ঢাকা ০১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কাগজে নদীর সংখ্যা বাড়ছে নদী রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় সংকট সাশ্রয়ী আবাসন অর্থায়নে বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি শেরপুর সীমান্তে ভারতীয় সাবান-মদ জব্দ বিজিবির গরু আটক নিয়ে চাঞ্চল্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সমাধান কেবল কূটনীতিতেই: ইরান চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বাঁধা বাবা, চা-রুটি খাইয়ে দিচ্ছিল ৯ বছরের মেয়ে জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী বিরাজলক্ষী ঘোষের কবিতা ‘ঈশ্বরের সাথে মেঘের মাঝে’ সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী আয়ুর্বেদে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ  গবেষণা কেন্দ্র গঠনের প্রস্তাব এখনও ডিজেলে লোকসান লিটারে ৭০ টাকা : রিজভী

পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:১৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ ২৯৮ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন কিছু দিন আসে, যেগুলো শুধু জয় নয়, একটি জাতির আবেগ, গর্ব আর আত্মবিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক টেস্ট জয় তেমনই এক মহাকাব্যিক অধ্যায়।

বহু বছরের অপেক্ষা, অসংখ্য হতাশা আর আক্ষেপের পর অবশেষে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হারিয়ে ইতিহাস লিখলো টাইগাররা। আর সেই ইতিহাসের নায়ক হয়ে উঠলেন তরুণ গতিতারকা নাহিদ রানা।

শেষ বিকেলের আলো তখন ধীরে ধীরে ম্লান হচ্ছে। গ্যালারিতে হাজারো দর্শকের চোখে উদ্বেগ, উত্তেজনা আর স্বপ্নের মিশেল। ২৬৮ রানের লক্ষ্য দিয়েও বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে শঙ্কা ছিল অনেকের মনে।

কারণ ক্রিকেটে পাকিস্তান সবসময়ই ভয়ংকর এক প্রতিপক্ষ। কিন্তু সেদিন মাঠে নামা বাংলাদেশ ছিল অন্যরকম-দৃঢ়, আত্মবিশ্বাসী এবং প্রতিশোধস্পৃহায় উজ্জীবিত।

ইনিংসের প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদের আগুনঝরা বলে ইমাম-উল-হক বিদায় নিতেই যেন ম্যাচের সুর বদলে যায়। মিরপুরের গ্যালারি গর্জে ওঠে। এরপর আজান আওয়াইস ও শান মাসুদের উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে চাপে ফেলে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। ৬৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে সফরকারীরা।

তবে পাকিস্তানও লড়াই করার চেষ্টা করেছিল। আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগার জুটি বাংলাদেশের স্বপ্নে কিছুটা শঙ্কা তৈরি করেছিল। বিশেষ করে ফজলের দৃষ্টিনন্দন ফিফটি পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরানোর ইঙ্গিত দিচ্ছিল।

কিন্তু তখনই আবির্ভাব ঘটে তাইজুল ইসলামের। তার ঘূর্ণিতে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন ফজল। ঠিক পরের ওভারেই তাসকিনের শিকারে পরিণত হন সালমান আগা। মুহূর্তেই আবার ম্যাচ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

এরপর মঞ্চে আসেন নাহিদ রানা। তরুণ এই পেসারের চোখে তখন আগুন, হাতে যেন বজ্রের গতি। একের পর এক বাউন্সার, ভয়ংকর গতি আর নিখুঁত লাইন-লেংথে পাকিস্তানি ব্যাটারদের কাঁপিয়ে দেন তিনি। নিজের টানা দুই ওভারে সৌধ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ফিরিয়ে দিয়ে কার্যত ম্যাচ শেষ করে দেন নাহিদ। পুরো মিরপুর তখন “বাংলাদেশ, বাংলাদেশ” ধ্বনিতে কাঁপছে।

নাহিদের প্রতিটি বল যেন ছিল একটি বার্তা, বাংলাদেশ এখন আর ছোট দল নয়, তারা লড়তে জানে, জিততে জানে। শাহীন আফ্রিদি ও মোহাম্মদ আব্বাস শেষ চেষ্টা করলেও সেই প্রতিরোধও ভেঙে দেন নাহিদ। শেষ উইকেট পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো স্টেডিয়াম আনন্দে বিস্ফোরিত হয়।

খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস, দর্শকদের চোখের জল আর লাল-সবুজ পতাকার উড়াউড়ি সব মিলিয়ে এক আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দেয়।

১০৪ রানের এই জয় শুধুই একটি পরিসংখ্যান নয়। এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডের পর এবার পাকিস্তানও হার মানলো মিরপুরের মাটিতে। আর এই জয়ের মধ্য দিয়ে নতুন এক বার্তা দিলো বাংলাদেশ—টাইগাররা এখন ইতিহাস গড়তে জানে।

নাহিদ রানার পাঁচ উইকেট, তাসকিনের আগুনঝরা স্পেল, তাইজুলের অভিজ্ঞতা আর পুরো দলের সম্মিলিত লড়াই প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই জয় বহুদিন মনে রাখবে দেশের কোটি ক্রিকেটপ্রেমী। কারণ এমন জয় শুধু ম্যাচ জেতায় না, পুরো জাতিকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :