হাটে ঢুকেই গুলি, বের হওয়ার সময় বলল ‘আজ স্বাধীন পুষ্পপাড়া ’
- আপডেট সময় : ০৭:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
পাবনার আতাইকুলা থানার পুষ্পপাড়া হাটে ঢুকেই এলোপাতাড়ি গুলি চালায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। হামলার পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় তারা বলতে থাকে, ‘আজ পুষ্পপাড়া স্বাধীন’। দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন দুজন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পুষ্পপাড়া গরুর হাটের কার্যালয়ে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ শ্রমিক লীগের পাবনা সদর উপজেলা আহ্বায়ক আবদুস সালাম (৫৬) এবং তাঁর ভাগনে আতাইকুলা ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি রিপন হোসেন (৫০)। তাঁরা দুজনই আতাইকুলা ইউনিয়নের ধর্মগ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল হঠাৎ হাটের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তাঁদের সবার মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। কার্যালয়ে ঢুকেই তাঁরা গুলি চালাতে শুরু করেন। গুলি করার পর বেরিয়ে যাওয়ার সময় বলতে থাকেন, ‘আজ পুষ্পপাড়া স্বাধীন’। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবদুস সালাম প্রায় ৩০ বছর ধরে পুষ্পপাড়া গরুর হাটের ইজারাদার ছিলেন। তাঁর ভাগনে রিপন সব সময় মামার সঙ্গে থাকতেন। ঘটনার সময় তাঁরা দুজনই হাটের কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে দুর্বৃত্তরা তাঁদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে তাঁরা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল ও নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। হাটের কার্যালয়ের মেঝেতে তখনো রক্তের দাগ দেখা যাচ্ছিল। সেখানে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। অন্যদিকে নিহত আবদুস সালামের বাড়িতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
নিহত আবদুস সালামের বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ জানান, তাঁর ভাই প্রায় তিন দশক ধরে পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদার ছিলেন। তিনি পবিত্র কোরআনের হাফেজ ছিলেন এবং কয়েকবার হজ পালন করেছেন। হাট থেকে অর্জিত আয়ের বড় একটি অংশ মসজিদ ও মাদ্রাসায় দান করতেন।
তিনি বলেন, কী কারণে তাঁর ভাই ও ভাগনেকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো বুঝতে পারছেন না। তবে হাটের দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে তাঁদের ধারণা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত হলে মামলা করা হবে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পেছনে হাটের ইজারা এবং পূর্বশত্রুতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার জানান, প্রাথমিকভাবে দুটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় শুক্রবার পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বলেন, নিহত আবদুস সালামের ভাই আবুল কালাম চরমপন্থী নেতা ছিলেন। হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধ অথবা চরমপন্থীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কারা, কী উদ্দেশ্যে এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা উদ্ঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।



















