কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত, উদ্বেগ
- আপডেট সময় : ০২:২৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা নতুন করে সীমান্ত হত্যা ইস্যুতে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন মোরছালিন (২২) ও নবীর হোসেন (৪০)।
নিহত মোরছালিন গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগরের বাতেনবাড়ি গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় শাহআলম ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অপর নিহত নবীর হোসেনের বাড়ি উপজেলার মধুপুর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের দাবি, ঘটনার পর দুইজনের মরদেহ ভারতের আগরতলার জিবি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় আরও কয়েকজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের কুমিল্লায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতে কয়েকজন চোরাকারবারী মোরছালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে নবীর হোসেনসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই মোরছালিন নিহত হন। পরে আহত অবস্থায় ভারতে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবীর হোসেন মারা যান।
নবীর হোসেনের ছেলে মো. তপন জানান, তার বাবা সন্ধ্যার পর থেকে বাড়িতে ছিলেন না। পরে সীমান্তে গুলির ঘটনার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।
এ বিষয়ে সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন-৬০ বিজিবি-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি ও ভারতীয় চোরাকারবারী সীমান্তের ভেতরে প্রবেশ করলে বিএসএফ বাধা দেয়।
এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বিএসএফ গুলি চালায়। এতে একজন ঘটনাস্থলে নিহত হন এবং আরেকজন পরে হাসপাতালে মারা যান।
তিনি আরও জানান, নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সীমান্তে প্রাণহানির এ ঘটনা আবারও দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও মানবাধিকার ইস্যুকে সামনে নিয়ে এসেছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, সীমান্তে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং দ্বিপক্ষীয় আস্থাভিত্তিক সমন্বয় জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।


















