ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের দাম, কূটনীতিতেও কোণঠাসা ভারত জ্বালানি সহযোগিতায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা সই শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ‘খুবই সফল’ বৈঠক শেষে বেইজিং ছাড়লেন ট্রাম্প ভারতীয় হাই কমিশনের আয়োজনে ঢাকায় রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদযাপন মশা নৌবহর: হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ছোট নৌকা যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে গরীবের পুষ্টিতে থাবা: গরম ডিম-সবজির বাজার, পেঁয়াজের হাফ সেঞ্চুরী ঈদুল আজহায় টানা ৭ দিনের ছুটি, ঢাকা ছাড়তে পারেন কোটি মানুষ পর্যটকদের নিরাপত্তায় কক্সবাজার-কুয়াকাটা স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার সূচিতে পরিবর্তন: ২০২৭ সালের এসএসসি শুরু ৭ জানুয়ারি, এইচএসসি ৬ জুনে বিয়ের সওদা করতে গিয়ে ৪ ভাইয়ের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া

ভারতীয় হাই কমিশনের আয়োজনে ঢাকায় রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদযাপন

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৫:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে

অতিথিবৃন্দ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দুই মহান কবির প্রতি মানুষের অবিরাম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ভারত-বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে

ভারতীয় হাই কমিশনের উদ্যোগে ঢাকায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী।

রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে আয়োজিত এ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্পাঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থী এবং সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি। সভাপতিত্ব করেন ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভারতীয় হাই কমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার পাওয়ানকুমার বঢ়ে।

ভারতীয় হাই কমিশনের আয়োজনে ঢাকায় রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদযাপন
সাংস্কৃতিক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদ। এতে সহযোগিতা করে ইন্দিরা গান্ধী সংস্কৃতি কেন্দ্র (আইজিসিসি), কালচারাল স্কুল তপোবন, নৃত্যাঞ্চল এবং বহুমাত্রিক ডটকম।

আয়োজকরা জানান, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল শুধু বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির নয়, বরং ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

বক্তব্য প্রদানকালে ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার পাওয়ানকুমার বঢ়ে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম দুই বাংলার মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে বেঁচে আছেন।

 তাদের সাহিত্য, সংগীত ও মানবতাবাদী দর্শন আজও কোটি মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই দুই মহান কবির প্রতি মানুষের অবিরাম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ভারত- বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নৃত্যাঞ্চলের শিল্পীদের পরিবেশনায় নৃত্য-সঙ্গীতনির্ভর মূকনাট্য নৃত্যগীতি। এটি নির্দেশনা দেন দেশের প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী শামীম আরা নীপা এবং শিবলী মোহাম্মদ।

পরিবেশনাটিতে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সংগীত ও দর্শনের সৃজনশীল সমন্বয় তুলে ধরা হয়। শিল্পীরা কবি দু’জনের ১৪টি জনপ্রিয় গানের সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন, যা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

ভারতীয় হাই কমিশনের আয়োজনে ঢাকায় রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদযাপন
ভারতীয় হাই কমিশনের আয়োজনে ঢাকায় রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদযাপন

আলোচনা পর্বে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আহমেদ রেজা। তারা রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্য, দর্শন, মানবতা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার ১৩টি বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীর আঁকা রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের প্রতিকৃতি নিয়ে একটি চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।

অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারী নবীন শিল্পী ও শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা সনদ তুলে দেওয়া হয়। প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া এই অনুষ্ঠান দুই বাংলার সাংস্কৃতিক বন্ধনের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে উপস্থিত দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভারতীয় হাই কমিশনের আয়োজনে ঢাকায় রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদযাপন

আপডেট সময় : ০৩:৪৫:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

দুই মহান কবির প্রতি মানুষের অবিরাম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ভারত-বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে

ভারতীয় হাই কমিশনের উদ্যোগে ঢাকায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী।

রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে আয়োজিত এ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্পাঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থী এবং সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি। সভাপতিত্ব করেন ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভারতীয় হাই কমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার পাওয়ানকুমার বঢ়ে।

ভারতীয় হাই কমিশনের আয়োজনে ঢাকায় রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদযাপন
সাংস্কৃতিক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদ। এতে সহযোগিতা করে ইন্দিরা গান্ধী সংস্কৃতি কেন্দ্র (আইজিসিসি), কালচারাল স্কুল তপোবন, নৃত্যাঞ্চল এবং বহুমাত্রিক ডটকম।

আয়োজকরা জানান, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল শুধু বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির নয়, বরং ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

বক্তব্য প্রদানকালে ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার পাওয়ানকুমার বঢ়ে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম দুই বাংলার মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে বেঁচে আছেন।

 তাদের সাহিত্য, সংগীত ও মানবতাবাদী দর্শন আজও কোটি মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই দুই মহান কবির প্রতি মানুষের অবিরাম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ভারত- বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নৃত্যাঞ্চলের শিল্পীদের পরিবেশনায় নৃত্য-সঙ্গীতনির্ভর মূকনাট্য নৃত্যগীতি। এটি নির্দেশনা দেন দেশের প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী শামীম আরা নীপা এবং শিবলী মোহাম্মদ।

পরিবেশনাটিতে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সংগীত ও দর্শনের সৃজনশীল সমন্বয় তুলে ধরা হয়। শিল্পীরা কবি দু’জনের ১৪টি জনপ্রিয় গানের সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন, যা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

ভারতীয় হাই কমিশনের আয়োজনে ঢাকায় রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদযাপন
ভারতীয় হাই কমিশনের আয়োজনে ঢাকায় রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদযাপন

আলোচনা পর্বে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আহমেদ রেজা। তারা রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্য, দর্শন, মানবতা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার ১৩টি বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীর আঁকা রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের প্রতিকৃতি নিয়ে একটি চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।

অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারী নবীন শিল্পী ও শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা সনদ তুলে দেওয়া হয়। প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া এই অনুষ্ঠান দুই বাংলার সাংস্কৃতিক বন্ধনের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে উপস্থিত দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলে।