দেশে শান্তি ও গণতন্ত্র রক্ষায় মানবিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ১২:৪৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
দেশের শান্তি, গণতন্ত্র ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের আরও মানবিক, পেশাদার ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ পুলিশ শুধু দেশের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও সাহসিকতা, দক্ষতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের সাফল্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।
রোববার (১০ মে) সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস-এ আয়োজিত পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সপ্তাহের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন এবং বাহিনীর সদস্যদের দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারী পুলিশ সদস্যদের অবদানও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, “শুধু বিদেশের মাটিতেই নয়, দেশের জনগণের সঙ্গেও পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশিত। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমেই একটি আধুনিক ও গণমুখী পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা সম্ভব।”
স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে এখানকার ঘুমন্ত পুলিশ সদস্যদের ওপর বর্বর হামলা চালায় এবং শত শত পুলিশ সদস্য শহিদ হন। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সব পুলিশ সদস্যকে স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শুধু স্মরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। যেসব শহিদ পুলিশ সদস্য দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন, সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব।”
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী শক্তি পুলিশ বাহিনীকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। স্বাধীনতার প্রথম প্রহরে পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে নতুন শপথে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বর্ণিল প্যারেড উপভোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আয়োজন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, আত্মমর্যাদা, দায়িত্ববোধ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতীক।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে বর্তমান সরকারের মাধ্যমে। বহু বছর ধরে নির্যাতিত, নিপীড়িত ও অধিকারবঞ্চিত মানুষ এখন শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। আর সেই প্রত্যাশা পূরণে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমেই পুলিশ বাহিনী আরও শক্তিশালী ও মর্যাদাবান হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



















