জাতীয় ক্রিকেটারের সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, একজন পরিচিত ক্রীড়াবিদ যদি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তাহলে সাধারণ নাগরিকদের অবস্থা কী হতে পারে, সেই প্রশ্নও সামনে চলে আসে।

সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনসাধারণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি। ভবিষ্যতে যাতে কোনো নাগরিককে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে না হয়, সে জন্য জবাবদিহিতা ও মানবাধিকারসম্মত পুলিশি আচরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :