ঢাকা ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেইজিং থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুমের শিকার পরিবারের ভাতা বরাদ্দ এই বাজেটেই প্রতিশ্রুতি মির্জা ফখরুলের হামে মৃত্যু ৭০০ ছাড়াল, বাড়ছে উদ্বেগ তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস চীনের: মাহদী আমিন বাংলা কিউআর চালু হলে বদলে যাবে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প ধ্বংসস্তূপে চাপা শত শত প্রাণ, উদ্ধার ২৩৫ মরদেহ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক তিয়েনআনমেন চীনের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর চীনের সঙ্গে গভীরতর শিল্প অংশীদারত্বে আগ্রহী বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ খুন: সামনে এলো ভয়ংকর নেপথ্য কাহিনি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৫০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ খুন: সামনে এলো ভয়ংকর নেপথ্য কাহিনি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাত  এবং  স্ত্রীর পরকীয়ার  অভিযোগ  করেছিলেন ফোরকান

 গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক প্রবাসীর বাড়িতে একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহ, স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ এবং ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন পরিবারের কর্তা ফোরকান মিয়া।

শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। শনিবার সকালে ঘর থেকে ফোরকানের স্ত্রী, তিন শিশু সন্তান ও এক শ্যালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতদের মধ্যে রয়েছে, ফোরকানের স্ত্রী, দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী তিন সন্তান এবং তার এক শ্যালক। ঘটনাস্থলের বিভৎসতা দেখে হতবাক হয়ে পড়েন স্থানীয়রা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

পুলিশ জানায়, ফোরকানের স্ত্রীকে জানালার সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল তিন শিশুর রক্তাক্ত মরদেহ। অন্যদিকে খাটের ওপর পাওয়া যায় ফোরকানের শ্যালকের গলাকাটা লাশ। পুরো ঘরে ছড়িয়ে ছিল রক্তের দাগ।

ঘটনাস্থল তল্লাশি করে পুলিশ মাদক সেবনের বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করেছে। এছাড়া ঘরে রান্না করা সেমাই, কোকাকোলা ও একটি মদের বোতল পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক কিছু মেশানো হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হলো, মরদেহগুলোর পাশে পাওয়া যায় কয়েকটি প্রিন্ট করা কাগজ। পরে সেগুলো পরীক্ষা করে পুলিশ জানতে পারে, ফোরকান এর আগে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন যে তার স্ত্রী ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। একই অভিযোগপত্রে স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছিল।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, মরদেহের পাশে পাওয়া অভিযোগের কপিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলামত। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফোরকান তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়গুলো মেনে নিতে পারেননি। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফোরকান ও তার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। শুক্রবার রাতেও পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিকভাবে দেখা গেছে। তবে গভীর রাতে কী ঘটেছে, তা নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান পালিয়ে গেছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে নেমেছে।

এদিকে ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাড়িটির সামনে উৎসুক মানুষের ভিড় এড়াতে সাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

একই পরিবারের পাঁচজনকে এভাবে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গাজীপুরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন পারিবারিক বিরোধ কতটা ভয়াবহ হলে একজন বাবা নিজের সন্তানদেরও এমন নির্মমভাবে হত্যা করতে পারেন!

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ খুন: সামনে এলো ভয়ংকর নেপথ্য কাহিনি

আপডেট সময় : ০১:৫০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাত  এবং  স্ত্রীর পরকীয়ার  অভিযোগ  করেছিলেন ফোরকান

 গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক প্রবাসীর বাড়িতে একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহ, স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ এবং ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন পরিবারের কর্তা ফোরকান মিয়া।

শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। শনিবার সকালে ঘর থেকে ফোরকানের স্ত্রী, তিন শিশু সন্তান ও এক শ্যালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতদের মধ্যে রয়েছে, ফোরকানের স্ত্রী, দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী তিন সন্তান এবং তার এক শ্যালক। ঘটনাস্থলের বিভৎসতা দেখে হতবাক হয়ে পড়েন স্থানীয়রা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

পুলিশ জানায়, ফোরকানের স্ত্রীকে জানালার সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল তিন শিশুর রক্তাক্ত মরদেহ। অন্যদিকে খাটের ওপর পাওয়া যায় ফোরকানের শ্যালকের গলাকাটা লাশ। পুরো ঘরে ছড়িয়ে ছিল রক্তের দাগ।

ঘটনাস্থল তল্লাশি করে পুলিশ মাদক সেবনের বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করেছে। এছাড়া ঘরে রান্না করা সেমাই, কোকাকোলা ও একটি মদের বোতল পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক কিছু মেশানো হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হলো, মরদেহগুলোর পাশে পাওয়া যায় কয়েকটি প্রিন্ট করা কাগজ। পরে সেগুলো পরীক্ষা করে পুলিশ জানতে পারে, ফোরকান এর আগে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন যে তার স্ত্রী ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। একই অভিযোগপত্রে স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছিল।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, মরদেহের পাশে পাওয়া অভিযোগের কপিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলামত। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফোরকান তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়গুলো মেনে নিতে পারেননি। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফোরকান ও তার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। শুক্রবার রাতেও পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিকভাবে দেখা গেছে। তবে গভীর রাতে কী ঘটেছে, তা নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান পালিয়ে গেছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে নেমেছে।

এদিকে ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাড়িটির সামনে উৎসুক মানুষের ভিড় এড়াতে সাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

একই পরিবারের পাঁচজনকে এভাবে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গাজীপুরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন পারিবারিক বিরোধ কতটা ভয়াবহ হলে একজন বাবা নিজের সন্তানদেরও এমন নির্মমভাবে হত্যা করতে পারেন!