ঢাকা ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চীনের সঙ্গে গভীরতর শিল্প অংশীদারত্বে আগ্রহী বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় লক্ষ্যবস্তু শিশুরা: জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিনিয়োগ, কৌশলগত অংশীদারত্ব ও রাজনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খোলার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশ রপ্তানির সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অগ্রযাত্রা পলাশীর ইতিহাস বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করার ইতিহাস দুর্যোগকবলিত উপকূল সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক স্থগিত

ইরানের ইউরেনিয়াম নিয়ে ‘টানাটানি’ ট্রাম্প-পুতিনের, কোন দিকে যাবে তেহরান?

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৪০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬ ১৮৬ বার পড়া হয়েছে

ইরানের ইউরেনিয়াম নিয়ে ‘টানাটানি’ ট্রাম্প-পুতিনের, কোন দিকে যাবে তেহরান?

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করে আসছে, ইরানের হাতে বর্তমানে শত শত কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। এই ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ। এই ইউরেনিয়াম আর কিছুটা সমৃদ্ধ করে বোমা তৈরি করার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

এই মজুতই এখন ইরানকে ‘পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি অবস্থানে’ রেখেছে বলে ধারণা অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকের। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি ও সমাঝোতার যে আলোচনার তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে- তার মূলে রয়েছে ‘উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম’।

যেকোনো চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে হবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, তারা ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিজেদের কাছে স্থানান্তর ও সংরক্ষণ করতে প্রস্তুত।

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে দুই পরাশক্তির এই টানাটানি নিয়ে অবশ্য এখনো প্রকাশ্য কোনো অবস্থান জানায়নি। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর নিয়ে ইরানের বড় ধরনের দ্বিধা রয়েছে। দেশটির কট্টরপন্থীরা মনে করে, ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো মানেই আত্মসমর্পণ। আবার বাস্তববাদীরা মনে করে, অর্থনীতি বাঁচাতে এবং যুদ্ধ এড়াতে একটি সমঝোতা প্রয়োজন।

কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, ইরান কখনোই ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে চাইবে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্রকেই তারা প্রধান প্রতিপক্ষ মনে করে। ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতির ওপরও তেহরানের আস্থা নেই। অন্যদিকে রাশিয়ায় ইউরেনিয়াম পাঠানোর বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে তুলনামূলক সহজ হতে পারে।

তবে সেক্ষেত্রেও ঝুঁকি দেখছে ইরান। ইরানের আশঙ্কা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইস্যুতে মস্কো শেষ পর্যন্ত নিজেদের স্বার্থ দেখতে পারে। দরকার হলে রাশিয়াও ইরানের ইউরেনিয়ামের বিষয়টি পশ্চিমাদের সঙ্গে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সীমিত সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছিল। আলোচনায় ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে কাজ চলছিল। সেখানে ইউরেনিয়াম বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নটি ছিল সবচেয়ে বড় বাধা। ইরান কয়েক বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করতে পারে—এমন ইঙ্গিত ছিল। তবে মজুত ইউরেনিয়াম কোথায় যাবে, সেটিই এখন সবচেয়ে জটিল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন প্রকাশ্যে কঠোর ভাষাও ব্যবহার করছে। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে আবার সামরিক হামলা হতে পারে। ফলে ইরানের সামনে এখন মূলত তিনটি পথ খোলা, ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠিয়ে সীমিত সমঝোতায় যাওয়া, আংশিক সমঝোতার মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করা এবং কোনো ছাড় না দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ঝুঁকি নেওয়া।

তথ্যসূত্র : রয়টার্স।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ইরানের ইউরেনিয়াম নিয়ে ‘টানাটানি’ ট্রাম্প-পুতিনের, কোন দিকে যাবে তেহরান?

আপডেট সময় : ০৬:৪০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করে আসছে, ইরানের হাতে বর্তমানে শত শত কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। এই ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ। এই ইউরেনিয়াম আর কিছুটা সমৃদ্ধ করে বোমা তৈরি করার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

এই মজুতই এখন ইরানকে ‘পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি অবস্থানে’ রেখেছে বলে ধারণা অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকের। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি ও সমাঝোতার যে আলোচনার তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে- তার মূলে রয়েছে ‘উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম’।

যেকোনো চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে হবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, তারা ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিজেদের কাছে স্থানান্তর ও সংরক্ষণ করতে প্রস্তুত।

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে দুই পরাশক্তির এই টানাটানি নিয়ে অবশ্য এখনো প্রকাশ্য কোনো অবস্থান জানায়নি। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর নিয়ে ইরানের বড় ধরনের দ্বিধা রয়েছে। দেশটির কট্টরপন্থীরা মনে করে, ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো মানেই আত্মসমর্পণ। আবার বাস্তববাদীরা মনে করে, অর্থনীতি বাঁচাতে এবং যুদ্ধ এড়াতে একটি সমঝোতা প্রয়োজন।

কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, ইরান কখনোই ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে চাইবে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্রকেই তারা প্রধান প্রতিপক্ষ মনে করে। ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতির ওপরও তেহরানের আস্থা নেই। অন্যদিকে রাশিয়ায় ইউরেনিয়াম পাঠানোর বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে তুলনামূলক সহজ হতে পারে।

তবে সেক্ষেত্রেও ঝুঁকি দেখছে ইরান। ইরানের আশঙ্কা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইস্যুতে মস্কো শেষ পর্যন্ত নিজেদের স্বার্থ দেখতে পারে। দরকার হলে রাশিয়াও ইরানের ইউরেনিয়ামের বিষয়টি পশ্চিমাদের সঙ্গে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সীমিত সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছিল। আলোচনায় ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে কাজ চলছিল। সেখানে ইউরেনিয়াম বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নটি ছিল সবচেয়ে বড় বাধা। ইরান কয়েক বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করতে পারে—এমন ইঙ্গিত ছিল। তবে মজুত ইউরেনিয়াম কোথায় যাবে, সেটিই এখন সবচেয়ে জটিল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন প্রকাশ্যে কঠোর ভাষাও ব্যবহার করছে। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে আবার সামরিক হামলা হতে পারে। ফলে ইরানের সামনে এখন মূলত তিনটি পথ খোলা, ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠিয়ে সীমিত সমঝোতায় যাওয়া, আংশিক সমঝোতার মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করা এবং কোনো ছাড় না দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ঝুঁকি নেওয়া।

তথ্যসূত্র : রয়টার্স।