মশা নৌবহর: হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ছোট নৌকা যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে
- আপডেট সময় : ০১:০৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি ইরানের নৌবাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছেন এবং এখন তাদের সক্ষমতা শুধু মেশিনগানযুক্ত ছোট নৌকায় সীমাবদ্ধ।
তবে এই ছোট নৌকা বা পশ্চিমা বিশ্লেষকদের ভাষায় মশা নৌবহর শুধুই ছোট নয়, এদের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি।
এই নৌকাগুলো কয়েক মাস ধরে হরমুজ প্রণালিতে বিশ্ব বাণিজ্যের চলাচল বিঘ্নিত করছে এবং ইরানের শাসকগোষ্ঠী তা ব্যবহার করে ওয়াশিংটনকে চাপ দিতে চায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এদের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বের অর্থনীতিতে আঘাত হানা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ থেকে বিরত রাখা।
ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ১৯৮০-এর দশকে এই বহরের নকশা করা হয়। মূলত বড় নৌবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে ইরান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দ্রুতগতির ছোট নৌকা কৌশল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) পরিচালিত এই বহর তৈরি করা হয়েছে হয়রানি, ঘিরে ফেলা, বিভ্রান্ত করা ও চলাচল ব্যাহত করা কৌশল অনুসারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেনেসির অধ্যাপক সাঈদ গোলকার বলেন, আইআরজিসি জানে যে প্রচলিত নৌযুদ্ধে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করতে পারবে না।

তাই তারা উপসাগর অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ঝুঁকি বাড়াতে এই নৌকা ব্যবহার করে।
মেশিনগান, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেটসহ এই নৌকাগুলো অনেকটা বেসামরিক নৌকা বা মাছ ধরার নৌকাকে রূপান্তরিত করে তৈরি করা হয়েছে।
হাডসন ইনস্টিটিউটের ফেলো কান কাসাপোগলু বলেন, এই নৌকা সাশ্রয়ী এবং সহজে প্রতিস্থাপনযোগ্য। তুলনামূলক কম খরচে ইরান সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
অনুমান করা হয়, ইরানের দক্ষিণ উপকূলজুড়ে প্রায় ৫০০ থেকে এক হাজারেরও বেশি নৌকা লুকিয়ে আছে, যা নিয়মিত নৌ-মহড়া ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়।
বিশ্লেষকরা এটিকে সামুদ্রিক গেরিলা যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করেন। সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়াতে এই নৌকা ঝাঁক, মাইন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে এবং প্রতিপক্ষের খরচ বাড়ায়।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্বের তুলনায় প্রায় ৯০% কমে গেছে। রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং অনুযায়ী বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১০টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করছে, যা স্বাভাবিক গড় ৬০টির প্রায় ৮%। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১,৫০০টি জাহাজ এবং ২০,০০০ নাবিক এই অবরোধে আটকে আছে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানিয়েছে, কাতারের দোহা শহরের কাছে একটি পণ্যবাহী জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়।
যদিও কোনো হতাহতের খবর নেই, তবে এ ধরনের হামলা বাণিজ্যিক চলাচলকে ব্যাহত করছে এবং তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে।
ইরানের ছোট নৌকাগুলোর এই “মশা নৌবহর” প্রমাণ করেছে, কম ব্যয়ে দ্রুতগতির নৌকা ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী নৌবাহিনীর খরচ ও কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলা সম্ভব।
হরমুজ প্রণালিতে এর কার্যকারিতা যুক্তরাষ্ট্র ও বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেল সরবরাহে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে।


















