এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ প্রস্তাবসহ ২৩ সমঝোতায় এগোল বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক
- আপডেট সময় : ০৮:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক জাপান সফর অত্যন্ত কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখা, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই পররাষ্ট্রনীতিকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী জাপান সফর করেছেন। সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন চাহিদা ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যোগাযোগ, পরিবেশ, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা, টেকসই অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।
গত ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানে পৌঁছান। সফরের অংশ হিসেবে ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে প্রায় এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়। এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে জাপানের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করবে বলেও আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ ছাড়া মোট ৪৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের দুটি ইয়েন-লোন প্রকল্পে ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এসব সহযোগিতা বাংলাদেশের অবকাঠামো ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে একটি টহল জাহাজ সংগ্রহের জন্য জাপানের পক্ষ থেকে ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ১৩ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত অনুদান সহায়তার চুক্তির বিষয়টিও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
এদিকে, সরকারি পর্যায়ে চুক্তি ও সমঝোতার পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো)-এর উদ্যোগে দুই দেশের বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক পর্যায়েই নয়, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা পেয়েছে। উন্নয়ন সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিনিয়োগ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে জাপানের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও জোরদার হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে নেওয়া উদ্যোগ ও স্বাক্ষরিত সমঝোতাগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে এ সফর দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।



















