রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু
- আপডেট সময় : ০৮:০৪:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে প্রথম ইউনিটে দ্বিতীয় দফার পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। দেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শুক্রবার বিকেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম গণমাধ্যমকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে দুপুর ১২টায় দ্বিতীয় দফার পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরপর ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পাওয়ার স্টার্টআপ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কারিগরি প্রস্তুতির বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যায়ে পারমাণবিক চুল্লিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা ধারাবাহিক পারমাণবিক বিক্রিয়া তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিতভাবে চুল্লির শক্তি উৎপাদনক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। উৎপাদনক্ষমতা নির্ধারিত পর্যায়ে পৌঁছানোর পর বিভিন্ন পরীক্ষা শেষে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহের কার্যক্রম শুরু হবে।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা অনুসরণ করে রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এ প্রকল্পে বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। প্রথম ইউনিটের স্টেজ ‘বি-১’ মোটামুটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার জটিলতাও কাটিয়ে ওঠা হয়েছে।
এরপর শুরু হয় পরবর্তী ধাপ ‘বি-২’। এ পর্যায়ে প্রাথমিক পরিচালনার জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করা হয়। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শুরু হয় ক্রিটিক্যালিটি পর্যায়।
ক্রিটিক্যালিটি হলো পারমাণবিক চুল্লিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত ধারাবাহিক পারমাণবিক বিক্রিয়া প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া। এ অবস্থায় চুল্লির শক্তি উৎপাদনক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়।
উৎপাদনক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছালে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।



















